গোদনাইল মেঘনা ডিপো সংলগ্ন সিরাজ মন্ডলের আলীসান বাড়ীর নিচে দাহ্যপদার্থের গোডাউনে আতংকিত এলাকাবাসী ## দাহ্যপদার্থ মজুত থাকায় রুপগঞ্জে আগুন ভয়াবহ রুপ নেয় বলে জানান ফায়ার সার্ভিস

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা কর্ণগোপ এলাকায় সেজান সুজের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৫২জন শ্রমিক পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়। শ্রমিকরা এমনভাবে পুড়ে যায় দেখে চিনার উপায় নেই কোনটি কার লাশ। ভয়াবহ অগ্নিকান্ড নিভাতে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট কর্মীদের দীর্ঘ ২২ ঘন্টা সময় লাগে। ২২ ঘন্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে নিলেও ভুস্মিভূত স্তুপ থেকে এখনো ধোয়া বেরোচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানায়। কি কারনে এতো ভয়াবহ অগ্নিকান্ড তা খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায়, সেজান জুসের কারখানার ভেতরে বিভিন্ন রাসায়নিকসহ দাহ্যপদার্থ মজুত থাকায় আগুন ভয়াবহ রুপ নেয় যা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কারখানাটির ভেতরে বিভিন্ন রাসায়নিকসহ দাহ্যপদার্থ মজুত থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ সময় লাগছে। তাদের আগুন নিভাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।
এদিকে রুপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটনার পর থেকে আতংকে দিন কাটাচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল মেঘনা ডিপো সংলগ্ন সাবেক বিতর্কিত কাউন্সিলর পুলিশ কনস্টেবল মফিজ হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের আলীসান নতুন বাড়ীর আশপাশের এলাকাবাসী। কারন হিসাবে তারা জানায়, সিরাজ মন্ডলের আলীসান বাড়ীর নীচ তলায় দাহ্যপদার্থের গোডাউন। অর্থাৎ নতুন বাড়ির নীচ তলায় দাহ্যপদার্থ জ্বালানী তেল মজুদের জন্য বিশাল গোডাউন করেছেন। ডিপো থেকে দাহ্যপদার্থ অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল বাহির করে তা বাড়ির গোডাউনে নিয়ে পল্টি মেরে অর্থাৎ মিক্স করে। মজুদ করা এই জ্বালানী তেল এতোই ভয়ংকর যে সামান্য অসর্তকতার কারনে ঘটতে পারে রুপগঞ্জের সেজান জুস কারখানা থেকেও ভয়াবহ পরিনতি। আর এ কারনেই সিরাজ মন্ডলের বাড়ীর আশপাশের এলাকাবাসী আতংকে দিন কাটায় বলে অভিযোগ করেন। গত কয়েক মাস আগে এসও এলাকার মেঘনা ডিপোর ২০ গজের মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একটি তেলের গোডাউনে আগুন লেগে পাশের তিনটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন প্রাণ হারায়। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে পাশাপাশি অবস্থানে থাকা মেঘনা ডিপো। জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিপোর ১ কিলোমিটারের ভিতরে কোন তেলের স্থাপনা/মজুদ কারখানা থাকতে পারবে না। কিন্তু সরকারের এই সকল নিয়ম অমান্য করে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা মেঘনা ডিপো ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে। যাদের কোন অনুমতি নেই, বৈধ কাগজপত্র নেই। নেই বিস্ফোরকের বৈধ লাইসেন্স। ১কি: মি: ভিতরে অবৈধভাবে তেলের গোডাউন তৈরীর ফলে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। আর তাই সিরাজ মন্ডলের বাড়ির নিচে জ্বালানী তেল মজুদ গোডাউন থাকায় এলাকার মানুষজন বড়ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে। সামান্য অসর্তকতায় রুপগঞ্জের সেজান জুস কারখানার মতো ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৬নং ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ন এলাকা ও মানবজন ক্ষতি হতে পারে এমনটি আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। কোন দূর্ঘটনা ঘটলে রুপগঞ্জের চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা সৃস্টি হতে পারে। এই বিষয়ে সতর্কতামুলক একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করার পরও প্রশাসন থেকে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছেনা। রুপগঞ্জের মতো কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে এলাকাবাসী জানায়। তাই এলাকাবাসী দূর্ঘটনার পূর্বেই নারায়ণগঞ্জ এর সুযোগ্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *