রাজপথে নেই শীর্ষ দুই দলের রাজনীতিবিদরা

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট :

নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল  আওয়ামীলীগ দীর্ঘ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল  বিএনপি রাজপথে নেই। তারা যেন রাজপথ থেকে উধাও হয়ে গেছে।বর্তমান করোনাকালীন সময়ে মানুষ রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে সহানুভূতি আশা  করে।কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে নিজেরা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে ব্যস্ত।একে অপরকে ঘায়েল করতে কূট কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের।এদিকে মামলায় জর্জরিত বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে নিজেদের শক্তিশালী করতে বছরের প্রথম দিনেই জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি দিয়েছিল কেন্দ্র। মূলত জেলা বিএনপিকে শক্তিশালী করতে এই কমিটি দেয়া হয়েছিল। কমিটি ঘোষনার পর দুটি কর্মসূচীতে শহরে তাক লাগিয়েছিল জেলা বিএনপি। কিন্তু দুটি কর্মসূচীর সফল ভাবে পালনের পর ফের রাজপথে দেখা যাচ্ছে না জেলা বিএনপিকে। বরং একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে জেলা বিএনপি। সম্প্রতি জেলা বিএনপির আহবায়ক তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় কর্মী সভায় ছাত্র দলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়াও জেলা বিএনপির আওতাধীন ১০ ইউনিটের উপকমিটি নিয়ে বির্তক চলছে। মহানগর বিএনপির আওতাধীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটিও দিয়েছে জেলা বিএনপি। এছাড়াও কমিটির পদপদবী নিয়ে বানিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে তৈমূরের বিরুদ্ধে। এছাড়াও জেলা মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদলসহ বিএনপির সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা রাজপথে না নামায় নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন তো দুরের কথা মানববন্ধন করার মত অবস্থাও যেন নেই শীর্ষ নেতাদের। আন্দোলন সংগ্রাম না থাকায় বিএনপিকে ভুলে যেতে বসেছে নারায়ণগঞ্জবাসী দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিবেদক এর কাছে  এমনটাই মন্তব্য বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের। অবস্থা চলতে থাকলে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। তবে চলমান এই সংকট নিরসনে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে নতুন নেতৃত্ব ত্যাগীদের হাতে তুলে দেয়ার দাবী উঠেছে। ইতিমধ্যে মহানগর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর ছাত্রদল নেতারা মহানগর যুবদলের কমিটিতে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তৈমূরের মত তার ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদও পুনরায় মহানগর যুবদলের কর্তৃত্ব পেতে তৎপর রয়েছেন। তবে মহানগর যুবদলের কমিটি নিতে ব্যর্থ হলে পরবর্তিতে মহানগর বিএনপির কর্তৃত্ব দখলের চেষ্টা করবেন বলে জানাগেছে। জানাগেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির যে সমস্ত নেতাকর্মী  দলের হয়ে আন্দোলন কর্মসূচী সফল করতে মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল তারাই শত চেষ্টা করেও মাঠে টিকতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত একাধিক মামলার আসামী হয়ে রাজপথ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির অনেক নেতা আওয়ামী রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে পড়েছেন। দিন যতই যাচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আওয়ামীলীগে যোগদানের হিড়িক পড়ছে। আর সুযোগে নব্য আওয়ামীলীগারদের দাপটে কোনঠাসা প্রবীন আওয়ামীলীগাররা। সূত্রমতে, প্রায় ১৪ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাহিরে থাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। অগনিত মামলার আসামী হয়ে ফেরারী জীবন থেকে মুক্তি যাচ্ছেন তারা। যদিও বিএনপির এই দু:সময়ে একদিক নেতা নারায়ণগঞ্জে বিএনপির হারিয়ে যাওয়া সেই অবস্থান ফিরে পেতে গোপনে গোপনে নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু দলের সুবিধাবাদি নেতাদের জন্য তা সম্ভব হচ্ছে না। জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে আবুল কালাম আজাদের মত বিতর্কিত নেতা পদ পাওয়া নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। আর মহানগর বিএনপির নেতা শওকত হাশেম শকু, আতাউর রহমান মুকুল, হান্নান সরকারসহ অনেকেই রয়েছে যারা ক্ষমতাসীদের সাথে আতাঁত করে রাজনীতি করছেন। যার ফলে নতুন করে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েও ফের রাজপথ থেকে উধাও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতারা। এর পাশাপাশি আওয়ামীলীগ নেতাদেরও মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না। তারাও রাজপথ থেকে উধাও হয়ে গেছে


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *