ফতুল্লার শীর্ষ পরিবহন চাঁদাবাজ অটো আইজ্জা অধরা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজীর অভিযোগে জেলার বিভিন্ন সড়কের বহু সংখ্যক পরিবহন চাঁদাবাজ জেলা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেও রহস্যজনক কারণে ফতুল্লাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় পরিবহন চাঁদাবাজ আজিজুল ওরফে অটো আইজ্জা রয়ে গেছে ধরা ছোয়ার বাইরে। সর্বশেষ ২৮ মে বুধবার ফতুল্লা থানা পুলিশের অভিযানে আইজ্জা সহযোগি হুমায়ন নামক এক চাঁদাবাজ গ্রেফতার হয়।
ফতুল্লাঞ্চলের শির্ষস্থানীয় চাঁদাবাজ আজিজুল ওরফে অটো আইজ্জার বিষয়ে জেলা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে।জেলা আইন- শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।আজিজুল ওরফে অটো আজিজের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ না খুললেও তাকে গ্রেফতারের দাবী করেছেন ফতুল্লাঞ্চলের অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকরা।
জেলার আইন- শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে জেলার বিভিন্ন স্থানের সড়ক পরিবহন চাঁদাবাজরা গ্রেফতার হচ্ছে কেউ কেউ গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।সড়ক পরিবহন চাঁদাবাজদের মনে ভয়ের কাপুনি ধরিয়ে দিয়েছে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।কিন্ত ফতুল্লাঞ্চলের শির্ষস্থানীয় চাঁদাবাজ আজিজুল ওরফে অটো আজিজ বীরদর্পে কৌশল অবলম্বন করে তার নিয়োজিত লোকজনের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে আসছে।
নির্ভরযোগ্য একাধিক তথ্য মতে,ইজিবাইক ও অটোরিক্সা চাঁদাবাজ হিসেবে আজিজুল ওরফে অটো আইজ্জার নাম প্রচার পেলেও প্রভাবশালী এক শ্রমিক নেতার হয়েই আজিজুল ওরফে অটো আইজ্জা এ চাঁদাবাজী করে থাকে।তবে মুখ ফুটে কেউ বলার সাহস করেনা।সূত্রটির দাবী, ইজিবাইক ও অটোরিক্সার চাঁদাবাজি থেকে বছর শেষে অর্ধ কোটি টাকারও বেশী যে টাকা বা চাঁদা উত্তোলন হয় তার বিশাল একটি অংশ জমা হয় প্রভাবশালী ঐ শ্রমিক নেতার তহবিলে,একটি অংশ পায় প্রশাসনের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও বিশেষ পেশায় নিয়োজিত কতিপয় ব্যক্তি সহ হোমড়া- চোমরা পাতি নেতা,লাইন ম্যান,ছিচকে সন্ত্রাসী।
তথ্য মতে, এক সময় প্রকাশ্যে এই চাঁদাবাজ চক্র অটো রিক্সার প্লেট বানিজ্য বা চাঁদা আদায়ে সক্রিয় থাকলে ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোরতায় কৌশল পাল্টিয়ে বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে চক্রটি তাদের নিজ নিজ অপকর্মে।
অতিতের মতো রাস্তায় দাড়ীয়ে লাইনম্যান দিয়ে চাঁদা আদায়ের কাজটি করছেনা।চাঁদা আদায়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে।রিক্সার গ্যারেজ থেকেই নিয়মিত ভাবে সাপ্তাহিক বা মাসীক হারে রিক্সা প্রতি চাঁদা আদায় করছে।প্রতিটি রিক্সার গ্যারেজ থেকেই নির্দিষ্ট একটি দিনে চাঁদা আদায় করা হয়ে থাকে বলে জানা যায়।
নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে,চাঁদা আদায় করে আজিজ ওরফে অটো আজিজ সরকারদলীয় স্থানীয় ও শির্ষ নেতাদের থেকে শুরু করে প্রতিটি মহল্লার হোমড়া- চোমড়া,পাতি নেতা সহ প্রশাসনের দূর্নীতিবাজ কর্তাদের নিজ হাতে উত্তোলনকৃত চাঁদার অর্থ প্রদান করে থাকে।
জানা যায়,প্লেট প্রতি নেয়া হচ্ছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আর ৩০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে মাসিক চাদাঁ। কেউ প্লেট নিতে না চাইলে বা চাঁদা প্রদানে অস্বীকার করলে তার রিকশা নিয়ে আটকিয়ে রাখছে নতুবা রিক্সার সিট জোর পূর্বক রেখে দেওয়া হচ্ছে।পরবর্তীতে তা ছাড়িয়ে আনতে গেলে গুনতে হয় অতিরিক্ত দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।
চাঁদাবাজীর অভিযোগে একাধিক বার গ্রেফতার হলেও প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে অতিতের মতো চাঁদাবাজীতে সক্রিয় হয়ে পরে এই শীর্ষস্থানীয় চাঁদাবাজ।
ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত রিক্সার গ্যারেজগুলোতে বসেই চলছে তাদের প্লেট বানিজ্যের পাশাপাশি চাঁদাবাজি। রিক্সার গ্যারেজ মালিকের মাধ্যমে সাপ্তাহিক, মাসিক চাঁদা আদায় সহ একই মাধ্যমে রিক্সার প্লেট ক্রয় করাতেও বাধ্য করা হয় রিক্সা,অটো রিক্সার মালিকদেরকে।অন্যথায় অটো আজিজের চাঁদাবাজ চক্রের সন্ত্রাসীরা গ্যারেজে এসে অটো রিক্সার চাবি বা সিট খুলে নিয়ে চলে যায় আলিগঞ্জের অফিসে।কখনো কখনো আটকে রাখা হয় ইজিবাইক, রিক্সা বা অটো রিক্সা। সেখান থেকে ছাড়িয়ে আনতে হলে প্লেটের মূল্য ছাড়া ও গুনতে হয় অতিরিক্ত দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।
জানা যায়, চাঁদা আদায়ে মাঠ পর্যায়ে সহায়তার জন্য রয়েছে অটো আজিজের রয়েছে বেতনভুক্ত শতাধিক সন্ত্রাসী। আজিজুলের নিকট থেকে প্লেট না কিনে কেউ ফতুল্লা এলাকায় রিক্সা,অটোরিকশা চালাতে পারেন না।
ইজিবাইক, অটো রিক্সা চালক ও মালিকদের অভিযোগ, প্রভাবশালী শ্রমিক নেতার আর্শীবাদপুস্ট চাঁদাবাজ আজিজুল কে প্রশাসনের লোকদের সঙ্গেই চলাফেরা করতে দেখা যায়। তার বিরুদ্ধে বহু সংখ্যক চাঁদাবাজীর অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারনে অটো আইজ্জার বিরুদ্ধে প্রশাসনের ভুমীকা অনেকটাই রহস্যজনক।
জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় চাঁদাবাজদের ব্যাপারে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সরব থাকলেও আজিজুলের ব্যাপারে তারা চুপ। এ কারণে বাধ্য হয়েই নিজদের ইচ্ছেদের বিরুদ্বে আজিজুলের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকায় প্লেট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ওই এলাকার ইজিবাইক ও অটোরিকশা চালক ও মালিকরা এমনটাই জানালেন ফতুল্লাঞ্চলের বহু সংখ্যক ইজিবাইক ও অটোরিক্সা চালকরা।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান বলেন, ফতুল্লা থানা এলাকায় কোন পরিবহন চাঁদাবাজ থাকবে না। চাঁদা আদায়ের বিষয়টি একদিনের নয়। দীর্ঘদিন ধরে এ অনিয়মটি চলে আসছে। তিনি পরিবহন সেক্টরসহ সকল চাঁদাবাজকেই আইনের আওতায় আনবেন। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *