কালকিনি’র সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পুলিশ সুপার জায়েদুর আলম বাংলাদেশ পুলিশের গর্ব

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অভিভাবক এসপি মোহাম্মদ জাহিদুল আলম পিপিএম-বার এর সদালাপী ও হাস্যজ্জল মানুষটি তাঁর কর্মদক্ষতা দিয়ে খুব অল্প সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলাবাসীর মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি তার কর্মদক্ষতা ও গুনে আজ বাংলাদেশ পুলিশের গর্ব, দেশের সম্পদ। গত ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ তারিখ পুলিশ সুপার হিসেবে এই জেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি তার কর্মগুণে মহিয়ান হয়ে আছেন বলে মনে করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার যে পদক্ষেপ সম্প্রতি তিনি হাতে নিয়েছেন তা সর্বমহল প্রশংসিত হয়েছে।
জানা যায়, এসপি হারুন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের মানুষের অন্যতম এসপি। অপরাধীদের ক্রমান্বয়ে গ্রেফতার ও যে কোন ইস্যুতে পারফেক্ট ফিনিশ্ং এবং সাধারন মানুষের কষ্ট লাঘবে হকার থেকে শুরু করে যে কোন কর্মকান্ডে তার অতুলনীয় ভুমিকার কারনে জনসাধারণ তাকে সিংহাম সহ নানা উপাধি দিতে থাকেন। তার বিদায়ের পর দেড় মাস নারায়ণগঞ্জে কোন এসপি না থাকায়, আবারো অপরাধীদের উৎপাত বাড়তে পারে এমন শঙ্কায় আতংকিত হয়ে পড়ে নারায়নগঞ্জের মানুষ এমনটাই দাবী বিশ্লেষক মহলের। তবে, নারায়ণগঞ্জ বাসীর সেই ভয় ও শঙ্কাকে দুর করতে নারায়ণগঞ্জে এসে যোগদান করেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পুলিশ ক্যাডারের ২২ তম বিসিএস মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম (বার)। তিনি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে (মুক্তিযোদ্ধা) জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা ও পরে সাংবাদিকগণের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। এছাড়াও তিনি আরো বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ীক, সামাজিক সংগঠনের সাথে আলোচনা সভা করেন। যোগদানের পর থেকে তিনি তার অফিসে যাওয়ার সকল স্থরের মানুষদের সুযোগ দেন। একজন সাধারন মানুষ তার সমস্য নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে খুব সহজে যেতে পারেন। নারায়নগঞ্জ বাসীদের মতে, এরপর থেকেই শুরু হতে থাকে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলমের ক্যারিশম্যাটিক কার্যক্রম। তিনি যোগদানের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন থানা থেকে বিতর্কিত পুলিশ সদস্যদের অন্যত্র বদলী ও পুলিশ নাইন্সে সংযুক্ত করতে থাকেন। যদিও পুলিশ প্রশাসনের দাবী, কোন বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য নয় বরং পুলিশে চাকরীর অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পুলিশ সদস্যকে বদলী করা হয়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, এসপি জায়েদুল আলমের যোগদানের পর তার বিভিন্ন সফলতার কারনে নারায়ণগঞ্জের সাধারন মানুষের কাছে পুলিশের ভাবমূর্তি আগের চেয়ে বহুগুন বেড়েছে। এর আগে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম দুইবার পিপিএম ( রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক) পদকে ভূষিত হন । নিজের পেশায় অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বমূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে পুলিশের এই সম্মান জনক পদক দেয়া হয়।
এর আগে মোহাম্মদ জায়েদুল আলম তিন বছর তিন মাস মুন্সীগঞ্জ জেলার এসপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি এসপি থাকাকালীন মুন্সীগঞ্জ জেলার ছয়টি থানার অবকাঠামো উন্নয়ন, থানার প্রধান ফটকে গেট নির্মাণ, রাস্তা প্রস্তুতকরণ, বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়ন এবং মুন্সীগঞ্জের প্রত্যকটি থানাকে সুসজ্জিতভাবে আধুনিক রূপে সাজানো হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমই প্রথম ২০১৭ সালে পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট চালু করেন এবং ১০০ টাকায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের মধ্যে দিয়ে প্রশংসিত হোন। এছাড়া মুন্সিগঞ্জ জেলাকে মাদকমুক্ত,সন্ত্রাসমুক্ত রাখার লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এদিকে, চাকরি জীবনে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক দুই বার, আইজি ব্যাজ পাঁচ বার, জাতিসংঘ পদক ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক (আবুল কাশেম ফজলুল হক) পদক পেয়েছেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের সহধর্মিনী জেসমিন কেকাও বাংলাদেশ পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের পুলিশ সুপার পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলার সুযোগ্য এসপি জায়েদুল আলম বিপিএম-বার সম্পর্কে ব্যাপারে জানতে চাইলে দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক, বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি নং বি-১৭৫৩ কেন্দ্রিয় কমিটির যুগ্ন-সম্পাদক উদীয়মান তরুন ব্যবসায়ী আশরাফ উদ্দিন বলেন, সাবেক এসপি ড.মুহিত, হারুন অর রশিদ না.গঞ্জের সফল এসপি ছিলেন। তাদের সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম। তিনি নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই কিশোরগ্যাং, শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা হ্রাসে কার্যকর ভুমিকা পালন করছেন। জেলা পুলিশ সুপার বিভিন্ন থানার ঘটনাগুলোকে দ্রুত আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন এবং অভিযুক্ত কিশোরগ্যাং, ধর্ষক ও অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদলতে সোপর্দ করেছেন। বিভিন্ন প্রতিকুলতার মধ্যেই গত বছর মার্চে নারায়ণগঞ্জের থেকেই প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত করা হয় এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুও নারায়ণগঞ্জে ঘটে। ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতে সামাল দেওয়ার জন্য গেল বছর সরকার সাময়িক লকডাউন ঘোষনা করে। সেই সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি দিন রাত অনবরত কঠোর পরিশ্রম করে এই জেলার পুলিশ বাহিনী। যার সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম। গত বছর করোনা সংক্রমণ রোধ ও মানুষকে ভাইরাস থেকে মুক্ত রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত নারায়ণগঞ্জে র‌্যাব-পুলিশের কর্মকর্তাসহ ৮২জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। তাদের পরিবারের পাশেও তিনি দাড়িয়েছিলেন সহায়তার হাত নিয়ে। সর্বশেষ না.গঞ্জে হেফাজতের ডাকা হরতালে তান্ডব প্রতিরোধে তিনি নিজে সামনে থেকে কাজ করেছেন। এজন্য তিনি আহতও হয়েছেন। তার দক্ষতা ও কৌশলে শান্ত রেখেছিলেন না.গঞ্জ শহর। সোনারগায়ের রির্সোটে মামুনুল হকের কান্ডেও তিনি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রন করে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন বলে না.গঞ্জের সাধারন মানুষ মনে করেন। বর্তমানের কঠোর লকডাইনেও তিনি তার পুলিশ বাহিনী নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আর এজন্য রাজনৈতিক নেতারা এসপি জায়েদুলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আগামী দিনে না.গঞ্জের সার্বিক পরিস্থিতি আরো উন্নত করতে তিনি তার বাহিনীকে নিয়ে কাজ যাবেন এই প্রত্যাশা আমিসহ না.গঞ্জের আপামর জনগনের।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *