স্বপন মন্ডলের কেক কাটা ছবি ভাইরাল #রয়েছে মহানগর যুবদল সহ-সভাপতি কিবরিয়া

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
আবারো ভাইরাল হয়েছে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ না.গঞ্জ মহানগরের সভাপতি আ’লীগ পরিচয়দানকারী গোদনাইল এসও এলাকার চোরাই তেল চক্রের হোতা একাধিক মামলার স্বপন মন্ডলের কেক কাটার ছবি। এই কেক কাটার ছবিটি গত বছরের ১৬ই আগষ্টের। ছবিতে রয়েছে মহানগর যুবদলের সহ-সভাপতি কিবরিয়া, রয়েছে বর্তমান সময়ে হেফাজতের মামলার অন্যতম আসামী মিলন। তাই ছবিটি বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের মোবাইলে মোবাইলে। কেন ছবিটি বর্তমানে আলোচনায় ও ভাইরাল হলো তা খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, একদিকে ১৬ আগষ্ট অপরদিকে বিএনপি যুবদলের নেতাদের নিয়ে কেক কাটার ছবি। তাতে অনেকের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সেই প্রশ্ন হলো, স্বপন মন্ডল যদি আ’লীগের শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ না.গঞ্জ মহানগরের দায়িত্বশীল নেতা হয়ে থাকেন তাহলে তিনি যুবদলের পদধারী দায়িত্বশীল নেতা কিবরিয়ার সাথে কিভাবে এক টেবিলে বসে কেক কাটতে পারেন। তাও আবার আগষ্ট শোকের মাসে। এই মাসের ১৫ আগষ্টকে আ’লীগ জাতীয় শোক দিবস পালন করে আর বিএনপি যুবদল নেতারা বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন হিসাবে পালন করে থাকেন। যুবদল নেতাকে নিয়ে স্বপন মন্ডল তো শোক দিবস পালন করছেন না। কারন, শোক দিবসে তো আর কেক কাটা হয়না। তাহলে আর বুঝতে বাকি নেই স্বপন মন্ডল যুবদল নেতা কিবরিয়াকে নিয়ে কি অনুষ্টান পালন করতে কেক কাটছেন। আর এই জন্যই হয়তো ছবিটি ভাইরাল হয়েছে। এদিকে ভাইরাল হওয়া আ’লীগ পরিচয়দানকারী স্বপন মন্ডল, যুবদল নেতা কিবরিয়া, হেফাজতের মামলার আসামীর ছবি সিদ্ধিরগঞ্জে সকলের মোবাইলে ছড়ি পড়লে নড়েচড়ে বসে যুবদল নেতা কিবরিয়া ও আ’লীগার স্বপন মন্ডল। তারা খবর পেয়ে ছবিটি মুখে ফেলার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনুরোধ করেন বলেও অনেকে তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান। স্বপন মন্ডল যে আ’লীগের ভিতরে বিএনপি’র এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন এই ধরনের অভিযোগ অনেক পুরোনো ছিলো। স্বপন মন্ডল যে জামাতের অর্থ যোগান দাতা এই অভিযোগও অনেক পুরোনো। এখনো স্থানীয় বিএনপি’র অনেক নেতারা প্রকাশ্যে বলেন, স্বপন মন্ডল যেখানে প্রকাশ্যে বলে বেড়াতো তার অর্থ দিয়েই বিএনপি’র বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেমন জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী, বেগম জিয়ার জন্মবার্ষিকী ইত্যাদি পালিত হয়, এই স্বপন মন্ডল আবার আবার আ’লীগের নেতা পরিচয় দেয়। স্বপন মন্ডলের বড় ভাই এসএম আসলাম মহানগর শ্রমিকদলের সভাপতি। সাবেক সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি’র কমিটির যুগ্ন আহবায়ক। সেই সুবাদে স্বপন মন্ডলের দরদ বিএনপি’র প্রতি একটু বেশী। সে নিজেকে বর্তমানে আ’লীগ নেতা পরিচয় দিলেও প্রকৃত পক্ষে তারা চলাফেরা উঠা-বসা বেশী বিএনপির সাথেই।
উল্লেখ্য, স্বপন মন্ডল যার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামাতের পৃষ্টপোষকের অভিযোগ উঠেছিলো অনেক আগে। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার তদন্তও হয়েছে। রয়েছে একাধিক মামলা। নব্য আ’লীগার স্বপন মন্ডল নাশকতা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী । স্বপনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) ফয়সাল আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। যার নাম্বার ১৬। তারিখ ১০/১০/২০১৮র্ই। বিশেষ ক্ষমতা আইনে এই মামলায় হাজী স্বপন মন্ডলকে ৫০নাম্বার আসামী উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল মেঘনা শাখার সভাপতি আশরাফ উদ্দিন বাদী হয়ে মারামারির মামলা দায়ের করেন। যুবলীগ নেতা পানি আক্তারের বাড়ীতে দলবল নিয়ে হামলা, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের কারনে ১৬জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। যার মধ্যে স্বপন মন্ডলকেও আসামী করা হয়েছে। স্বপন মন্ডলের বিরুদ্ধে চোরাই তেলের হোতা হিসাবেও মামলা রয়েছে। এই সকল মামলা থেকে নিজের পিঠ বাচাতে এবং অন্যান্য নেতাদের হেফাজত করতেই স্বপন মন্ডল আ’লীগে প্রবেশ করে। তাই বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলতে গিয়ে স্বপন মন্ডল প্রায় বলে থাকে, কি করমু, একে এক ১০/১২টা মামলার খাইছি। কিছু না করেও মামলার আসামী হই। তাইতো আ’লীগে আইছি। তার এই কথাই সত্যি। আর তাইতো আ’লীগে আসলেও তার সেই পুরোনো বিএনপি’র দরদ রয়েই গেছে। যার প্রমান বিএনপি ও হেফাজতের আসামীদের সাথে স্বপন মন্ডলের কেক কাটার ছবি।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *