সিদ্ধিরগঞ্জে র‌্যাবের হাতে জ¦লানী তেল চোরাই চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার ও মামলা ভেজাল তেল স্বপন মন্ডল, ইকবাল ও মিলনের পাম্পের

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
সিদ্ধিরগঞ্জের থানাধীন শিমরাইল চিটাগাং রোড এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, সিপিএসসি এর একটি আভিযানিক দল গত বৃহস্পতিবার ২৪ জুন দিবাগত রাত ১টায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জ¦ালানী তেল চোরাই চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ বাহাউদ্দিন@বাতেন (৪৮) এবং মোঃ আঃ সাত্তার@সোহাগ (৩৮)। উক্ত অভিযানে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার চোরাই জ¦ালানী তেলের উপজাত পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ন্যাপথা ও ১টি ট্যাংকলরী জব্দ করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব-১১’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী, পিপিএম স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৩জনের নামে একটি মামলা করে র‌্যাব। মামলায় আসামী করা হয়েছে ট্যাংকলরীর মালিক সালামকে। এ ঘটনায় অনেকে জানায়, গাড়ী মালিক কিংবা চালকের দোষ কম। কিন্ত এই ভেজাল মাল যারা বিক্রি করছে তাদের দোষ বেশী। চোরাই চক্রের হোতারা প্রতিবার থাকে ধরাছোয়ার বাইরে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আটককৃত ভেজাল তেল ছিলো ডজনখানি মামলার আসামী চোরাই তেল চক্রের হোতা গোদনাইল এসও এরাকার স্বপন মন্ডল, তার সহযোগী একাধিক মামলার আসামী ইকবাল ও চোরাই তেলের অন্যতম সদস্য মিলনের পাম্পের। এই ত্রি-রত্নের পাম্পের নাম এস পি এস ফিনিং স্টেশন। যা ডেমরা বনশ্রী-স্টাফ কোয়াটার সংলগ্ন রাস্তার পাশে। ডিলারশীপ: মেঘনা পেট্রোলিয়াম লি:। এই ভেজাল তেলের উৎস খুজতে নিতে গিয়ে বেরিয়ে আসে আরো এই ত্রি-রত্নের ভেজাল তেলের চাঞ্জল্যকর তথ্য। তারা বাংলা তেল আনেন বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড থেকে। গ্যাস ফিল্ডের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তারা এই বাংলা তেল বাহির করে আনেন। বাংলা তেল বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড থেকে সংগ্রহ করে তা তাদের ডেমরা স্টাফ কোয়াটারস্থ এসপিএস পাম্পে জমা করে রাখে। বাংলা তেল ৭০টাকা করে প্রতি লিটার করে আনলেও তা বাহিরে অকটেন, পেট্রেল ও ডিজেলের সাথে মিক্স করে পাম্পে গাড়ীতে বিক্রি করেন ৯৯ টাকা লিটার। ভেজালের মিক্সটা এসবিএস পাম্পেই করা হয়। অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা তোল চোর মিলন, স্বপন মন্ডল ও ইকবালের এসপিএস পাম্প থেকে কম দামে ভেজাল তেল কিনে গাড়ীর গাড়ীর হায়াত কমিয়ে দেয়। অল্প দিনের গাড়ী যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। ৬বছরের গাড়ীর মেশিন ৬মাসে নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। র‌্যাব জানায়- প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চোরাই চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের বিভিন্ন জায়গা হতে অসাধু উপায়ে জ¦ালানী তেলের উপজাত পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ন্যাপথা সংগ্রহ করে পেট্রোল পাম্পগুলোতে সরাবরাহ করে আসছে। ন্যাপথা মূলত ক্যামিকেল কোম্পানীগুলোতে ব্যবহার করা হয়। ইঞ্জিন চালিত গাড়ীতে ব্যবহৃত জ¦ালানী তেল পেট্রোলের তুলনায় ন্যাপথার বাজার মূল্য অনেক কম হওয়ায় উক্ত চোরাই চক্র অবৈধভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য পেট্রোলের সাথে ন্যাপথা মিশিয়ে গাড়ীর মালিকদের কাছে বিক্রয় করে প্রতারণামূলকভাবে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। জ¦ালানী তেল পেট্রোলের সাথে মিশ্রিত পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ন্যাপথা ব্যবহারের ফলে গাড়ীর ইঞ্জিন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উক্ত চোরাই চক্রকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয় র‌্যাব-১১ একটি আভিযানিক দল। অতঃপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ২৪ জুন ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে র‌্যাব-১১, সিপিএসসি এর একটি আভিযানিক দল কর্তৃক নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন শিমরাইল চিটাগাং রোড এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চট্টগ্রামগামী পাকা রাস্তার উপর চেকপোষ্ট স্থাপন করে জ¦ালানী তেলবাহী বিভিন্ন ট্যাংকলরী তল্লাশীকালে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার চোরাই পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ন্যাপথা ভর্তি ১টি ট্যাংকলরীসহ ২ সক্রিয় সদস্যকে হাতে-নাতে গ্রেফতার করা হয়। উক্ত চোরাই জ¦ালানী তেলের উপজাত পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ন্যাপথা পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে গ্রেফতারকৃত আসামীরা কোন কাগজপত্র দেখাতে পারে নি। পরবর্তীতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গ্রেফতারকৃত আসামীরা স্বীকার করে, তারা সংঘবদ্ধ তেল চোরাই চক্রের সক্রিয় সদস্য। ড্রাইভার ও হেলপার পেশার ছদ্মবেশ ধারন করে দীর্ঘদিন যাবৎ পরষ্পর যোগসাজশে তারা দেশের বিভিন্ন কোম্পানীতে ব্যবহৃত জ¦ালানী তেলের উপজাত পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ ন্যাপথা সংগ্রহ করে এবং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পেট্রোলিয়াম পাম্পগুলোতে সরাবরাহ করে আসছে। এদিকে র‌্যাবের তথ্যের পর খোজ নিয়ে আরো জানা যায়, আটককৃত ৩জনের মধ্যে ২জন গ্রেফতার হলেও পলাতম গাড়ীর মালিক সালাম। এই সালামের খোজ নিতে গিয়ে জানা যায়, সালাম হলো তেল চোর চক্রের অন্যতম সদস্য এসপিএস ফিলিং স্টেশনের পার্টনার মিলনের ভাই। মিলনের নিজের গাড়ী থাকলেও চোরাই তেলের ব্যবসায় যাতে না ধরে পড়ে সেজন্য সুকৌশলে ভাই সালামের গাড়ী ব্যবহার করে। এই গাড়ী দিয়ে ভেজাল তেল পাচার করার সময় র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয় মোঃ বাহাউদ্দিন@বাতেন (৪৮) এবং মোঃ আঃ সাত্তার@সোহাগ (৩৮)। একটি সুত্র জানায়, মিলন মাহাজন, স্বপন মন্ডল ও ইকবালের বাংলা তেলের সেম্পল নিয়ে তাদের প্রতিনিধি গোদনাইল এসও এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করা শুরু করেছে। ব্যবসায়ীদেরকে ৭২টাকা রেটে বাংলা তেল সরবরাহ করবে বলে আশ্বাস দিচ্ছে। এই তেলের সাথে ব্যবসায়ীরা অকটেন, পেট্রোল ডিজেল মিশিয়ে অনায়াসে ৯৯টাকা দরে বিক্রি করে প্রচুর লাভ করতে পারবে বলে লোভ দেখাচ্ছে। এরফলে একদিক দিয়ে যেমন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বে অন্যদিকে গাড়ীর মালিকরা গাড়ী নষ্টের ফলে লোকসানে পড়বে। এই তোলচোর চক্রের হাত থেকে ব্যবসায়ী ও পরিবহনকে বাচাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *