রূপগঞ্জে যুবলীগকর্মীকে ইট দিয়ে মাথা থেতলে ও কুপিয়ে হত্যা

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দ্বন্ধকে কেন্দ্র করেই চেয়ারম্যান সমর্থকরা সোলমান (৩০) নামে এক যুবলীগ কর্মীকে ইট দিয়ে মাথা থেতলে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
প্রকাশ্যে দিবালোকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার (১ জুন) উপজেলার তারাব পৌরসভার গন্ধর্বপুর নামাপাড়া এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত সোলমান উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকার মজিদ শিকদারের ছেলে। তিনি মুড়াপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগকর্মী ছিলেন বলে দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শী, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মুড়াপাড়াসহ আশ-পাশের এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছসহ চেয়ারম্যান সমর্থকদের সঙ্গে যুবলীগ কর্মী সোলায়মানসহ তার সমর্থকদের দীর্ঘ দিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিলো।
চেয়ারম্যান সমর্থকদের সঙ্গে সোলায়মান গ্রুপের প্রায় সময়ই মাছিমপুর, মীরকুটিরছেও, নাসিংগলসহ বিভিন্ন স্থানে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, হামলা, ভাংচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। সর্বশেষ গত ২৮ মে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে মাছিমপুর এলাকায় চেয়ারম্যান সমর্থকদের সঙ্গে সোলায়মানসহ মোহাম্মদ আলী, রিয়াজ, সেলিম, সবুজসহ তাদের লোকজনের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটে।
ওই সময় বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করা হয়। এসময় চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছ বাদী হয়ে নিহত সোলমানসহ ২৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দিন রাতে ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেন রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।
এ ঘটনার পর (পহেলা জুন) মঙ্গলবার দুপুরে নার্সিংগল এলাকার মাছের খামারে খাবার দিচ্ছিলো যুবলীগ কর্মী সোলায়মান। এসময় সোলমানকে মাছের খামার থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে গন্ধর্বপুর নামাপাড়া এলাকায় নিয়ে আসা হয়। এসময় চেয়ারম্যান তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছ সমর্থকরা প্রকাশ্যে দিবালোকে ইট দিয়ে থেতলে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বলে দাবি করেন নিহতের ভাই রাজিব মিয়াসহ পরিবারের সদস্যরা।
হত্যাকান্ডের পর মসজিদের মাইক দিয়ে ডাকাত পড়েছে বললে এলাকাবাসী লাঠিসোঠা নিয়ে এসে দেখতে পান সোলমানকে হত্যা করা হয়েছে। এসময় সোলমানের কয়েক জন ব্যক্তি সোলমানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, এ হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্কে ঘটনাস্থলসহ আশ-পাশের এলাকার মানুষ ঘরে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র চলে যায়। হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, মুড়াপাড়া ইউনিয়নে একের পর এক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটলেও আসামীরা অদৃশ্য ক্ষমতার বলে পার পেয়ে যায়। আর পার পেয়ে যায় বলেই এখানে একের পর এক হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটছে। বেশিরভাগই হত্যাকান্ডের মূলেই রয়েছে আধিপত্যে কারণ।
এ বিষয়ে জানতে মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহাম্মেদ আলমাছের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, নিহত সোলমানের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *