মানবাধিকারের দৃষ্টান্তে আশরাফ উদ্দিনকে আব্দুল্লাহ আল মামুনের অভিনন্দন

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:  মানবাধিকার লঙ্ঘন কিংবা অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যাওয়ার প্রাক্কালে তাৎক্ষনিক উপস্থিত বুদ্ধি খাঁটিয়ে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে মুঠোফোনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘটনার বিবরণ অবহিত করা, এবং অভিযুক্ত ব্যাক্তিকে তাদের হাতে সোপর্দ করে যে বুদ্ধিমত্তা ও দায়িত্বের পরিচয় দিয়েছেন, সেজন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন “ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অফ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন” এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ঢাকা জেলা কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. আশরাফ উদ্দিনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গত ১২ জুলাই নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ৬ বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ইব্রাহীম নামে এক যুবককে স্থানীয় বিক্ষিপ্ত জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ইব্রাহীমকে আইনের হাতে তুলে দেয়ায় উক্ত মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে মো. আশরাফ উদ্দিনকে এ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সংগঠনের আরেক মানবাধিকার কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্বাধীনতা ও সাম্য মানুষের চিরন্তন চাওয়া। স্বাধীনতার কোন সীমা নেই, কিন্তু সীমাহীন স্বাধীনতা প্রদান করা রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব হয় না। মানুষের শান্তীপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল জীবন-যাপন নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের আইন প্রণয়ন করে থাকে। তেমনি ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়েও সুনির্দিষ্ট আইন প্রচলিত রয়েছে। আইন রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত ও বাস্তবায়িত হলেও নাগরিকদেরও কর্তব্য রয়েছে। প্রত্যেক নাগরিকের বিবেক আইনের মতো কাজ করে। তাই নাগরিকগণ যদি বিদ্যমান আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নিজের বিবেক বুদ্ধি দিয়ে কাজ করে তবেই কেবল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
তিনি বলেন, আইনকে নিজের হাতে তুলে নেয়া বিষয়ে নিকট অতীতে আমরা গভীর উদ্বেগের সহিত বিভিন্ন ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছি, ছেলেধরাসহ বিভিন্ন ঘটনা কিংবা গুজবের স্বীকার হয়ে অনেক তাজা প্রাণ বিক্ষিপ্ত জনতার হাতে নিমিষেই নিঃশেষ হতে দেখেছি। খুব বেশী দূরে যেতে হবে না, রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় বিক্ষিপ্ত জনতার গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যার ঘটনার কথা মনে আছে সকলের নিশ্চয়ই। ঘটনার দিন রেনু গিয়েছিলেন সেখানকার একটি স্কুলে চার বছরের মেয়েকে ভর্তি করানো বিষয়ে খোঁজ নিতে। ফিরলেন গণপিটুনিতে লাশ হয়ে। কেন! কি হয়েছিল? ‘ঐ যে, বিবেক আইনের মতো কাজ করলেও আমাদের বিবেকই কাজ করেনি তখন।’
ঘটনা-দুর্ঘটনা যাই হোক, আইন নিজের হতে তুলে নেয়া যাবে না। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে। সিদ্ধিরগঞ্জে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় মো. আশরাফ উদ্দিন এ কাজটিই করেছেন। এতে করে একদিকে তিনি নিজের সংগঠনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। অন্যদিকে ঘটনার ভিকটিম ও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনছেন। এখন আইন পাবে তার নিজস্ব গতি, এবং ভিকটিম শিশুটি ও অভিযুক্ত ইব্রহীম পাবে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনসিদ্ধ বিচার। বিচারের নিত্তিতে যার যার অধিকার। আর এভাবেই প্রতিষ্ঠা পাবে মানবাধিকার।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *