মায়ের আত্মহত্যার কারণ খুঁজে পাচ্ছেনা পুলিশ

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
ছেলেকে হত্যার পর নিজের আত্মহত্যা করার কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ এখন পর্যন্ত ধারণা করছেন, ‘নিজেই ছেলেকে হত্যার পর অনুশোচনা থেকে আত্মহত্যা করেছে নারী’। তবে, এ হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার পিছনে তৃতীয় কেউ আছে কী না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গত ৩০ মে সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি নতুন মহল্লা এলাকায় নিজ ঘর থেকে নাজমুছ সাকিব নাবিল (২০) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত যুবকের পিতা ছগির আহমেদ বাদী হয়ে স্ত্রী নাসরিন আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। পরদিন ৩১ মে নরসিংদী সদরের বাজিরমোড়ের নিরালা নামক আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে নাবিলের মা নাছরিন আক্তারেরও ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
নাবিলের বাবা ছগির আহমেদ জানান, ‘তাঁর স্ত্রী নাসরিন আক্তার মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। মাঝেমধ্যে তাঁর স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। ছেলে নাবিলকে বিয়ে দেওয়ার পর থেকে ছেলেবউয়ের সঙ্গে প্রায়ই তাঁর মনোমালিন্য হতো। ঘটনার দিন ছেলের বউ তাঁর বাবার বাড়িতে ছিলেন। মা ও ছেলেই বাড়িতে ছিলেন। রাতে বাড়িতে ফিরে ঘরে তালা দেখতে পান। পরে ডুবলিকেট চাবি দিয়ে তালা খুলে দেখেন ছেলের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে।’
এদিকে, এক দিন পরই নরসিংদীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে স্ত্রী নাসরিন আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার পরে পুলিশ।
সিসি টিভি ফুটেজ ও হোটেল কর্তৃপক্ষের বরাদ দিয়ে নরসিংদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান জানান, ৩০ মে ৭টার দিকে ওই নারী গাজীপুর থেকে এসেছেন জানিয়ে একাই হোটেল ভাড়া নিয়েছেন। ৩১ মে সকালে সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজায় অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেন হোটেলটির কর্মচারীরা। পরে নরসিংদী মডেল থানার জানালে দুপুরে ভিতর থেকে আটকানো দরোজা ভেঙে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। পরিবারের লোকজন এসে সেই নারীর লাশ নিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত যে তথ্য প্রমান রয়েছে, তাতে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
একই কথা জানিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, নাসরিন আক্তার মানুসিক রোগী ছিলেন। মাঝে মধ্যেই জ্ঞানহীন হয়ে পরতেন। আমরা ধারণা করছি, সে জ্ঞানহীন অবস্থায় ছেলেকে প্রথমে পাথর (মসলা পিশার শিল) দিয়ে আঘাত, পরে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। পরে যখন জ্ঞান ফিরেছে, তখন হয়তো অনুশোচনা থেকে নরসিংদীতে গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে, তৃতীয় কোন ব্যক্তি জড়িত ছিল কী না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *