সর্ব স্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত দেশে ফিরেই ব্যস্ত শামীম ওসমান #সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা গ্রহন করতে বলেছি: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
বেশ কয়েকদিন এমপি শামীম ওসমান ছিলেন দেশের বাইরে। আর এই সময় শুরু হয়েছে বৃস্টি। লক্ষ লক্ষ মানুষ হয়ে পড়েছে পানিবন্ধী। ডিএনডিবাসীর দুর্ভোগে পাশে থাকতে পারেননি এমপি শামীম ওসমান সেজন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। কিন্তু দেশে ফিরে আর বসে থাকতে পারেননি তিনি। এসেই তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পানিবন্ধী মানুষকে পানির অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্য। পানিবন্ধী মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যার ইতি টানতে প্রশাসনর কর্মকর্তাদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের কক্ষে জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ক সভা করেছেন শামীম ওসমান। এদিকে জলাবদ্ধতা কারন ও সমাধানে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শনে নারায়ণগঞ্জে আসছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা গ্রহন করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
উক্ত সভায় আলোচনা করা হয় যে, কিভাবে ফতুল¬ায় পানিতে তলিয়ে যাওয়া বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা দুর করা যায়। তার জন্য সেনাবাহিনীর সব রকমের পে¬নিং পর্যবেক্ষন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ শামীম ওসমান। এ সময় ডিএনডি প্রজেক্টের ডিরেক্টর লেঃ কর্নেল মো. আহসানূত তাকবিম চৌধুরী বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন। গতকাল রোববার (৪ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় শামীম ওসমান বলেন, আজকের এই সভায় ডিএনডি প্রজেক্টের সাথে সম্পৃক্ত সেনাবাহিনী ভাইয়েরা ভিবিন্ন ডির্পাটমেন্ট যার যার মত করে এই র্প্রবলেম টা কে কিভাবে সলফ্ট করা যায় তারা একটা মতামত দিয়েছেন। তো একচুয়ালি এই মতামতটা যদি বিছিন্ন করা যায়, তো আমরা সবাই মিলে আলোচনায় বুঝে উঠলাম এখানে একটা সমন্বয়ের কথা। যতক্ষন পর্যন্ত অল দ্যা গভারমেন্ট মেশিনারিজ এখানে সমন্বয় না হবে ততক্ষন পর্যন্ত হয়ত কিছু আনসিট সমস্যা সমাধান হবে কিন্তু পরিপুর্ন সমস্যা সমাধান হবে না । সেই পরিস্থিতে আপনারা দেখেছেন আমরা এখান থেকে মন্ত্রী মহদয়ের সাথে কথা বলেছি । মন্ত্রী মহোদয় আমাদের অনুরোধ শুনেছেন এবং আগামি রোববার তিনি নারায়ণগঞ্জে আসবেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী মহোদয় আসার আগে আগামি বুধবার দিন জেলা প্রসাশক মহোদয় ইতিমধ্যে এই খানে যারা আছেন আর যারা উপস্থিতি নাই। সেই সমস্ত সংশি¬ষ্ঠ কর্তৃপক্ষ কে এই প্রবলেমটাকে কিভাবে সল্ট করা যায় র্অথাৎ ডিএনডির বাহিরে যে এলাকা যে জলাবদ্ধতা হচ্ছে লালপুর, কুতুবপুর বিভিন্ন এলাকায় এটা হচ্ছে সেই গুলোকেও কিভাবে সল্ট করা যায় ওই বেপারে মতামত এই খানে উপস্থিত হবে এবং সেই সাথে সমস্ত মতামত গুলোকে নিয়ে সে খানে সরকারের পক্ষ থেকে আর কি কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সেই ব্যাপারে আলোচনা করে আমরা সমাধান করবো।
এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফার”ক মুঠো ফোনের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বলেন, আপনারা জানেন এই ডিএনডির প্রকল্পটা অনেক আগের একটি প্রকল্প। ১৯৬২ সালের দিকে এ প্রকল্পটা করা হয়েছিলো। সেচ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার জন্য এ প্রকল্পটা করা হয়েছিলো। কিন্তু সেখানে কৃষি কাজের বদলে আবাসিক এলাকা ও শিল্প কারখানা গরে তোলার ফলে এ সমস্যাটা সৃষ্টি হয়। পরে ২০১৬ সালে সেখানে ৫শ৫৮ কোট ১৯ লক্ষ টাকার একটি বাজেট পাশ করা হয়। তবে সেখানে শত শত অবৈধ স্থাপনা ছিলো তাই সেখানে যে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো সে টাকা দিয়ে হচ্ছিলো না। পরে জাতিয় বাজেট থেকে এই প্রকল্পের জন্য আর ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। আমি লেঃ কর্নেল মো. আহসানূত তাকবিমকে বলেছি প্রয়োজনিয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করতে।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন এলাকার পানি কবরস্তানের নিচে দিয়ে গাবতলী হয়ে বেরিয়ে আমার ফতুল¬ায় গিয়ে পরছে আর সেই এলাকা নিচু স্থানে হওয়ায় পানি গুলো সরার কোন জায়গা পাচ্ছে না। এ ক্ষেতে আমাদের জনগনেরও কিছু দোষ রয়েছে। কেননা ড্রেন পরিস্কারের জন্য একবারে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয় সেই টাকা দিয়ে একবার পরিস্কার করার পর যখন আবার ময়লা জমে যায় তখন আবার সমস্যা সৃষ্টি হয়। আমি ডিএনডি’র সাথে সংশি¬ষ্টদের অনুরোধ করবো আমাকে কাজে লাগান।
এ সময় ডিএনডি প্রজেক্টের ডিরেক্টর লেঃ কর্নেল মো. আহসানূত তাকবিম চৌধুরী বলেন, ওই এলাকায় পানি নিরসরে জন্য গতবার আমরা ২ টি পাম্প ব্যবহার করতাম কিন্তু এখন চারটি আছে। এবার যখন বৃষ্টিপাত হওয়া শুর” করলো তখন মাননীয় মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সব গুলো কাজ শুর” করেছি। এবার আমার চেষ্টা করে পানি কমাতে সক্ষম হয়েও গিয়েছিলাম কিন্তু পরে আবার বৃষ্টি শুর” হওয়ায় আবার পানি জমে যায়। আমরা যে পাম্প গুলো ব্যবহার করেছিলাম সেগুলোর দারা প্রতি সেকেন্ডে ২০ হাজার লিটার পানি নেমে আসছে যা ওইখানের পানি নিরসনের জন্য যথেষ্ট ছিলো। কিন্তু রেলওয়ে প্রকল্পের জন্য পানি গুলো সরতে পারছি না, তো কথা হলো আমরা যদি সমন্বয় না করি তাহলে যতই পাম্প বসাইনা কেন পানি নামানো সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা কিন্তু পরিস্কার করছি কিন্তু মানুষ ময়লা ফেলার স্থান না পেয়ে সেখানে জনগন আবার ময়লা ফেলছে। তারা বুঝতে পারছে না যে সেখানে ময়লা ফেলায় সমস্যাটা কি হতে পারে। এই প্রজেক্টের বাইরে যে ক্যানেল গুলো রয়েছে সেগুলো পরিস্কার রাখতে হবে, এবার কাজ আমরা করি বা যেই কর”ক। যদি আমরা স্থায়ী ভাবে সমাধানটা চাই। সুতরাং ওই ক্যানেল গুলোকে আমাদের কোন না কোন প্রজেক্টে আনতেই হবে। সমন্বয় সভার মধ্য দিয়ে আমাদের তুলে ধরতে হবে এই জায়গা গুলো আমাদের সমাধান করা দরকার এবার এটি রোড’স এর হোক বা রেলওয়ের হোক। ওই মিটিং এ আমার পুরো এলাকাটা এনালাইসেস করে জানাবো যে কার কি করা দরকার। তার পরে আপনারাতো আছেন।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্তে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা, অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট রহিমা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জাহুরা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু, ফতুল¬া ইউনিয়ণ পরিষধের চেয়ারম্যান সাইফউল¬াহ বাদল, পিএসসি, মেজর সৈয়দ মোস্তাকীম হায়দার ও ক্যাপ্টেন ইবনে ফরহাদ মন্ডল।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *