অবৈধ তেলের গোডাউনে পল্টি মেরে সিরাজ মন্ডল ও জাহিদ মন্ডলের ১০০ কোটি টাকার অবৈধ আয় ##দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল পদ্মা ও মেঘনা ওয়েল কোম্পানী (ডিপো) থেকে সরবরাহকৃত জ্বালানী তেল চলে যাচ্ছে চোরাকারবারীদের পল্টি আস্তানায়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিপোর ১ কিলোমিটারের ভিতরে কোন তেলের স্থাপনা/মজুদ গোডাউন থাকতে পারবে না। কিন্তু সরকারের এই সকল নিয়ম অমান্য করে জ্বালানী তেলের অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা/ গোডাউর পদ্মা ও মেঘনা ডিপো ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে। যাদের সরকারী ভাবে কোন অনুমতি নেই, বৈধ কাগজপত্র নেই। নেই বিস্ফোরকের বৈধ লাইসেন্স। পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। সম্পূর্ন বেআইনী ভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈভাবে তেল চোর চক্রের সদস্যরা জ্বালানী তেল মজুদ করে যাচ্ছে। ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করে তাদের নিজস্ব গোডাউনে পল্টি মেরে/ মিক্স করে গোদনাইল এলাকার অনেকে টোকাই থেকে বনে গেছে কোটিপতি। ইতিমধ্যে এই সকল অবৈধ গোডাউন মালিকদের নাম ও গোডাউনের ছবি পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশ করা হয়েছে বাইরে বিক্রি নিষিদ্ধ বাংলা তেলের চক্রের মাফিয়ার নাম। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে এই চোরাই তেল চক্রটি অল্পদিনে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। র‌্যাব অভিযানে এই সকল চোরাই তেল চক্রের সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার হলেও প্রতিবার হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোয়ার বাইরে। এই চক্রের হোতা নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডলের নাম বার বার ঘুরে আসছে। যিনি সরকারী কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা করেননা। তাইতো নিজের আলীসান বাড়ীর নীচে গড়ে তুলেছেন বিশাল জ্বালানী তেলের গোডাউন। যেখানে ডিপো থেকে ১ কি: মি: ভিতরে কোন তেলের গোডাইন থাকতে পারবেনা সেখানে ১০০ গজ ভিতরে রয়েছে সিরাজ মন্ডলের ২টি তেলের গোডাউন। এই সকল গোডাইনে তেল মিস্ক করে অবৈধভাবে লাভ করছে কোটি কোটি টাকা। গত ৩মাসের মধ্যে বাইরে বিক্রি নিষিদ্ধ বাংলা তেল বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড থেকে কম দামে বাহির করে তা নিজেরসহ সহযোগীদের গোডাউন ও পাম্পে রেখে বেশী দামে বিক্রি করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে যা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর গোদনাইল এলাকায় হৈচৈ শুরু হয়ে গেছে। কারা কারা এই বাংলা তেলের ব্যবসা করছে তা বাহির করতে ইতিমধ্যে প্রশাসন মাঠে কাজ করছে। এদিকে খোজ নিয়ে আরো জানা যায়, গত ২ বছরে সিরাজ মন্ডল ও তার ছেলে জাহিদ মন্ডল অবৈধভাবে মিক্স করে ১০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছে। কিভাবে এতো টাকা আয় করলে তা জানতে গিয়ে বৈধ ব্যবসায়ীদের থেকে জানা যায়, ডিপো থেকে উত্তোলিত ফার্নেশ তেলের সাথে স্লাইস মিক্স করে, ডিজেলের সাথে পাম্প ওয়েল মিক্স করে, পেট্রোলের সাথে বাংলা তেল মিক্স করে বিভিন্ন গোডাউনে সরবরাহ ও বিক্রি করে পরবর্তীতে বেশী দামে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছে। এলাকাবাসী জানায়, সিরাজ মন্ডলের ইতিহাস আমাদের সকলের জানা। সে কিভাবে গরুর রাখাল থেকে আজ কোটি কোটি মালিক, একাধিক পাম্পের মালিক, একাধিক আলীসান বাড়ীর মালিক, একাধিক গাড়ীর মালিক, নামে বেনামে প্রচুর জায়গার মালিক। এগুলো গুজামিল হিসাবে দিয়ে সরকারকে গোমড়া করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ মালিক সেজে বসে আছে। বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের উচিত বাংলা তেল চক্রের মাফিয়াদের সম্পত্তির হিসাব নেয়া। তাহলে বেরিয়ে আসবে থলের বিড়াল। এ ব্যাপারে গোদনাইল এলাকাবাসী দুদকের হঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *