কৃত্রিম ডোবায় পড়ে হৃদয়য়ের মৃত্যু হলেও বলতে পারেনা কেউ গোদনাইলে অবশেষে মিললো শিশু হ্নদয়ের লাশ

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
নাসিক ১০ নং ওয়ার্ডে ড্রেজারের বালু সংরক্ষন করতে তৈরী করা একটি কৃত্রিম ডোবায় পড়ে হৃদয় নামে ৬ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হলেও প্রথম পর্যায়ে কেউ বলতে পারেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়। সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করলে এলাকাবাসী জানায়, এমন একটা কথা শুনেছে কিন্তু তারা দেখে নাই। থানায় জিজ্ঞাসা করলে জানায়, তারা জানেনা। সন্ধ্যা থেকে একটি ছেলে মারা গেছে কথা শুনা গেলেও পরবর্তীতে রাতে মিলল শিশু হ্নদয়ের লাশ। ঘটনাটি ঘটে নাসিক ১০নং ওয়ার্ডস্থ ২ নং ঢাকেশ্বরী রেইলাইনের পাশের দ্বিতীয় মাঠে কৃত্রিমভাবে তৈরী করা ডোবায়। ঘটনাটি গত শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটলেও জানাজানি হয় অনেক রাতে। এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিহতের পরিবারের সদস্যরা খোদ বলছেন হৃদয়কে ভূত-পেত্নী থাপ্পর দিয়েছে তার গালে পাঁচ আংগুলের চড়ের দাগও রয়েছে। এরপর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে ওই ডোবা নিয়ে আতংক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ রাস্তা তৈরীর অজুহাতে বানিজ্যিকভাবে এ ডোবা তৈরী করা হয়। এদিকে ছেলেকে হারিয়ে মা পাগল প্রায়। ছেলের শোকে তিনি বিছানায় পড়ে আছেন। ৩ ভাই ২ বোন, হৃদয় ছিলো সবার ছোট। নিহত হৃদয় নোয়াখালী জেলার মাইজদি থানার পুর্ব মাজরা গ্রামের কাশেম মিয়ার ছেলে। গোদনাইল ভুইয়াপাড়া এলাকায় শাজাহান মিয়াঁর ভাড়াটিয়া বাড়িতে পরিবারের সাথে থাকতো।
জানা গেছে, ২ নং ঢাকেশ্বরী রেইলাইন থেকে শুরু করে পাঠানতলী জৈনপুরী মাওলানা বাড়ি পর্যন্ত একটি রাস্তার মেরামত কাজের জন্য বালু স্তুপ করে রাখা হয়েছে। আর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ড্রেজার এর পাইপ দিয়ে বালু আনার জন্য ২ নং ঢাকেশ্বরী রেইলাইন সংলগ্ন মাঠের একপাশে বিশাল করে একটি ডোবা কাটা হয়। যেখানে পাইপ দিয়ে বালু এনে এই ডোবার মধ্যে প্রথমে সংরক্ষর করা হয়। ঘটনার দিন বিকেলে ওই ডোবার মধ্যে নেমে শিশুরা খেলাধুলা করছিলো। হঠাৎ ড্রেজারের পাইপের পানি ও বালুর চাপে হৃদয় তলিয়ে যায়। হৃদয়ের মা তাকে খুঁজতে এসে ডোবার পাশে তার সেন্ডেল ও গেঞ্জি পেলেও তাকে খুঁজে পাননি। তিনি অনেককে ডোবায় নেমে তার ছেলেকে খুঁজে বের করতে বললেও কেউ এগিয়ে আসনেনি। দীর্ঘ সময় পরে হৃদয়ের বাবা কাশেম এসে ওই ডোবায় নেমে হৃদয়কে উদ্ধার করে ভিক্টোরিয়া হাসপাতলে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাতেই হৃদয়কে পাঠানতলি কবরস্থানে দাফন করেন। এদিকে এ ঘটনার খবর গণমাধ্যমের কর্মীরা রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দেখতে পান মাঠের মধ্যে বালুর বিশাল ৩ টি স্তুপ ও অসংখ ড্রেজারের পাইপ মওজুদ রয়েছে। কিন্তু শনিবার দুপুরে ঘটনাটির আদ্যোপাান্ত জানতে ফের গণমাধ্যমের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। কিন্ত রাতের দৃশ্যপটের উল্টোচিত্র দেখতে পান। মাঠগুলি ফাঁকা, স্তুপকৃত বালু নেই। নেই ড্রেজারের পাইপের মওজুদ। তবে এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়রা কেউ কিছু বলতে রাজি হয়নি। অপরদিকে এ বিষয়টি জানতে নাসিক ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এরকম কোনো ঘটনার কথা জানেন না। মাঠ কেঠে ড্রেজারের মাঠি সংরক্ষনের বিষয়ে তিনি বলেন এটা রাস্তার কাজের জন্য তৈরী করা হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান পিপিএম-বার বলেন, এরকম কোনো ঘটনা তিনি জানেন না। কেউ কোনো অভিযোগ দিলে বিষয়টি তিনি দেখবেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *