প্রকাশ্যে হেফাজতের আসামীরা ## স্থানীয় আ’লীগ নেতাদের পারমিশন পেলেই যথেষ্ট, লিয়াজো করে চলছে

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজতের ডাকা হরতালে নাশকতা মামলায় আসামী বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেনা। স্থানীয় আ’লীগ নেতাদের সাথে লিয়াজো করেছে বলেই প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরছে, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতার এড়াতে আ’লীগ নেতাদের পারমিশন পেলেই যথেষ্ঠ। আ’লীগ নেতারা যদি বলে তুমি এলাকায় থাকো, তাহলে আর আসামীদের সমস্যা হয়না। পুলিশ আসার আগেই আবার আ’লীগ নেতারাই বলে দেয় সরে যেতে। যার ফলে বিএনপি নেতারা আসামী হয়েও গ্রেফতার হচ্ছেনা। ঘুরে ফিরে শ্রমিকদলের সেই আকবর, সেই কাউন্সিলর ইকবালই বার বার গ্রেফতার হচ্ছে। জেল খাটছে বলে খোদ বিএনপি’র মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে। কিন্তু অনেক আসামী হরতালের সময় সমর্থন করেছে, লোক পাঠিয়েছে হরতাল সফল করার জন্য তারা আসামী হলেও প্রকাশ্যে ঘুরছে।
জানা যায়, হেফাজতে ইসলামের হরতালে আইনশৃংখলাবাহিনীর সাথে হারতালকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে ৫টি ও র‌্যাব বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। এছাড়াও ২০০ জনকে আসামী করে মামলা দুটি দায়ের করে সোহেল আহমেদ ও হুমায়ুন আজাদ খান নামে দুই ব্যক্তি। মামলা গুলোতে সকল দলের লোক যারা প্রায়ই নাশকতার সাথে জড়িত সেই বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। যাদের নামে ইতিপূর্বে একাধিক মামলা রয়েছে। যারা সরকার পতনে বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
মামলায় বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে এজহার নমীয় আসামী করা হয়েছে। এছাড়াও আব্দুল হাই রাজু, আইয়ূব আলী মুন্সী, মনিরুল ইসলাম রবি, গোদনাইলের যুবদলের মমতাজ উদ্দিন মন্তু, আকবর হোসেন পিতা আসগর আলী, এসও এলাকার আবুল কালাম, বার্মাশীলের শরীফ, হাসান পারভেজ, জালকুড়ির মাজেদুল ইসলাম, এসও এলাকার কামাল হোসেন, বিএনপি নেতা অকিল উদ্দিন ভুইয়া, শাহ-আলম মানিক, মনির হোসেন, আক্তার হোসেন, কিবরিয়া, জানে আলমসহ আরো অনেকে। মামলার পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সাংবাদিকদের বলেছিলেন. মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে র‌্যাব-পুলিশের কয়েকটি টিম নাশকতাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে। সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাঘা বাঘা নেতা যাদের ইশারায় নাশকতা হয়, তাদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আসামীদেরকে আ’লীগ নেতাদের কোলে বসে ঘুরতে দেখা যায়। গতকাল প্রকাশ্যে কয়েকজন আসামীকে দেখা গেছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন আসামী যুবদল নেতা মমতাজ উদ্দিন মন্তু, যুবদলের নুরে আলম, বিএনপি নেতা অকিল উদ্দিন ভুইয়া, মনির হোসেন. শাহ-আলম মানিকসহ অনেককে। স্থান পরিবর্তন করে ঘুরছে যুবদলের আক্তার হোসেন, সুপারি কামালসহ আরো কয়েকজন। স্থানীয় আ’লীগ নেতাদের অনুমতি নিয়েই বিএনপি’র আসামীরা এলাকায় ঘুরছে বলে অনেকে তাদের মতামতে জানান। যদি কাউকে পুলিশ ধরতে আসে, ধরার খবর সবার আগে আ’লীগের লোকেরাই বলে দেয় সরে যাবার জন্য। সমঝোতা আ’লীগের নেতারাই করে দিচ্ছে বলে ক্ষোভের সাথে জানা গেছে। কিছুদিন বাইরে লুকিয়ে থেকে আবার আসামীদের এলাকায় ফিরে আসার জন্য আ’লীগ নেতারাই বলে দিচ্ছে। যার ফলে হেফাজতের মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ হেফাজতের ডাকা হরতালে স্বাভাবিক ছিল নারায়ণগঞ্জ শহর ও উপজেলা এলাকাগুলো। তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ছিল এলাকা ছিল হরতাল সমর্থকদের দখলে। তারা এই মহাসড়কে তাণ্ডব চালিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনে আগুন দেয়াসহ নির্বিচারে চালায় ভাঙচুর। দফায় দফায় বিজিবি-পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *