সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলেকে না পেয়ে মাকে ১০ঘন্টা থানায় আটক ## মুক্ত হয়ে দারোগার ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে মা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ছেলে মানিক (২২) কে না পেয়ে থানায় ডেকে নিয়ে অভিযুক্তের মা শিরিনাকে ১০ ঘন্টা আটক করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শর্ত দেয়া হয় ছেলে মানিককে পুলিশের হাতে তুলে দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে। বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীরা জানতে পারলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এস আই) নূর আলমকে অসংখবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি। এক পর্যায়ে সাদা কাগজে ২ জন জিম্মাদারের স্বাক্ষর রেখে ঐ নারীকে (গোপন সূত্রে জানা যায় ১০ হাজার টাকার বিনিময়) ছেড়ে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫’জুলাই।
এ দিকে অভিযুক্তকে না পেয়ে মাকে আটক করে রাখার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। অপর দিকে থানা থেকে বের হওয়ার পর উপ-পরিদর্শক (এস আই) নূর আলমের ভয়ে ঘরছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শিরিনা আক্তার। এ ঘটনাটি জানাজানি হলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন পলাতক ছেলের সাথে যদি মায়ের যোগাযোগ থাকে তাহলে তার একমাত্র মাধ্যম মোবাইল। পুলিশ মোবাইল কললিষ্ট এর সূত্রধরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মামলান অভিযুক্ত মানিকের অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে কেনো গ্রেফতার না করে মাকে ১০ ঘন্টা থানায় আটক করে রাখে মাকে। এর নেপথ্যে অন্য কোনো চক্র বা উদ্দেশ্য রয়েছে।
জানা গেছে, একটি শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে ঐ শিশুর মা তানিয়া (২৫), মানিক (২২)কে অভিযুক্ত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ ঘটনার পর থেকে মানিক পলাতক রয়েছে। তবে মামলায় ধর্ষণ চেষ্টার যে ঘটনাস্থল পাইনাদী এলাকার জিয়ার রিক্সার গ্যারেজ দেখানো হয়েছে। সে গ্যারেজের কেউ এ বিষয়টি জানেন না। মামলায় উল্লেখ করা হয় গত ৪ মে বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।
এরপর থেকে পুলিশ মানিককে তাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য মা শিরিনাকে চাপ দিচ্ছে। এ পর্যায়ে তাকে থানায় ডেকে নিয়ে আটক করে রাখে। তাকে বলে ছেলেকে পুলিশের কাছে তুলে দিতে। যতক্ষন পর্যন্ত মানিক থানায় এসে ধরা না দেয় ততক্ষন পর্যন্ত থানায় আটক করে রাখা হবে। না হলে তাকেও মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হবে।
অভিযুক্ত মানিকের মা শিরিনা জানান, গত মে মাসে আমার ছেলে মানিককে ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় আসামী করে মামলা করে তানিয়া। এ ঘটনার বিষয়ে আমার কোন কিছু জানা নেই। মামলার পর আমার ছেলে মানিক বাসায় কাউকে কিছু না বলে পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত আমাদের কারো সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। আমি জানি না আমার ছেলে মানিক এখন কোথায় আছে।
এ দিকে মামলার পর থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) নূর আলম রাতের বেলায় বাসায় গিয়ে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। আমার ঘরে কোন পুরুষ মানুষ থাকেনা জেনেও মানিক বাসায় আছে এ কথা বলে ঘরের দরজা বন্ধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। আমি জোর পূর্বক দরজা খুলে ফেলি। এর পর থেকে উপ-পরিদর্শক (এস আই) নূর আলমের ভয়ে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি।
ঘটনাটি মিমাংসা করার জন্য মামলার বাদী তানিয়া দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। এবং এসআই নূর আলম মামলাটি শেষ করার জন্য কিছু টাকা পয়সা খরচ হবে বলে জানান। এ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় এসআই নূর আলমের গালিগালাজ ও হুমকির মাত্রা আরো বেড়ে যায়। আমি তাকে দেখলেই দৌড়ে পালিয়ে যাই।
এক পর্যায়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর আলম বাসায় গিয়ে বলে আসে থানায় বসে বাদীকে নিয়ে বিয়ষটি আপোষ মিমাংসা করে দেওয়া হবে। আমি এ কথা বিশ্বাস করে গত ৫’জুলাই সকাল ১১’টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় যাই। এর পর আমাকে নিয়ে ওসি তদন্তের রুমে আটক করে রেখে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়।
ওই সময় আমার সাথে থাকা আমার মেয়ে ও আমার এক আত্নীয়কে বের করে দিতে চাইলে আমি তাদেরকে জড়িয়ে ধরে রাখি। তাদেরকে বলি আমাকে ছেড়ে তোমরা কোথাও যাবে না। পরে পুলিশ তাদেরকে আমার সাথে বসিয়ে রাখে।
আমাকে এসআই নূর আলম বলে ওই মহিলা তুই খুব খারাপ। ছেলেকে লুকিয়ে রেখেছিস, তোর সাথে যোগাযোগ আছে। তুই সব জানিস। ওসি তদন্তের রুমে এ ভাবেই আমার সাথে দিনভর চলে অমানবিক আচরণ। আমি ডায়বেটিকস রোগী বলার পরও তাদের খারাপ আচরন থেকে মুক্তি পাইনি।
সারাদিন না খেয়ে থাকার কারনে আমার হাত পা কাঁপতে থাকে, বুক ধরপর করতে থাকলেও আমাকে কোন খাবার দেয়নি। হঠাৎ করে রাত সাড়ে ৯’টার পরে তারা আমার সাথে থাকা ২ জনসহ বাহিরে অপেক্ষমান আরো কয়েকজনের সাথে কথা বলে। পরে সাদা কাগজে ২’ জন জিম্মাদারের স্বাক্ষর রেখে তাদের কাছ থেকে কিছু খরচ পাতি (গোপন সূত্রে জানাযায় ১০’হাজার টাকার বিনিময়) নিয়ে ছেড়ে দেন।
এর পরেও আমাকে আবারো শর্ত দেন আগামী ২’দিনের মধ্যে মানিককে নিয়ে থানায় হাজির হতে। না হয় আমাকে আবার ধরে জেলখানায় পাঠাবে। থানা থেকে বাহির হওয়ার পর থেকে আমি এসআই নূর আলমের ভয়ে আর বাসায় ফিরিনি। আমি আমার ছেলেকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। এবং রাত হলেই পরিচিত জনদের বাসায় গিয়ে থাকি। আজ শুক্রবার (৯’জুলাই) এখন পর্যন্ত আমি আমার ছেলেকে খুজে পাইনি। এখন আমি কি করবো জানিনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নুর আলম জানান, শিরিনা নিজেই থানায় এসেছেন। ওসি তদন্ত স্যার ডেকেছেন। সঠিক নাম ঠিকানা জানার জন্য। আপনি ওই মহিলার সাথে খারাপ আচরণ করেছেন এবং এটুকু জিজ্ঞাবাদের জন্য ৯/১০’ঘন্টা থানায় আটক করে রখেছেন বললে তিনি বলেন ওইদিন আমি ডিউটিতে ছিলাম আমার কিছু জানা নেই ওসি তদন্ত স্যার সব জানেন। আমি কিছু বলতে পারবোনা আপনি স্যারের সাথে কথা বলেন। এরপরই তিনি ফোনটা কেটে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তাকে বলা হয় এসআই নুরআলম জানিয়েছেন আপনি শিরিনাকে ডেকে নিয়ে এসেছেন এর উত্তরে তিনি জানান, মামলার স্বার্থে মহিলাকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ১০’ঘন্টা আটক, দুইজন জিম্মাদারের স্বাক্ষর ও অনৈতিক সুবিধার বিষয়টি সঠিক নয়। মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এমন অভিযোগ।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *