শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চায় সিরাজ মন্ডল

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট : বাংলা প্রবাদ রয়েছে ‘ শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ‘। ঠিক সেটাই প্রয়োগ হয়েছে দৈনিক যুগের চিন্তায় গতকাল শুক্রবার  “কাউন্সিলর মতির ঘনিষ্ঠ রিগ্যান গাঁজাসহ গ্রেফতার” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে। সংবাদে আসল সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে  বিভিন্ন অংশে প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি কে হেয় প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি মিথ্যাচার করা হয়েছে বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল মেঘনা শাখার সভাপতি উদীয়মান শ্রমিক নেতা আশরাফ উদ্দিন কে নিয়ে। প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। জনপ্রতিনিধির কাছে বিভিন্ন প্রয়োজনে সেবা নিতে সকলেই আসবে।এটাই স্বাভাবিক। পত্রিকায় প্রকাশিত গ্রেপ্তারকৃত ট্যাংকলরী শ্রমিক রিগ্যান নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডল এর লোক। গ্রেপ্তারকৃত আরেক আসামি জাকির হোসেন (২৪) সিরাজ মন্ডলের ভায়রা একাধিক মামলা ও নাশকতার মামলার আসামি মিলনের তেল দোকানের ম্যানেজার আলীর ছোট ভাই। আর মাদক চোরাচালানের ব্যবহৃত ঢাকা – ন-২৯৭৪ গাড়িটির মালিক সিরাজ মন্ডল এর সহযোগী মাদক বিক্রেতা জাহাঙ্গীর ও আলমগীরের আপন চাচা রহিম মহাজন। রহিম মহাজন ডিপোতে ফার্নেস পাম্পে চাকরি করে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রহিমের আপন ভাতিজা সিরাজ মন্ডল এর সহযোগী  জাহাঙ্গীর ও আলমগীরের বিরুদ্ধে গোদনাইল এসও মেঘনা ডিপোর পশ্চিমে সুচতারী মাঠ এলাকায় সবজি চাষের আড়ালে গাঁজা চাষের অভিযোগ রয়েছে।  মঙ্গলবার (৪ মে) দুপুর বেলায় মেঘনা ডিপো’র পশ্চিম পাশের এলাকার সুচতারী মাঠের মধ্যে সবজি চাষের আড়ালে অবৈধ ভাবে প্রায় এক থেকে দেড় কেজি ওজনের তরতাজা গাঁজা গাছ পাওয়া যায়। সরেজমিন ঘুরে দেখাগেছে, এসও গোদনাইল এলাকার সুচতারি মাঠের মধ্যে সবজি চাষের আড়ালে অবৈধ গাঁজা গাছের পরিচয় মিলে। স্থানীয় এলাকার সচেতন মহলের গোপন তথ্যে মতে সুচতারি মাঠে গাঁজার গাছ দেখাগেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলমগীর(৩৬) পিতা আবুল কাশেম, সোহেল(৩৮) পিতা মৃত আব্দুল আউয়াল  উভয় গোদনাইল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে বলে জানান এবং সুচতারি মাঠের মধ্যে সবজি চাষের আড়ালে অবৈধ গাঁজা গাছের চাষের অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।এর আগে, সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডে অফিস ও বসতবাড়ীর আঙ্গিনা থেকে প্রায় ১ কেজি ওজনের ১টি গাঁজা গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে খাজা মইনুদ্দিনের মালিকানাধীন চারতলা বাড়ির নিচতলায় বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল মেঘনা শাখার সভাপতি আশরাফ উদ্দিনের ব্যবসায়িক অফিস। সোমবার (৩মে) দুপুরে একদল পুলিশ ব্যবসায়ী আশরাফ উদ্দিনের থেকে প্রাপ্ত তথ্য পেয়ে তার অফিসের পেছনে থেকে ১টি গাঁজার গাছ উদ্ধার করে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এস আই কাজল চন্দ্র মজুমদার বলেন, দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক আশরাফ উদ্দিনের থেকে সংবাদের ভিত্তিতে ওই জমিতে গাঁজা গাছ থাকার খবর পান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়,অফিসের পেছনে পরিত্যক্ত জমিতে গাঁজা গাছের চাষ করা হয়েছে।এরপর ১টি গাঁজাগাছ উদ্ধার করে তা নদীতে ফেলে দেয়া হয়।
এদিকে আরেকটি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে  সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলোগেট এলাকায় ফেনসিডিলসহ  সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলের ভায়রা মো. মিলন মিয়ার ছেলে নেহাল এবং একই এলাকার আমিরুলের ছেলে ইয়াকুবকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। ডিবি পুলিশের এসআই শরীফুল ইসলাম ও এসআই আলমগীর হোসেন ওই দুই যুবককে কয়েক বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করে গাড়িতে উঠিয়ে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে যান। পরে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মণ্ডল মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তার ভায়রার ছেলে নেহালসহ ইয়াকুবকে ছাড়িয়ে আনেন বলে এলাকাবাসী জানায়। এ খবর এসও রোড ও বার্মাশীল এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *