সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে গোদনাইলে মেঘনা ও পদ্মা ডিপোর ১’শ গজের ভিতরে সিরাজ- স্বপন মন্ডল, ছামাদ-বাসেদ, শাহজালাল তানজিল, দেলাগংদের অবৈধ তেলের গোডাউন ## দুর্ঘটনায় মৃত্যুর আশংকা ॥ উচ্ছেদের দাবী এলাকাবাসীর

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
সিদ্ধিরগঞ্জে গোদনাইল পদ্মা ও মেঘনা ডিপোকে ঘিরে এর চারপাশে একাধিক অবৈধ তেলের গোডাউন গড়ে উঠেছে। যা সম্পূর্ণ আইনতভাবে নিষিদ্ধ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিপোর ১ কিলোমিটারের ভিতরে কোন তেলের স্থাপনা/মজুদ কারখানা থাকতে পারবে না। কিন্তু সরকারের এই সকল নিয়ম অমান্য করে জ্বালানী তেলের অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা পদ্মা ও মেঘনা ডিপো ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে। যাদের সরকারী ভাবে কোন অনুমতি নেই, বৈধ কাগজপত্র নেই। নেই বিস্ফোরকের বৈধ লাইসেন্স। পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। সম্পূর্ন বেআইনী ভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবৈভাবে তেল চোর চক্রের সদস্যরা জ্বালানী তেল মজুদ করে যাচ্ছে। জনজীবনের কথা চিন্তা করে গোদনাইল পদ্মা ডিপোর চারপাশে অবৈধ তেলের দোকান ও গোডাউন উচ্ছেদের বাদীতে জেলা প্রশাসন বরাবর আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। এবার এলাবাবাসী সচেতন হয়েছে। তারা অবৈধ জীবন ঝুকিপূর্ন তেলের গোডাউনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। দাবী উঠছে তেলের গোডাউন উচ্ছেদের। হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছোট ছোট তেলের দোকান ছাড়াও গোদনাইল পদ্মা ও মেঘনা ডিপো বাংলা তেল মাফিয়া চক্রের একাধিক অবৈধ গোডাউন গোদনাইল এসও এবং বার্মাশীলে রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে গোদনাইল এসও দোয়েল চত্ত্বরে বাংলা তেল মাফিয়া সাবেক বিতর্কিত নাসিক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডলের আলীসান বাড়ীর নীচ তলা গোডাউন। ডিপো থেকে অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল বাহির করে তা এ বাড়ির গোডাউনে নিয়ে মজুদ করে রাখা হয়। যা একেবারেই অবৈধ। একে তো মেঘনা ডিপোর কাছাকাছি অন্যদিকে ঘনবসতি এলাকা। বিস্ফোরনের মতো ভয়াবহ জ্বালানী পদার্থ সামান্য অসর্তকতায় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা, চলে যেতে পারে অসংখ্য মানুষের জীবন। সেখানে বেআইনিভাবে গোডাউন নির্মানে জ্বালানী তেল মজুদের ফলে এলাকাবাসী সর্বদা জ্বালানী তেলে গন্ধ আর আতংকের মধ্যে দিন কাটায়। সিরাজ মন্ডল ছাড়াও বার্মাশীলে রয়েছে শাহ-জালালের তেলের গোডাউন, এসও এলাকার উদয় ¯মৃতি ঈদ গাহের উল্টো দিকে রয়েছে দেলা ও ইসমাইলের তেলের অবৈধ গোডাউন, সান রাইজ স্কুলের সামনে তানজীলের তেলের গোডাউন, বামার্শীল রোডে সামাদ-বাসেদের তেলের গোডাউন, এসও রেললাইন এলাকায় ডজনখানী মামলার আসামী মহানগর শ্রমিকদলের আহবায়ক এস এম আসলামের ভাই স্বপন মন্ডলের তেলের গোডাউন, এসও এলাকায় সিরাজ মন্ডলের নতুন বাড়ীর নীচে ছাড়াও পাশে ঘন-বসতি এলাকায় ইদগাহ সংলগ্ন তেলের গোডাউন, এসও দোয়েল চত্ত্বরে আক্কা মাহাজনের তেলের গোডাউন। যা বর্তমানে রবিন ভাড়ায় চালাচ্ছে। এসকল তেলের গোডাউনে রয়েছে মৃত্যু ঝুকি। নেই কোন বৈধ লাইসেন্স। মানছেনা সরকারী বিধি-নিধেষ। আরো জানা যায়, বিস্ফোরকের লাইসেন্স দুই শ্রেনীর ও একটি বিশেষ শ্রেনীর। বিশেষ শ্রেনীর ক্যাটাগরিতে সকল প্রকার জ্বালানী তেল, ক্যামিকেল ক্রয় বিক্রয়, মজুত করতে পারবে। ১ম শ্রেনীর ক্যাটাগরিতে অকটেন পেট্রোলিয়াম ডিজেল, কেরোসিন, মবিল মজুদ ক্রয় বিক্রয় করতে পারবে। আর দ্বিতীয় শ্রেনীর ক্যাটাগরিতে শুধুমাত্র মবিল, ডিজেল, কেরোসিন মজুদ, ক্রয় ও বিক্রয় করতে পারবে। কিন্ত এসওরোড এলাকায় অধিকাংশ ব্যবসায়ীর কোন ক্যাটাগরি নেই, কোন অনুমোদনও নেই। সরকারী বিধি-নিষেধ অমান্য করে ১কি: মি: ভিতরে অবৈধভাবে তেলের গোডাউন স্থাপনের ফলে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। গত কয়েক মাস আগে এসও এলাকার মেঘনা ডিপোর ২০ গজের মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে তোলা একটি তেলের গোডাউনে আগুন লেগে পাশের তিনটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অব¯’ায় একজন প্রাণ হারায়। তবে এলাকাবাসীর তড়িৎ পদক্ষেপের কারনে বড় কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে পাশাপাশি অব¯’ানে থাকা মেঘনা ডিপো। কোন কারনে দুর্ঘটনা ঘটলে ভস্মিভূত হয়ে যেতে পারে ৬নং ওয়ার্ডের ঘরবাড়ী। এমন আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। তাই অবৈধ তেলের দোকান উচ্ছেদের জন্য এলাকাবাসী নারায়ণগঞ্জ এর সুযোগ্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *