একত্রে কাজ করতে পেরে গর্বিত

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
মেজর জেনারেল শাহীনুল হক বলেছেন, করোনা ভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) এর বিস্তার রোধকল্পে জেলা প্রশাসনের সাথে একত্রে কাজ করতে পেরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আনন্দিত ও গর্বিত। গত সোমবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে জেলার কোভিড ডেডিকেটেড নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ২৫টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে যেকোনো সহযোগিতা করতে সেনাবাহিনী প্রস্তুত বলেও জানান এই সেনা কর্মকর্তা। গতকাল সার্কিট হাউজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল শাহীনুল হক নারায়ণগঞ্জ জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক আলোচনা সভায় তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সকালে নারায়ণগঞ্জ সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ’র সভাপতিত্বে ওই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম সাজেদুল ইসলাম, লে. কর্ণেল মুহিব্বুল হাসান, লে. কর্ণেল মাহবুবুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, বিজিবি-৬২ নারায়ণগঞ্জর অধিনায়ক লে. কর্ণেল আল আমিন, র‌্যাব- ১১ এর অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল বাসার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী প্রমুখ। সভা শেষে তিনি নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়াসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো পরিদর্শন করেন। পরে নগরীর ইসদাইরে অবস্থিত ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকর করতে আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার বিধানের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তিনটি পেট্রোল টিম নারায়ণগঞ্জে মোতায়েন করা হয়েছে। একটি টিম নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় জেলা প্রশাসনের সাথে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। অপর দুটি টিমের একটি সোনারগাঁ ও বন্দর উপজেলায়, আরেকটি টিম রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকরে কাজ করছেন। সভার বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী।
জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ওই সভায় মেজর জেনারেল শাহীনুল হক (এনডিসি, এইচডিএমসি, পিএসসি, জিওসি ৯ম পদাতিক ও এরিয়া কমান্ডার, সাভার এরিয়া) আরো বলেন, আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার বিধানের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জেলা প্রশাসনের সাথে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। তারা সুপার ইম্পোজের আওতায় কাজ করতে চান। নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রাইম স্পট হিসেবে যে ১০টি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে তারা সেখানে ভিজিলেন্স থাকবেন। এসময় একই জায়গায় একাধিক বাহিনীকে দায়িত্ব প্রদান না করার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারী তথ্য মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা করোনা সংক্রমণ প্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় সরকার প্রদত্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনকল্পে উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ, সহকারী কমিশনার (ভূমি)গণ, বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক মোবাইল কোর্টসহ সার্বিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত জাতীয় তথ্য সেবা হেল্পলাইন ৩৩৩ মাধ্যমে ৪৫০০ জনকে মানবিক সহায়তা প্রদান। করা হয়েছে। মানবিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত আছে এবং সার্বিক কর্যক্রম মনিটরিং এর জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক খোলা রয়েছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *