সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক নির্যাতন, থানায় অভিযোগ

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এক কিশোরীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলী মধ্যপাড়া এলাকার মো: আলী হোসেনের ছেলে মো: সোহেলের (৩০) বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার (১ জুন) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এসে ভুক্তভোগীর ভাই নূর আলম (২২) বাদী হয়ে এই অভিযাগটি দায়ের করেন।
ভূক্তভোগী কিশোরীর ভাইয়ের অভিযোগ, আমার বোন কদমতলী মধ্যপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত মো: সোহেলদের বাসায় ভাড়া থাকতো। ভাড়া থাকাবস্থায় ওই কিশোরী আদমজী ইপিজেডের একটি কোম্পানিতে কাজ করতো। সেই সুবাদে অভিযুক্ত সোহেলের সাথে আমার বোনের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠার পর সোহেল ওই কিশোরীকে নিয়ে বিভিন্ন যায়গায় ঘুরাঘুরি করতো। বিষয়টি জানাজানি হলে আমরা আমাদের বোনকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেই।
তিনি আরও বলেন, বোনকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার পরও অভিযুক্ত সোহেল আমার বোনের পিছু ছাড়েনি। তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিভিন্ন ভাবে ফুসলিয়ে তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে। এক পর্যায়ে আমার বোন অভিযুক্ত সোহেলকে বিয়ে করার কথা বললে সে আমার বোনকে এড়িয়ে চলে। পরবর্তীতে আমার বোন তাদের বাড়িতে গেলে অভিযুক্ত সোহেলসহ তাঁর পরিবারের লোকজন মিলে আমার বোনকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বিগত এক বছর যাবৎ অভিযুক্ত সোহেল ও তার পরিবারের লোকজন আমার বোনের উপর অমানসিক নির্যাতন চালায়। অভিযুক্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের এই নির্যাতনে আমার বোন এখন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে রাস্থায় রাস্থায় ঘুরে বেড়ায়।
এদিকে ঘটনাস্থলে গেলে জানাজায়, ভূক্তভোগী কিশোরীর সাথে অভিযুক্ত সোহেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। তারা বিভিন্ন সময় মোটরসাইকেলযোগে ঘুরতে যেতো। নির্যাতনের স্বীকার কিশোরী অভিযুক্ত সোহেলদের ভাড়া বাসায় বসবাস করতো বলে জানান এলাকাবাসী। এলাকার মানুষের ভাষ্য একটা ভালো মেয়ে হঠাৎ করে এমন অস্বাভাবিক আচরণ করছে কেনো?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার স্থানীয় এক নারী জানান, ভূক্তভোগী কিশোরী কিছুদিন পূর্বেও ভালো ছিলো। তার সাথে সোহেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। আমি প্রায় সময়ই ভোরে ওই বাসা থেকে কিশোরীর কান্নার শব্দ শুনতে পেতাম। সোহেল ও তার পরিবার মিলে এই মেয়েকে মারধর করতো। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পর্যন্ত পায়না।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, ভূক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *