সিরাজ মন্ডল ও তার সহযোগীদের কোটি কোটি টাকা অবৈধ আয়ের রহস্য ফাঁস ## চোরাই তেল চক্রের মাফিয়ার সাথে হাত মিলিয়েছে না.গঞ্জের মাফিয়াগং

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে দুটি ডিপো পদ্মা ও মেঘনা ডিপো ঘিরে গড়ে উঠা অবৈধ তেলের গোডাউন, বাংলা তেল চক্রের মাফিয়া, তাদের কোটি কোটি টাকা অবৈধ আয়ের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশের পর চোরাই তেল চক্রের মাফিয়ারা নড়ে-চড়ে বসেছে। তাদের কপালে চিন্তার ভাজ দেখা গেছে। অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা আয়ের গোমড় প্রকাশিত হওয়ায় মাফিয়া চক্রটি বিভিন্ন জায়গায় দৌড়-ঝাপ শুরু করেছে। শুরু করেছে তদবীর। কিন্তু আমাদের অনুসন্ধান থামাতে সক্ষম হতে পারছেনা। এদিকে সাহসিকতার সাথে তেল চোরদের গোমড় প্রকাশিত হওয়ায় পত্রিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে গেছে। কঠোর লকডাউনের মধ্যেও সকাল বেলাতেই গোদনাইল এসও বার্মাশীলের সচেতন মহল হকারদের নিকট পত্রিকা ক্রয় করে তেল চোরদের কাহিনী জানতে শুরু করেছে। সাথে সাথে পত্রিকা অফিসে ফোন দিয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। এই সকল মাফিয়াদের কারনে বৈধ তেল ব্যবসায়ীরা ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছেননা বলে প্রতিক্রিয়ায় জানান।
চোরাই তেল চক্রের আলীসান জীবন যাপনে তারা হতবাক হয়েছেন। সরকারের রাজস্ব ফাকি দিয়ে এই তেল চোররা আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। তাদের এই টাকার মালিক কিভাবে হলো তা জানাতে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। বাংলা তেল চক্রের মাফিয়া সিরাজ মন্ডল ও তার ছেলে জাহিদ মন্ডল ১০০ কোটি টাকা গত ২বছরে অবৈধভাকে হাতিয়ে নিয়েছে সে সম্পর্কে পত্রিকায় প্রকাশের পর আজ মানুষের জানার আগ্রহ জেগেছে কিভাবে তারা এতো টাকা হাতিয়ে নিলো। তারা প্রশ্ন করেছে ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ব্যাখ্যা দিলে মানুষের মধ্যে আরো গ্রহনযোগ্যতা পাবে? পাঠকদের সে চাহিদা পুরনে আজ আমরা সিরাজ মন্ডল, তার ছেলে জাহিদ মন্ডল ও অন্যান্য চোরাই তেল চক্রের মাফিয়াদের কোটি কোটি টাকা অবৈধ আয়ের হিসাব সামান্য তুলে ধরলাম। আস্তে আস্তে সকল তথ্য প্রকাশ করা হবো।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত মাসের ২৪ জুন বৃহস্পতিবার র‌্যাবের হাতে আটক ট্যাংকলরী ভর্তি চোরাই ও ভেজাল তেলটি আসে কেরানীগঞ্জ পানগাও বসুন্ধরা রিফাইনিং থেকে। আটককৃত এই চোরাই তেলের মুল হোতা বার বার ঘুরে আসা নাম বিতর্কিত সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডলের। যিনি পুলিশ কনস্টেবল হত্যা মামলার চার্জশীট ভুক্ত আসামী। সিরাজ মন্ডলসহ একটি সংঘবদ্ধ তেল চোর চক্রের গোমড় জেনে যাওয়ায় এই মাফিয়া তেল চক্রের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয় পুলিশ কনস্টেবল মফিজ। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা হয় যার নাম্বার ১৩/১০১৩ইং। পানগাও বসুন্ধরা রিফাইনিং কোম্পানী- তিনটি তেল রিফাইনিং করা হয়ে থাকে। যার মধ্যে রয়েছে বিটুমিন, সাদা কেরোসিন, ডিজেল। জ্বালানী তেল রিফাইনিং করে বাংলাদেশ পিট্রোলিয়াম কোং (বিপিসি)’র নিকট বিক্রি করার নিয়ম থাকলেও পানগাও বসুন্ধরা রিফাইনিং কোম্পানীর কিছু অসাধু অফিসার কম মুল্যে সরকারকে না জানিয়ে বাইরে বিক্রি করে দেয়। যা একেবারেই নিষিদ্ধ। এদিকে সাদা কেরোসিন তেলটি ৫৬ টাকা ৮০ পয়সা মুল্যে বিপিসি’র নিকট বিক্রি করার নিয়ম থাকলেও বাংলা তেল চক্রের মাফিয়া পুলিশ কনেস্টটবল হত্যা মামলার আসামী সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডলের নিকট ৬৩ টাকা মুল্যে বিক্রি করে অসাধু কর্মকর্তারা। ৬৩ টাকা মুল্যে অবৈধভাবে সাদা কেরোসিন তেল কিনে এই সাদা কেরোসিন তেলের সাথে অকটেন, পেট্রোল মিক্স করে চোরাই তেল চক্রের মাফিয়া সিরাজ মন্ডল ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন জায়গায় সরকারী বর্তমান মুল্যে অকটেন ৮৪টাকা ৪৬ পয়সা, পেট্রোল ৮২ টাকা ১০ পয়সা বিক্রি করে গত ৪মাসে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করে নিয়েছে বলে বৈধ তেল ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের নিকট ইতিমধ্যে এই তথ্য পৌছানো হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনও তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে বলেও জানা গেছে। তেল চক্রের মাফিয়া সিরাজ মন্ডলের সাথে রয়েছে না.গঞ্জের তেল সেক্টরের মাফিয়া সামাদ, নেকবর, ডজনখানী মামলার আসামী মহানগর শ্রমিকদলের আহবায়ক এসএম আসলামের ভাই স্বপন মন্ডল, চোরাই তেলের সদস্য মিলন মাহাজন, একাধিক মামলার ইকবাল, যুবদল নেতা নাজিম ভুইয়া হত্যা মামলার আসামী শাহ-জালাল। সিরাজ মন্ডল ডিজেলের সাথে পাম্প ওয়েল মিক্স করে এবং পেট্রোল ও অকটেনের সাথে বাংলা তেল মিক্স করে তার বিভিন্ন পাম্পও পার্টির নিকট বিক্রি করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা আয় করে নিয়েছে। সিরাজ মন্ডলের সাথে তাল মিলিয়ে তার ছেলে কিশোরগ্যাং লিডার জাহিদ মন্ডলও চোরাই তেল ব্যবসায় পিছিয়ে নেই। জাহিদ মন্ডল বাবা সিরাজ মন্ডল থেকে জ্ঞান নিয়ে ফার্নিশ তেলের সাথে স্লাইস মিক্স করে নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরীতে ভেজাল তেল সাপ্লাই দিয়ে পিতার মতো কোটি কোটি টাকা অবৈধভাকে হাতিয়ে নিয়েছে বলেও জানা গেছে। অপরদিকে চোরাই তেলের মাফিয়া সিরাজ মন্ডলের সহযোগী নারায়ণগঞ্জের চোরাই তেল চক্রের মাফিয়া ডজনখানী মামলার আসামী স্বপন মন্ডল, একাধিক মামলার আসামী ইকবাল, চোরাই তেল চক্রের সদস্য মিলন মাহাজন এই ত্রি-রত্ন পেট্রোল, অকটেনের সাথে সাদা কেরোসিন মিক্স করে ঢাকা ডেমরা স্টাফ কোয়াটারস্থ তাদের এসবিএস পাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করে অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এবিএস পাম্প ছাড়াও মিলন মাহাজনের কুমিল্লা পার্টি সালামের মাধ্যমে পুরো কুমিল্লাতে তেল বিক্রি করে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর এই তেল বিক্রি করতে গিয়ে গত ২৪জুন র‌্যাবের হাতে চোরাই তেল চক্রের ২জন ট্যাংকলরী ও তেলসহ গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে র‌্যাবের ডিএডি গোলাম নবী সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে, মামলা নাম্বার ৩৬ তারিখ: ২৪/০৬/২১ইং। এই মামলায় মিলন মাহাজনের পার্টি সালামকেও আসামী করা হয়। এই সালাম ট্যাংকলরীর মালিক। সে বর্তমানে পলাতক। এভাবে চোরাই তেলের মাফিয়া চক্রটি পুরো তেল চক্রেটি নিয়ন্ত্রন করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। এই চক্রটির সাথে রয়েছে মহানগর যুবদলের নেতা সাবেক থানা শ্রমিকদলের সাধারন সম্পাদক এসএম কিবরিয়া। কিবরিয়া তেল চক্রের মদদদাতা হিসাবে পরিচিত। তার কাজ হলো পার্টি সেট করা। বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তাদের ম্যানেজের জন্য তাদের পছন্দের নারী সাপ্লাই দেয়া। এই নারীর লোভে সরকারী ও বিভিন্ন অফিসিয়াল কর্মকর্তারা কম মুল্যে রিফাইনিং কম্পোনী থেকে তেল বাহির করে সিরাজ মন্ডল ও তার সহযোগীদের নিকট পৌছ দেয়। এছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কিবরিয়া নারী সাপ্লাই দিয়ে আদায় করে থাকে বলেও এলাকায় আলোচিত রয়েছে।
অনুসন্ধনা জানা যায়, গত ৩মাস আগে গোদনাইল বার্মাশীল এলাকার শাহ-আলম মেম্বারের ছেলে যুবদল নেতা নাজিম ভুইয়া হত্যা মামলার আসামী শাহ-জালালের নিকট বাংলা তেলের পার্টি আসে। কিন্তু শাহ-জালাল বাংলা তেলের ব্যবসা বেগবান করে অল্প দিনে প্রচুর টাকার মালিক হবার লোভে পার্টি নিয়ে আসে সিরাজ মন্ডলের ছেলে জাহিদ মন্ডলের কাছে। এ সময় পার্টির সাথে গোপন মিটিং করে সিরাজ মন্ডলের ছেলে জাহিদ মন্ডল, শাহ-আলমের ছেলে শাহ-জালাল, আসাদ কন্ট্রাকটরের ছেলে সামাদ ও নেকবর। মিটিং-এ আলোচনার বিষয় ছিলে বাইরে বিক্রি নিষিদ্ধ বাংলা তেল কিভাবে বাজারজাত করা যায়। সিদ্ধান্ত হয় জাহিদ মন্ডলের পিতা বিতর্কিত সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডলই পারবে এই তেল বিক্রি করে লাভজনক জায়গায় নিয়ে যেতে। যার ফলে জাহিদ মন্ডল পার্টিকে নিয়ে যায় তার বাবা সিরাজ মন্ডলের কাছে। সিরাজ মন্ডল অধিক লাভের আশায় তার সকল পাম্পে বাংলা তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলা তেল রিফাইনিং এর মাধ্যমে শুধু মাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠান বিপিসি (বাংলাদেশ পিট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) এর নিকট বিক্রি করার নিয়ম থাকলেও তা অসাধু কর্মকর্তাদের মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে রিফাইনিং কো¤পানী থেকে সরাসরি বাইরে নিয়ে আসছে। বাইরে আনা বাংলা তেল স্টক করা হয় সিরাজ মন্ডলের আলীসান নতুন বাড়ীর নীচ তলার গোডাউনে, সানরাইজ স্কুলের সামনে সামাদের গোডাউনে, শাহ-জালালের ভাই এর এনায়েতনগরের গোডাউনে। ডিপো থেকে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল বাহির করে তা এই সকল গোডাইনে নিয়ে পল্টি মেরে অর্থাৎ মিস্ক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাংলা তেল চক্রের মাফিয়া সিরাজ মন্ডল, ভাই স্বপন মন্ডল, সহযোগী ইকবাল ও তার সহযোগ দের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে। যার মধ্যে রয়েছে সিরাজ মন্ডলের মাউতাইলস্থ সান টু ফিলিং স্টেশন, মৌচাকস্থ স্যাসম ফিলিং স্টেশন, রুপগঞ্জের মাষ্টারবাড়ী ফিলিং স্টেশন, আমিন বাজার শাহ-আলম সর্দার ফিলিং স্টেশন, মহানগর শ্রমিক দলের আহবায়ক আসলামের ভাই ডজন খানি মামলার আসামী স্বপন মন্ডল, একাধিক মামলার আসামী ইকবাল ও তেল চোরাই চক্রের সদস্য মিলন মাহাজানের ডেমরা স্টাফ কোয়াটারস্থ এসবিএস ফিলিং স্টেশনে। এই সকল স্টেশনে ভেজাল তেল বেশী দামে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটে কোটি টাকা। এদিকে সামাদ পূর্বে বাংলা তেলের ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা থাকায় সেও বিভিন্ন পাম্পে ভেজাল তেল দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। র‌্যাবের হাতে আটক কৃত বাংলা তেল ওরা ত্রি-রত্ন স্বপন মন্ডল, ইকবাল ও ্য মিলন মাহাজনের এসবিএস পাম্পের। এই তেলের অনুসন্ধান করতে গিয়ে আজ বেরিয়ে এসেছে বাংলা তেল চক্রের মাফিয়ার নাম হচ্ছে সিরাজ মন্ডল। এদিকে খোজ নিয়ে আরো জানা যায়, মেঘনা ডিপোকে ঘিরে এর চারপাশে একাধিক তেলের গোড়াউন গড়ে উঠেছে। যা একেবারেই আইনতভাবে নিষিদ্ধ। সরকারী নিয়ন অনুযায়ী ডিপোর ১ কিলো মিটারের ভিতরে কোন তেলের স্থাপনা/ কারখানা থাকতে পারবে না। কিন্তু সরকারের এই সকল নিয়ম অমান্য করে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা মেঘনা ডিপো ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে। যাদের কোন অনুমতি নেই, বৈধ কাগজপত্র নেই। নেই বিস্ফোরকের বৈধ লাইসেন্স। বিস্ফোরকের লাইসেন্স দুই শ্রেনীর ও একটি বিশেষ শ্রেনীর। বিশেষ শ্রেনীর ক্যাটাগরিতে সকল প্রকার জ্বালানী তেল, ক্যামিকেল ক্রয় বিক্রয়, মজুত করতে পারবে। ১ম শ্রেনীর ক্যাটাগরীতে অকটেন পেট্রোলম ডিজেল, কেরোশিন, মবিল মজুদ ক্রয় বিক্রয় করতে পারবে। আর দ্বিতীয় শ্রেনীর ক্যাটাগরীতে শুধুমাত্র মবিল, ডিজেল, কেরোসিন মজুদ, ক্রয় ও বিক্রয় করতে পারবে। কিন্ত এসও এলাকায় অধিকাংশ ব্যবসায়ীর কোন ক্যাটাগরি নেই, কোন অনুমোদনও নেই। ১কি: মি: এর ভিতরে অবৈধভাবে তেলের গোডাউন তৈরীর ফলে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। এ ব্যাপারে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *