রূপগঞ্জে অবৈধ ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে রাস্তার বেহাল দশা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের রাস্তাগুলোতে অবৈধ ট্রাক্টরের বেপরোয়া গতিতে চলাচলে রাস্তার বেহাল দশা। ভোলাব ইউনিয়নের চারিতালুক,আতলাপুর,কুড়িয়াইল, দড়িচারিতালুক,পাইস্কা,বাসুন্দা,করাটিয়া,আঙ্গারজোড়া,পুবেরগাঁও,গুতুলিয়া,টাওরা,শিমুলিয়া,বাগুনের টেক, তেলরদি টেক,মৈশানির টেক,আব্বার টেকসহ বিভিন্ন রাস্তায় বালু, মাটি ও ইট বোঝাই এসব ট্রাক্টর চালাচ্ছে অদক্ষ চালকরা। এতে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানি ও অঙ্গহানিসহ মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা। এই রাস্তাগুলোতে রীতিমত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষকেও। একটি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি ব্রিক ফিল্ডের মাটি,ইট,বালু বহন করতে এসব ট্রাক্টর ব্যবহার করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। শুধু ভোলাব ইউনিয়ন নয় এসব ট্রাক্টর গ্রামীণ সড়কে যেমন অবিরত চলাচল করছে তেমনি মহাসড়কের উপর দিয়ে সমানতালে চলছে। এতে দুর্ঘটনার হার দিনকে দিন বেড়েই চলছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তাগুলোতে দিনরাত ২৪ ঘন্টা বালু,মাটি,ইট বোঝাই ট্রাক্টর চলাচল করায় রাস্তাগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ অবস্থায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ওইসব রাস্তায় পায়ে হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাগুলোতে চলাচলকারীদের মনে সবসময় অজানা এক আতংক বিরাজ করে, কখন যেন দুর্ঘটনার শিকার হন। এছাড়া টাক্টরের বিকট শব্দে শব্দ দূষণে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। এক সাথে ৪-৫টি ট্রাক্টর চললে রাস্তাগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীসহ পথচারীরা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কয়েক‘শ ট্রাক্টরের মাঝে বেশির ভাগই সরকারি রেজিস্ট্রেশন বা অনুমোদন ছাড়া। কিন্তু রহস্যজনক কারণে প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। চারিতালুক এলাকার আব্দুল ছামাদ জানান, ট্রাক্টরের ভয়ে রাস্তায় ঠিকমত যাতায়াত করা যায় না। রাস্তার পথচারী ছাড়াও ওইসব রাস্তায় চলাচলকারী ছোট যান রিকশা,ভ্যান,ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকগুলোকে ট্রাক্টরের জন্য রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ভোলাব এলাকার মনির হোসেন বলেন, অনভিজ্ঞ ও কম বয়সী চালকেরা পাল্লা দিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে নানা রকম দুর্ঘটনা সম্মুখীন হচ্ছে। এর সাথে আমরা যারা রাস্তা দিয়ে চলাচল করি সবাই তাদের ভয়ে চলাচল করতে গিয়ে আতঙ্কে থাকি। এ ব্যাপারে ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, ট্রাক্টর আগে অনেক বেশি ছিল। তবে আগের তুলনায় এখন অনেকটা কম। কয়েক বছর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও স্যারের অভিযানে কমেছিল। কিন্তু নতুন ইউএনও স্যারের কাছে বলা হয়েছে এখনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ নুসরাত জাহান জানান, অনুমোদনহীন যান বা রাস্তার ক্ষতি হয় এমন যান রাস্তায় চলাচল করতে দেয়া হবে না। শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *