নৌকাতেই তাদের ভরসা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়নের লালপুর ও পৌষার পুকুরপাড়সহ আশে পাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পথে জলাবদ্ধতায় একমাত্র চলাচলের মাধ্যম হয়ে উঠেছে নৌকা। নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি অন্যতম শিল্প অঞ্চল হচ্ছে ফতুল্লা সেখানে বৃষ্টি মৌসুম ছাড়াই এলাকাবাসীদের চলাচলের মাধ্যম হিসেবে নৌকা বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে ব্যবহার। এতে চরম ভোগান্তি ও দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে সাধারণ জনগন।কর্মস্থলে এমনকি জরুরী প্রয়োজনে কোথাও যেতে হলে নৌকা দিয়ে সড়ক পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। নৌকা ছাড়া চলাফেরা করার কোন বিকল্প নাই। নৌকায় উঠলেই দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া ২০ টাকা। এক মিনিটের পথ রিক্সা চালকদের তিন গুন ভাড়া দিতে চাইলেও রিক্সা চালকরা যেতে রাজি হচ্ছে না।জলাবদ্ধতা থেকে প্রতিকার চাচ্ছে তারা।
গতকাল রবিবার (১৩ জুন) সরেজমিনে গিয়ে লালপুর ও পৌষারপুকুরপাড়া এলাকার জলাবদ্ধতার এমন দৃশ্য দেখা যায়। ডিএনডি প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর মানুষ ভেবেছিল টানা কয়েকদিন বৃষ্টি আসলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। রাস্তা থেকে শুরু করে মানুষের ঘরে এখন পানি জমে রয়েছে। মনে হচ্ছে এই এলাকায় বন্যা হয়ে আছে। টিনের ঘর থেকে শুরু করে ৫তলা ভবনের মালিকরা জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ শিকার হচ্ছে। যাদের প্রাইভেট গাড়ি রয়েছে বাড়িতে না রেখে অন্য স্থানে রেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে নৌকায় চড়ে শুকনো স্থানে গিয়ে গাড়িতে উঠে তারা তাদের কর্মস্থলে যাচ্ছে। আর গরীব মানুষ নৌকা ভাড়া দিতে কষ্ট হবে বিধায় কোমড় পানি ভেঙ্গে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।অন্যদিকে ফতুল্লার লালপুরে সরকারী দলের তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়ি। তারা ওই এলাকায় বসবাস করেন। তারাও বাধ্য হয়ে নৌকা দিয়ে পাড় হচ্ছে। তবে বেশ কিছুদিন ধরে মানুষের দূর্ভোগ দেখেও স্থানীয় চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফর রহমান স্বপন জলাবদ্ধতা দূর করার কোন উদ্দ্যোগ গ্রহন করছে না বলে লালপুর ও পৌষারপুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দারা এমন অভিযোগ করেন। পৌষারপুকুরপাড়া এলাকার আফজাল মিয়া বলেন,অনেক বছর ধরেই আমরা জলাবদ্ধতায় ভোগছি।বৃষ্টি না হলেও পাইনিয়ার থেকে লালপুর পৌষারপুকুরপাড় এলাকায় পানিতে ডুবে থাকে।আগে পায়ের পাতা পরিমান থাকলেও এখন হাটু কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি।রিকশার রাস্তা হওয়া স্বত্তেও কোন রিকশা এই জায়গায় আসতে চায় না।এই সুযোগে কিছু নৌকা নিয়ে নেমেছে লোক।ভাড়া ২০ টাকা করে নিচ্ছে।বাধ্য হয়ে আমাদের এই নৌকা দিয়ে যেতে হচ্ছে।এখন আমাদের একটাই দাবী শামীম ওসমানের কাছে আমাদের এই জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রান দেওয়া হোক।আমরা অনেকটা হাপিয়ে উঠেছি এই জলাবদ্ধতায়। লালপুরের বাসিন্দা বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, জলাবদ্ধতার কথা বলার কিছু নাই। আমিও বাসা হতে বের হলে নৌকায় চড়ে পাড় হতে হচ্ছে। এ রাস্তায় কোন রিক্সা চলাচল করতে পারছে না। মটর দিয়েও পানি অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিএনডি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগে আমাদের এ দূর্ভোগ অবসান হওয়ার সম্ভবনা দেখছি না।
ফতুল্লা ছাত্রলীগের সভাপতি শরীফুল হক বলেন,ফতুল্লাবাসীর জন্য একটা লজ্জাজনক বিষয় হচ্ছে একই এলাকায় ৩জন চেয়ারম্যান থাকা স্বত্তেও মানুষ জলাবদ্ধতার ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।আপনেরা লক্ষ করলেই দেখতে পারবেন একই রোডে ১০০ মিটার দূরুত্বে বর্তমান ফতুল্লার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খন্দকার লূৎফর রহমান স্বপন,সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার ও বক্তাবলি চেয়ারম্যান এম শওকত আলী চাচার বাসা। তবুও এই এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতায় ভোগছে।আমরাও চাই এই জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই। উল্লেখ্য, ফতুল্লার লালপুর, পৌষারপুকুর পাড়, আলআমিন নগর, উত্তর ইসদাইর এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশ খাদ এলাকায় বসানো হয়েছে শক্তিশালী ৩টি মটর। কিন্তু প্রায়ই এই মটর বন্ধ রাখার অভিযোগ স্থানীয়দের। যদিও তা অস্বীকার করেছেন মটর পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা। তাদের দাবী দৈনিক ১৮ ঘন্টা মটর চালিয়েও পানি পুরোপুরি অপসারন করা সম্ভব হচ্ছে না। তার উপর দীর্ঘ সময় মটর চালিয়ে রাখার ফলে ত্রুটি দেখা দেয় মটর। এমন পরিস্থিতিতে কিভাবে এই সমস্যা থেকে উত্তরন ঘটবে তা অজানাই থেকে যাচ্ছে সকলের কাছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *