খালেদা জিয়ার জন্মসনদসহ নথিপত্র তলব

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট :

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে কী কী তথ্য আছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, পাসপোর্টসহ জন্মতারিখ সংক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে থাকা সব নথিপত্র তলব করেছেন আদালত।
আগামী দুই মাসের (৬০ কার্যদিবস) মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব, নির্বাচন কমিশন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি), পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডসহ সরকারের সংশ্লিষ্টদের এসব নথিপত্র দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিনের বিভিন্ন তারিখ ব্যবহার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছেন আদালত। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ নথিপত্র তলবের আদেশ দেন। আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার (১৩ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ আদেশ দেন।আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মামুন অর রশিদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার অরবিন্দ কুমার রায়। রিট শুনানিতে বিরোধিতা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। খালেদা জিয়ার জন্মদিনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথি সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিনের বিভিন্ন তারিখ ব্যবহার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ বিষয়ে যাবতীয় তথ্য আগামী ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিবসহ বিবাদীদের প্রতি এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।রিটকারী আইনজীবী জানান, খালেদা জিয়ার বিভিন্ন জন্মতারিখ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী মো. মামুন অর রশিদ। গত ৩১ মে যুবলীগ নেতা আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মামুন অর রশিদ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন। তিনি বলেন, রিট আবেদনে খালেদা জিয়ার পাঁচটি জন্মদিন ব্যবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তার এসএসসির নম্বরপত্রে জন্মতারিখ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬। বিবাহ নিবন্ধনে জন্মতারিখ লেখা রয়েছে আগস্ট ১৯৪৪। ২০০১ সালে নেয়া তার মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে জন্মতারিখ আগস্ট ১৯৪৬। চলতি বছরের মে মাসে তার করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে জন্মতারিখ লেখা আছে মে ১৯৪৬। এছাড়া জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট তিনি জন্মদিন পালন করেন।খালেদা জিয়ার জন্মদিনের এই বিভিন্ন তারিখ ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা নিয়েই রিটটি করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী নাহিদ সুলতান যুথি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার বলেন, ‘আদালত রিটের শুনানি শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পাসপোর্ট অধিদফতরে থাকা খালেদা জিয়ার নথিপত্র তলব করেছেন। জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টে জন্মদিন পালন করা খালেদা জিয়ার জন্মতারিখ বিভিন্ন নথিতে ভিন্ন কিনা বা সমন্বয়হীন কেন, মূলত তারই ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।এছাড়াও খালেদার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেয়া আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে রিট করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই যদি অবস্থা হয় তাহলে ১৫ আগস্ট মানুষের জন্মদিন পালন বাতিল ঘোষণা করা হোক।
শুনানির আগে অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি জানিয়েছিলেন, জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটটির শুনানির দিন আজ ধার্য করা হয়। তিনি আরও জানান, রিটে ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করায় তাকে কেন আইনের আওতায় আনা হবে নাএই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। এছাড়া খালেদা জিয়ার সব শিক্ষাগত যোগ্যতা জন্ম নিবন্ধনের সব নথি হাইকোর্টে দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, গুলশান থানার ওসি খালেদা জিয়াকে বিবাদী করা হয়


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *