নাসিক মেয়র আইভীর ৫৫তম জন্মদিন আজ

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বারবার নির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ৫৫তম জন্মদিন আজ শনিবার। ১৯৬৬ সালের ৫ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে জন্ম তার। মা মমতাজ বেগম ও বাবা সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকার পাঁচ সন্তানের মধ্যে আইভী প্রথম।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আহাম্মদ চুনকা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি। রাজনীতিক বাবার সান্নিধ্যে সেই শৈশব থেকেই মানুষের প্রতি তার গভীর মমতা ও ভালবাসা তৈরি হয়। বাবার মতোই তিনি অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী। বলা হয়ে থাকে, একজন রাজনৈতিক নেতার স্বপ্নের সাথে যখন অগণিত মানুষের স্বপ্ন মিশে যায়, তার চিন্তা কর্মের মাঝে যখন মানুষ আশার আলো দেখতে পায়, তখনই তিনি গণমানুষের নেতা হয়ে উঠেন। চিকিৎসক থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া মেয়র আইভীও নারায়ণগঞ্জের গণমানুষের নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
দেওভোগ আখড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করে তিনি নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরি স্কুলে ভর্তি হন। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত সেখানেই লেখাপড়া করেন। এরপর তিনি ঐতিহ্যবাহী মর্গ্যাণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৭৯ সালে ট্যালেন্টপুলে জুনিয়র স্কলারশিপ পান। ১৯৮২ সালে এসএসসি ও ১৯৮৪ সালে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ১৯৮৫ সালে রাশিয়া সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে শিক্ষা গ্রহণের জন্য ওডেসা পিরাগোভ মেডিকেল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ১৯৯২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে ডক্টর অব মেডিসিন ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ১৯৯২-৯৩ সালে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে ইন্টার্ন সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯৩-৯৪ সালে মিটফোর্ড হাসপাতালে এবং ১৯৯৪-৯৫ সালে নারায়ণগঞ্জের ১০০ শয্যা হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) অনারারি চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন।
ডা. আইভী ১৯৯৫ সালে বিয়ের পর কম্পিউটার প্রোগ্রামার স্বামী রাজবাড়ীর কাজী আহসান হায়াৎ এর সাথে পাড়ি জমান নিউজিল্যান্ডে। সেখানে তিনি মেডিকেল ল্যাবরেটরি সায়েন্সের ওপর পড়াশোনা করেন। পারিবারিক জীবনে তিনি কাজী সাদমান হায়াৎ সীমান্ত ও কাজী সাদরিল হায়াৎ অনন্ত নামের দুই পুত্র সন্তানের জননী। তিনি ২০০২ সালে দেশে ফিরে আসেন।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী স্কুল ও কলেজ জীবন হতে বাবার সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতেন। ১৯৯৩ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনের মাত্র ১৭ দিন আগে নিউজিল্যান্ড থেকে এনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়। নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। ২০০৩ সালে অনুষ্ঠিত পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত ঘটে। তিনি শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শামীম ওসমানকে হারিয়ে আইভী দেশের প্রথম নারী মেয়র হন। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি করা হয় তাকে। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন আইভী।
প্রথমবারের মতো ২০১৬ সালের ২২ জুন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে উপমন্ত্রীর পদমর্যাদা দেয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হলে ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর থেকে তিনি উপমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করছেন। এশিয়ার প্রভাবশালী নারী মেয়রদের তালিকায়ও এসেছে তার নাম। ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য এশিয়ানে প্রকাশিত এশিয়ার ২০ নারী মেয়রের তালিকায় আইভী সপ্তম প্রভাবশালী নারী মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *