প্রসঙ্গ: বিলুপ্তি হুক্কা এখনো হিন্দু সম্প্রদায়ে আংশিক ধরে রেখেছে না.গঞ্জের বন্দরে

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মনিকা আক্তার:
এক সময় অতিথি আপ্যায়ন এর অন্যতম উপকরণ ছিল পান-তামাক। তামাক দিয়ে পরিবেশনের সময় এগিয়ে দেয়া হত হুক্কা।সে সময় গ্রাম বাংলার মানুষরা বিড়ি-সিগারেট দেখতো না। তখন তাদের ধুমপানের একমাত্র সম্বল ছিল নারিকেল, কাঠ ও মাটির তৈরি কলকি দ্বার নির্মিত হুক্কা।বর্তমান এই হুক্কা বাংলা থেকে অনেকটা বিলুপ্তির পথে।নারায়ণগঞ্জ জেলার বেশ কিছু হিন্দু পরিবারে বিলুপ্তি হুক্কা আভিজাত্য কিছুটা ধরে রেখেছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দরের কাটপট্টি এলাকায় হিন্দু পরিবারগুলোতে এই হুক্কার ব্যবহার দেখা যায়। হুক্কা সেবনে প্রয়োজন হতো তামাক ও টিক্কা।এই অঞ্চলে তামাক নিয়ে আনে পর্তুগীজরা। তারাই এই অঞ্চলে ধূমপানের প্রচলন শুরু করে। আর হুক্কা দিয়ে ধূমপানের প্রচলন শুরু করে মোঘল রা। মনে করা হয় মোঘল এক চিকিৎসক হুক্কার আবিষ্কারক। মোঘল আমলে বাদশা-বেগম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ হুক্কা টেনেছে। হুক্কা একটি আরবী শব্দ। আরবে এটা সিসা বা নারগিলা বলে পরিচিত। ইরানে বলে গালয়ুন, উজবেকরা বলে সিলিম। বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক সিসা লাউঞ্জ গড়ে উঠেছে।সেখানে আপেল, আম, স্ট্রবেরী সহ বিভিন্ন স্বাদের সিসা পাওয়া যায়। ছবিতে যে নারিকেলের হুক্কাটা দেখতে পাচ্ছেন, ওটাই আসলে হুক্কা। নিচের অংশটা নারিকেলের , যেটাতে পানি থাকে, ও ধূয়া টানার জন্য একটি ছিদ্র থাকে, মধ্যের অংশটা কাঠের নল, উপরের ক্যাপটা হলো সিলিম বা কল্কি,সিলিমটার মাঝে সীসা বা মাটির এক টুকরা মার্বেল আকৃতির গোলক দেয়া হয় যাতে জ্বলা তামাক পড়ে না যায়।চিটা গুড়ের সাথে তামাক গুড়া মিশিয়ে মন্ড তৈরি করা হয়, মন্ডটা সিলিমে দেয়া হয়, তামাকের উপরে জ্বলন্ত টিকি (চারকোল) জ্বালিয়ে দেয়া হয়, তারপর নিচের নারিকেলের ছিদ্রে মুখ দিয়ে টান দিলে তামাক জ্বলে ধোঁয়াটা মুখে আসে সেই সীসা বা মাটির এক টুকরা মার্বেল আকৃতির গোলকের পাশ দিয়ে, আভিজাতদের হুক্কা দেখে কেউ কেউ নারিকেলের ছিদ্রে একটা বাঁশ বা নলখাগড়ার ছোট নল লাগান। হুক্কাতে টান দিলে বেশ সুন্দর একটি শব্দ তৈরি হয় ছবির এই হুক্কাটি গরীব লোকদের জন্য ছিলো আদিকালে। অভিজাত লোকেরা এই ধরনের হুক্কা ব্যবহার করতো না। তারা কারুকার্যময় হুক্কা ব্যবহার করেন। সাধারণত সেগুলো পিতলের থাকতো।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *