রূপগঞ্জে মুশুরী-কাঞ্চন ব্রিজ সড়কে খানাখন্দে ভোগান্তি # ৪ কিলোমিটার সড়কে শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
রূপগঞ্জ উপজেলায় এলজিইডির অধীনে থাকা প্রায় সবক’টি সড়কেরই বেহাল দশা। বর্ষা এলে কাঁদা পানি, খানাখন্দ আর গর্তের ভোগান্তি। বাকি সময়ে ধুলোবালি আর ভাঙাচোরা সড়কে হয়রানি। শীতলক্ষ্যার পূর্বপাড়ের রূপসী কাঞ্চন সড়কের মেরামত কাজ চলমান থাকলেও পশ্চিমপাড়ের ডেমড়া কালীগঞ্জ সড়কের অধীনে মুশুরী থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কে রয়েছে শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ গর্ত।
এদিকে কর্তৃপক্ষ দায় চাপাচ্ছে স্থানীয় বালুমহাল ও কলকারখানার পণ্যবাহী ভারী যান চলাচলকে। আর স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাথরবাহী ভারী লরি ও ট্রাক চলাচল করে এ সড়ককে অচল করে দিলেও নেই কোনো মেরামতের উদ্যোগ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যার পশ্চিমপাড় দিয়ে রাজধানীর ডেমরা থেকে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া, রূপগঞ্জ সদর ও দাউদপুর ইউনিয়নের ওপর দিয়ে গড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য একটি সড়ক রয়েছে।
স্থানীয়দের উপজেলা সদর, থানা পুলিশের সেবা, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবাসহ সরকারি-বেসরকারি নানা সেবা নিতে একমাত্র সড়ক এটি। অথচ সড়কটি দীর্ঘ বছর যাবত খানাখন্দ ও বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়লেও সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
রাতের আঁধারে মালবাহী ভারী যান চলাচল করায় সড়কটির মুশুরী থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ৪ কিলোমিটারে শতাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে সামান্য বৃষ্টি হলেই জমে থাকে পানি আর কাঁদা মাটি। তাই যানবাহন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা।
তাদের দাবি, কোনো যানবাহন এ সড়কে যেতে রাজি হয় না। আর যাওয়ার মতো উপযোগী সড়কও নয় এটি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলরত যানবাহন ও সাধারণ লোকজন। আর ভোগান্তির শেষ নেই রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হতে আসা রোগীদেরও।
সূত্র জানায়, এ সড়কের পাশে ১৫টি বৃহৎ শিল্পকারখানা ও আরো ২০টি ক্ষুদ্র কারখানাসহ দু’টি বালুমহাল রয়েছে। এছাড়া মুড়াপাড়া ও কাঞ্চনের হাট নামে ব্যস্ততম দু’টি হাটে পণ্যবহন ও ক্রেতা বিক্রেতার আনাগোনায় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে মালবাহী ভারী যান চলাচল করে বেহাল দশায় পরিণত করেছে। ফলে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে ঘুরে আরও জানা যায়, সম্প্রতি ডেমরা কালীগঞ্জ সড়কের কাঞ্চন ব্রিজ থেকে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত উভয় পাশে ৩ ফুট করে প্রশস্তকরণ কাজ চলছে। কিন্তু একই সড়কের ভিংরাব এলাকার ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ সড়কের পাড় ধসে পাশের পুকুর ও ধানী জমিতে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল হক ঝিনু ভূঁইয়া বলেন, সড়কগুলো মেরামত না করায় আমরা গতিহীন হয়ে পড়েছি। বারবার জানানো হলেও দীর্ঘদিন যাবত প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অথচ এ সড়কটি এখন বন্ধ হয়ে গেল প্রায়। দু’একটা ভারী যান ছাড়া সাধারণ গাড়ির চলাচল কমে গেছে।
স্থানীয় সিএনজিচালক মধুখালী এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, এমনিতেই করোনাকালে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালিয়ে আয়-উপার্জন করতে পারি না। তার ওপর এ সড়কটি অচল প্রায়। কবে কাজ শুরু হবে আর কবে ভোগান্তি দূর হবে তা জানা নেই। ফলে আমার মতো শতাধিক গাড়িচালক অসহায় দিন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
মুশুরী এলাকার বাসিন্দা তানভীর আহমেদ ফয়সাল বলেন, এ সড়কে ইট, বালু ও পাথর বহন করায় সড়কটির স্থায়িত্ব রক্ষা করা যাচ্ছে না। সংস্কার করলেও ৬ মাস না যেতেই ভেঙে যায়।
রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ছালাউদ্দিন বলেন, এ এলাকার রাস্তাঘাট হালকা যান চলাচলের জন্য নির্মাণ করলেও স্থানীয় ইটভাটা মালিকদের ইছামতো ইটবহনকারী ট্রাক চলাচল করায় রাস্তাঘাট ভেঙে যায়। ফলে স্থায়ীভাবে বড় অংকের বরাদ্দ প্রয়োজন।
এসব বিষয়ে এলজিইডি বিভাগের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, রূপসী-কাঞ্চন সড়কটি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির অর্থায়নে ৪ লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান। শীতলক্ষ্যার পশ্চিমপাড় এলাকার ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়কের পূর্বাচল উপশহর ৪ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশে ৩ ফুট করে প্রশস্তকরণ কাজ দ্রুত শুরু হবে। যার দাপ্তরিক কাজ চলমান রয়েছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *