বাংলাদেশ পুলিশের মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইজি হাবিবুর রহমান

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট :
বাংলাদেশ পুলিশের উজ্জল নক্ষত্র ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান পিপিএম বার। নানা গুনে গুনান্বিত তিনি। চাকুরি জীবনে পুলিশের গুরুত্বপূর্ন পদে নিষ্ঠা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করারও অনেক উদাহরন রয়েছে তাঁর। একই সাথে ডিআইজি হাবিবুর রহমান উত্তরন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোক্তা এবং সভাপতি, বেদে সম্প্রদায়ের আলোর দিশারী, সুবিধা বঞ্চিত হিজড়াদের জীবন মান উন্নয়নের কারিগর, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার স্বান্তনার অবলম্বন, যৌনপল্লীর শিশুদের শিক্ষিত করার পদক্ষেপ গ্রহনকারী, কতো নামেই না ডাকা হয় তাকে। তবে যে নামেই ডাকা হোক না কেন সর্বোপরি তিনি মানবতার সেবায় একজন নিবেদিত প্রান। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ হাবিবুর রহমান। পুলিশ সম্পর্কে সাধারন মানুষের নেতিবাচক ধারনা পাল্টে দিয়ে তিনি মানব সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। হাবিবুর রহমানের বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর অবদান ও ঢাকায় তাদের প্রথম প্রতিরোধ বিষয়ক ঘটনা নিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ’ নামের একটি বই লিখেছেন।
১৯৬৭ সালের ১ লা জানুয়ারী গোপালগঞ্জের চন্দ্রদীঘলিয়া গ্রামে তার জন্ম। শিক্ষা জীবনে প্রতিটি ধাপ সফলতার সাথে পার করে ১৯৯৮ সালের ২২ শে ফেব্রুয়ারী ১৭ তম বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। অতঃপর আরএমপিতে সহকারী পুলিশ সুপার, জাতিসংঘ শান্তি মিশন শেষে ২০০৯ সালে ডিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার এবং ২০১১ সালে ঢাকার পুলিশ সুপার। বর্তমানে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন হাবিবুর রহমান। কর্ম জীবনে তার সফলতার পাল্লা অনেকটাই ভারী। হাবিবুর রহমান ২ বার প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক (পিপিএম) এবং ৩ বার বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এ ভুষিত হন। গুরুত্বপূর্ন মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রন, দক্ষতা, কর্তব্য নিষ্ঠা, সততা, সেবা, সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ন কর্মের জন্য তার সুনাম আকাশ চুম্বী। কিন্তু তিনি নিজেকে কর্মের গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন সাধারনের সেবায়। গড়ে তুলেছেন উত্তরন ফাউন্ডেশন নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমেই হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিয়ে আসা হচ্ছে আলোর পথে। ঢাকার আশুলিয়া, আমিন বাজার ও বি-বাড়ীয়ায় হিজড়াদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে ৩ টি বিউটি পার্লার। ডিআইজি হাবিবুর রহমানের উদ্যোগে তারা মূল পেশা থেকে দূরে সরে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়ে আত্মবিশ্বাসী  হয়ে উঠেছে। হিজরা সমাজের সঠিক ও বৈধ ভাবে অর্থ উপার্জনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বাদ যায়নি বেদে সম্প্রদায়। ঝাড়ফুঁক, ব্যথা নিরাময়ের জন্য সিঙ্গা লাগানো, দাঁতের পোকা ফেলানোর নামে প্রতারণা আর সাপ খেলা দেখিয়ে যে আয় হতো তা দিয়েই সংসার চালাতেন সাভারের বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন। এ সম্পদায়ের নারী সদস্যরাই মূলত গ্রামে গ্রামে ঘুরে উপার্জন করতেন। আর কর্মক্ষম পুরুষদের বেশিরভাগই জড়িত ছিলেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে। পুরুষ সদস্যদের কেউ কেউ আবার সন্তান লালন-পালন করে অলস সময় কাটাতেন। বছরের পর বছর এ চিত্র ছিল সাভারের বেদে পল্লীতে। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত সেই বেদে পল্লীতে দিন বদলের ছোঁয়া লেগেছে। গড়ে উঠেছে স্কুল, কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, গাড়ী চালনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বুটিক হাউসসহ নানা প্রতিষ্ঠান। কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক হাজার নারী-পুরুষের। পূর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে তারা এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। এছাড়াও তিনি একটি কথাই বলেছেন, অর্থের অভাবে তারা যদি মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তাহলে সেই মেয়ের সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত তার পড়াশোনার খরচ ও বিয়ের খরচ তিনি ব্যবস্থা করে দিবেন। ঢাকার অদূরে সাভারের বংশী নদীর তীরের বেদে পল্লীর প্রায় ২০ হাজার বেদের জীবন মান পাল্টে গেছে তাঁর উদ্যোগে। তাদের সন্তানদের জন্য মুন্সীগঞ্জে গড়ে তোলা হয়েছে শিক্ষালয়।বেদেরা ভালোবেসে ডিআইজি হাবিবুর রহমানের নামে তাদের এলাকায় একটি মসজিদ নির্মান করেন। তার নজর এড়ায়নি যৌনপল্লীর অন্ধকারে থাকা শিশুরাও। তিনি প্রথম এদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহন করেন। মানব ইতিহাসে যা বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি সম্পূর্ন ব্যক্তিগত অর্থায়নে অনেক দুস্থ এবং অসহায় মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। সমাজসেবায় মনোনিবেশ থাকলেও তিনি তার পুলিশ বাহিনীর আইকন ও রোল মডেল। মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগ  তুলে ধরতে তার উদ্যোগে ২০১৩ সালের ২৪ শে মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ পুলিশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। তার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় পুলিশ ব্লাড ব্যাংক। ডিআইজি হাবিবুর রহমান যথেষ্ট সংস্কৃতিমনা ও খেলাধুলা প্রেমীও বটে। তিনি বঙ্গোপসাগরের দূষণ নিয়ে বাংলা ভাষায় একটি ছবি পরিচালনা করেন। তিনি জাকার্তায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের আসরে এশিয়ান কাবাডি ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিআইজি হাবিবুর রহমানের কর্মজীবন এবং ব্যক্তিজীবনে জনকল্যানের অসামান্য দৃষ্টান্ত সামান্য কথায় তুলে ধরা সম্ভব না হলেও তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে শর্টফিল্ম। গাওয়া হয়েছে গান। বলা চলে তার উদ্যমে পুলিশের প্রতি জনগনের আস্থা শূন্যের কোঠা থেকে আবার ফিরে এসেছে। ডিএমপি কমিশনারের পদটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদগুলোর মধ্যে একটি। তাই সমাজের সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে আলোর মুখ দেখা সুবিধা বঞ্চিতদের প্রত্যাশা সমাজ বদলের কারিগর এবং মানবতার ইতিহাসে কালজয়ী সত্ত্বা ‘ক্লিন ইমেজ’ ও ‘ডেকোরেটেড অফিসার’ ডিআইজি হাবিবুর রহমানই একদিন ডিএমপির কমিশনার হবেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *