ব্যবসায়ীক অংশীদারিত্বের পাওনা টাকা চাওয়ায় কাউন্সিলর রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ করলো ফেন্সী ইমরান

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
যৌথভাবে ডিস ব্যবসা করে অংশীদারদের পাওনা টাকা চাওয়ায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা চাঁদা দাবির অভিযোগ দায়ের করেছেন ডিস ব্যবসায়ী এমরান হোসেন। এমনাই দাবি করেছেন ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা। তিনি জানান, এনায়েতনগর এলাকার বাসিন্দা ও ডিস ব্যবসায়ী এমরান হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় শনিবার দুপুরে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হয়েছে। মূলত ব্যবসায়ীক পাওনা টাকা চাওয়াতেই আমার নামে এই মিথ্যা অভিযোগ করেছে এমরান হোসেন।অংশীদাররা জানায়, হাবীব মোল্লা, এইচ এম মাহবুব আলম, কাজী অহিদ আলম এবং পুষণ সহ আওয়ামীলীগ, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীদের সাথে ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে ব্যবসায়ীক লিখিত চুক্তি মোতাবেক যৌথভাবে ডিস ব্যবসা শুরু করে মোঃ এমরান হোসেন। সেই সময় এমরানের অনুরোধেই কাউন্সিলর রুহুল আমিনের পক্ষে সাইফুল ইসলামের নামে চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী ব্যবসায় লভ্যাংশের ৬০ ভাগ পাবে এমরান হোসেন এবং বাকি ৪০ ভাগ পাবে অন্যান্য অংশীদাররা। চুক্তি সম্পাদনের পর থেকেই অংশীদারদের কোন মাসেই ব্যবসায়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতোনা। লামছাম একটা লভ্যাংশ অংশীদারদের প্রদান করতো এমরান। তার কাছে অংশীদাররা বারবার হিসাব চাইলেও এমরান টালবাহানা করতো। এদিকে কাউন্সিলর রুহুল আমিন জানান, এমরান হোসেন নিজে যৌথ মালিকানা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তার অংশীদারিত্বের মালিকানা এবং ট্রেড লাইসেন্স ছিল এমরানের ছোট ভাই মোঃ আমজাদ হোসেনের নামে। এমরানের প্রতারণার এ বিষয়টি জানাজানি হলে অন্য অংশীদাররা ব্যবসায়ীক চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে এমরান তার একান্ত কাছের ব্যক্তি হাবিব মোল্লাকে নিয়ে কাউন্সিলর রুহুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা চায় এবং ভবিষ্যতে কোন প্রতারণায় জড়াবেনা বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু তারপরও এমরান দীর্ঘদিন ব্যবসায়ের হিসাব নিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। উপরুন্তু বিগত কয়েক মাস যাবৎ এমরান হোসেন অংশীদারদের কোন লভ্যাংশ প্রদান করছেনা এবং ব্যবসায়ীক কোন হিসাবও দিচ্ছেনা। যেহেতু এ ব্যবসার অংশীদার স্থানীয় আওয়ালীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা, তারা দীর্ঘদিন লভ্যাংশের টাকা না পেয়ে বিষয়টি আমাকে অবহিত করে। পরে আমি এমরানকে ব্যবসায়িক টাকা চেয়ে ফোন করি। তবে সে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং আমার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দেয়। কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা আরো বলেন, ডিশ ব্যবসায়ী এমরান একজন দুষ্ট প্রকৃতির লোক। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে নানাভাবে প্রতারণা করে আসছে এমরান। জমি কেনা বেচার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাঁিতয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে এমরানের বিরুদ্ধে। এমরান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে প্রতি রাতে ওই কর্মকর্তাদের সাথে তার ব্যবসায়ীক অফিসে আড্ডা জমান। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এমরান ওই এলাকার অনেক সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও কিছুদিন আগে তার ডিশের অফিসকে সাংবাদিক অফিস বলে মিথ্যা ভাঙচুরের নাটক সাজায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা তার ঐ অফিসটিতে ডিশ ব্যবসার (কাজী ক্যাবল নেটওয়ার্ক) সাইনবোর্ড লাগানো। সেখানে সাংবাদিক অফিসের সাইনবোর্ড বা চিহ্নও ছিলনা। অনেক নিরীহ মানুষ তার হয়রাণীর শিকার। অভিযোগ আছে, এক সময় তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাবু নামে এক যুবক ব্যবসার জন্য টাকা প্রদান করলেও সেই টাকা ফেরত দেয়নি এমরান। এ বিষয়ে জানতে ডিশ ব্যবসায়ী এমরান হোসেনের সাথে একাধীকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, ডিশ ব্যবসায়ী এমরান একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি আমরা যাচাই করে দেখছি।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *