নবাবগঞ্জে যুবলীগ নেতা সোহরাবকে রাম-দা দিয়ে কুপিয়েছে দূর্বৃত্তরা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিশেষ প্রতিনিধি:  ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানাধীন কান্দা খানেপুরের মৃত: শেখ মইজ উদ্দিনের ছেলে যুবলীগ নেতা মো. সোহরাব হোসেনকে (৫৫) হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়িভাবে কিল, ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মেরে, রড ও হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে এবং রাম-দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। সোহরাব হোসেন নয়ন শ্রী ইউনিয়ন যুবলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে ভিকটিম সোহরাব হোসেনের স্ত্রী শাহিদা আক্তার (৪০) বাদী হয়ে ১৫ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে নবাবগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০৯, তারিখ: ১৫/০৭/২০২১ খ্রিঃ। ধারা: ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড, বলে জানা যায়। মামলার এযাহারভুক্ত আসামীরা হলেন: ১. আঃ ছাত্তার (৪৫) পিতা- আজিজুল ওরফে আজি বেপারী। ২. আজিজুল ওরফে আজি বেপারী (৭০) পিতা- অজ্ঞাত। ৩. মো. আইনুদ্দিন (৫০) পিতা- মৃত: বোরহান বেপারী। ৪. মো. রবিউল (২২) পিতা- মো. ছত্তার। ৫. মো. নাহিদ (২০) পিতা- অজ্ঞাত। সর্ব সাং- কান্দা খানেপুর, থানা- নবাবগঞ্জ, জেলা- ঢাকাসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন।
বাদীর সাথে কথা বলে এবং মামলা সূত্রে জানা যায় যে, ঘটনার আগের দিন গত ১৩ জুলাই মঙ্গলবার রাত অনুমান ৮’টার দিকে নবাবগঞ্জ থানাধীন খানেপুর বাজারে বাদীর স্বামী সোহরাব হোসেনের সাথে পূর্ব শক্রতার জের ধরে বিবাদীদের কথা কাটাকাটি ও এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এই ঘটনার জের ধরে পরদিন বুধবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ৭’টার দিকে ভিকটিম সোহরাব হোসেন মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাসায় আসার সময় খানেপুর সাকিনস্থ জনৈক যাদব সরকারের মুদি দোকানের সামনে পাকা রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছামাত্র পূর্ব হতে ওঁৎ পেতে থাকা বিবাদীগণ সোহরাব হোসেনের পথ রোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
এ সময় সোহরাব হোসেন প্রতিবাদ করলে মামলার এযাহারভুক্ত ১ নং আসামী ছাত্তারের হুকুমে অন্যান্য আসামীগণ সোহরাব হোসেনকে এলোপাতরি কিল, ঘুষি ও চড়-থাপ্পর মেরে তাঁর হাতে, বুকে ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদনাদায়ক নীলাফুলা জখম করে। ৪ নং আসামী রবিউল তার হাতে থাকা ধারালো রাম-দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে সোহরাব হোসেনের মাথা লক্ষ্য করে কোপ মারলে তার মুখের থুতনীর মাঝখানে কোপ লেগে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। ৫ নং আসামী নাহিদ তার হাতে থাকা লোহার হাতুড়ি দিয়া আঘাত করলে ভিকটিমের নাক ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। এবং ৩ নং আসামী আইনুদ্দিন লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে সোহরাব হোসেনের মাথাসহ বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ফুলা জখম করে দেয়। এক পর্যায়ে আইনুদ্দিন ভিকটিমের পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকাও নিয়া যায়। এ অবস্থায় ভিকটিম সোহরাব হোসেনের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসলে আসামীগণ সোহরাব হোসেনকে খুন জখমসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
এ সময় সোহরাব হোসেনকে মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় খানেপুরের মো. মান্নান (৬০) ও মো. মনসের বেপারীর ছেলে মো. সুজনসহ আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে নিয়া যায়। বর্তমানে সোহরাব হোসেন উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত অফিসার তানভির শেখের সাথে এই প্রতিবেদকের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে এবং আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *