ওসমান পরিবারের সদস্যদের নামে নেতিবাচক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাব্বির বিরুদ্ধে জিডি ॥ মূলকপি দাখিলের নির্দেশ

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
ওসমান পরিবারের সদস্যদের নামে রাস্তা ও ব্রীজের নামকরণের পর রফিউর রাব্বি নেতিবাচক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার দায়ের করা জিডির মূলকপি দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সদর থানায় করা সাধারণ ডাইরীর (জিডি) কোন আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রেক্ষিতে খোকন সাহা আদালতের স্মরণাপন্ন হলে গতকাল রোববার (১৮ জুলাই) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. কাউসার আলম এ আদেশ দেন। ৭ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে জিডির মূল কপি আদালতে দাখিল করার জন্য সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে ওই নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এড. খোকন সাহার পক্ষে আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করেছেন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. হাসান ফেরদোস জুয়েল। এছাড়াও মামলাটি পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. মো. মহসিন মিয়া, এড. বিদ্যুত কুমার সাহা, এড. মাহবুব হোসেনসহ অর্ধ শতাধিক আইনজীবী।
সিআরপিসি ১৮৯৮ এর ১৫৫ (১) ধারা অনুযায়ী, থানায় কোন আমলযোগ্য অপরাধের ডাইরী দায়ের হলে থানার অফিসার ইনচার্জ সংবাদদাতাকে সত্ত্বর সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পাঠাবেন এবং তদন্ত বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার নিয়ম রয়েছে। অথচ, বাদী দীর্ঘদিন আগে থানায় জিডি দায়ের করলেও থানা থেকে জিডি সংক্রান্ত কোন তথ্য পায়নি আদালত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে ৩টি আলাদা স্মারকে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. গোলাম জিলানী প্রজ্ঞাপন জারী করেন। সেখানে চাষাড়া-খানপুর-গোদনাইল-আদমজী ইপিজেড সড়ককে (আর ১১৫) ভাষা সৈনিক “বেগম নাগিনা জোহা সড়ক” , সাইন বোর্ড চেইনেজ আঞ্চলিক মহা সড়কটি স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত (মরনোত্তর) “ভাষা সৈনিক এ.কে.এম সামসুজ্জোহা সড়ক” ও নির্মাণাধীন ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুটির নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা ‘এ.কে.এম নাসিম ওসমান সেতু’ নামে সরকার নামকরণ করা হয়।
সদর মডেল থানায় গত ১৫ জুনের দায়ের করা সাধারণ ডাইরীতে (নারায়ণগঞ্জ থানার জি.ডি খ্রিঃ-৬৪৬) এড. খোকন সাহা উল্লেখ করেন, ৮ জুন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বী বক্তব্যে বলেন, ‘সরকারের কতিপয় মন্ত্রী ও আমলারা টাকা খেয়ে এই নারায়ণগঞ্জের রাস্তা ও বিভিন্ন স্থাপনা বিভিন্ন জনের নামে নামকরণ করেছে। আমরা এ মন্ত্রী, আমলাদের প্রশ্ন করতে চাই যে, দয়া করে আপনারা আমাদের জানান যাদের নামে নামকরণ করলেন, তাদের এই নারায়ণগঞ্জ বা দেশে অবদানটা কি? লাশ ফেলা, খুন খারাবী এই গুলি যোগ্যতার মধ্যে পরে কি না এতটুকু জানান।’ ৯ জুন তার এই বক্তব্য বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার শিরোনাম হয়। বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি যাদের নামে রাস্তা ও সেতুর নামকরণ করেছেন ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে আদেশ দিয়েছেন।’
জিডিতে তার দাবী, ‘বিবাদী রফিউর রাব্বী ইচ্ছাকৃতভাবে অপকর্ম করে রাষ্ট্র, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীদের ইচ্ছাকৃত ভাবে অবজ্ঞা করিয়া রাষ্ট্রদ্রোহিতার কাজ করছেন। ইতিপূর্বে ৬-৭ বৎসর যাবৎ বাংলাদেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন সময় অশালীন মন্তব্য করেছেন যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল।’
এ ব্যাপারে এড. খোকন সাহা বলেন, ‘বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২টি সড়ক ও ১টি সেতু নারায়ণগঞ্জের ৩ ব্যক্তির নামে নাম করণ হয়েছে। কিন্তু রফিউর রাব্বী গত ৮ জুন একটা অপব্যাখ্যা দিয়েছে। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় আমি একটি জিডি করে ছিলাম। কিন্তু কোন ফলাফল না পাওয়াতে আদালতের দারস্ত হই। পরে আদালত ডিজি কপিটি তদন্ত করার আগামী ২৬ জুলাই জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’
তবে, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজামান বলেন, এখনও আদালতের আদেশ হাতে পাইনি। হাতে পেলে আদেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *