ক্ষোভের মাঝেও শান্তনায় অভিভাবকরা ## সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান খোলার তারিখ ১৩জুন

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট :
আগামী ১৩ জুন শিক্ষা প্রতিষ্টান খুলে দেয়ার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে নির্দেশনা জারির ফলে ক্ষোভের মাঝেও শান্তনা পেয়েছেন স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছিলো অভিভাবকরা। ইতিমধ্যে অনেক সংগঠন শিক্ষা প্রতিষ্টান খুলে দেয়ার দাবিতে রাজপথে নেমেছে। তাদের দাবী ছিলো, গাড়ী, ঘোড়া, ব্যবসা প্রতিষ্টান, হাট-বাজার, গার্মেন্টস-মার্কেট, সিনেমা হলসহ সকল কিছু চলতে পারলে কেন শিক্ষা প্রতিষ্টান চলতে পারবেনা। শিক্ষা প্রতিষ্টান বন্ধের ফলে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েরা বাসায় না থেকে বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় আড্ডা দিচ্ছে। ফলে কিশোরগ্যাং সৃষ্টি হচ্ছে। মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়ছে। পিতা-মাতার কোন নিয়ন্ত্রন নেই সন্তানদের উপর। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে ছেলেমেয়েদের কর্ম-জীবন নিয়ে সংকটে পড়তে হবে অভিভাবকদের। তাই শিক্ষা প্রতিষ্টান খুলে দেয়ার দাবী বার বার উঠলেও সরকারের কঠোর মনোভাবের কারনে কেহ কুলিয়ে উঠতে পারেনি। ফলে অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছিলো চরম ক্ষোভ। এদিকে সরকারের ঘোষনায় অভিভাবকদের ক্ষোভ কিছুনা কমেছে এবং আশার আলো দেখছে বলে অনেকে তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান। ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলনে রাজপথে বিভিন্ন সংগঠন নেমেছে। তাদের দাবী ছিলো আগামী ১জুল থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান খুলে দেয়ার। তবে সরকার সময় নিয়ে ১৩ তারিখ ঘোষনা করায় তাতেও তারা সন্তোষ্ট। তাদের দাবী ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া দরকার। সরকারে দেরিতে হলেও শিক্ষা প্রতিষ্টান খুলে দেয়ায় অনেকে এটাকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা সাপেক্ষে আগামী ১৩ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা এবং শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়, করোনা সংক্রমণ থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার লক্ষ্যে আগের ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ জুন পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এ সময়ে নিজেদের এবং অন্যদের করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করবে। বাসায় থেকে তারা টেলিভিশন ও অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন শিক্ষার্থীদের বাসায় অবস্থানের বিষয়টি অভিভাবকরা নিশ্চিত করবেন এবং স্থানীয় প্রশাসন তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। গত বুধবার (২৬ মে) ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রী দীপু মনি জানান, আগামী ১৩ জুন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে করোনার টিকার আওতায় আনার ওপর। তিনি বলেন, ১২ জুন পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকছে, ১৩ জুন থেকে সেগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। এর আগে তিনি বলেন, যদি ১৩ জুন স্কুল-কলেজগুলো খুলে দিতে পারি সেক্ষেত্রে ২০২১ সালের এসএসসি-এইচএসসি ব্যাচকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তারা হয়তো সপ্তাহের ছয়দিন ক্লাসে আসবে। যারা ২০২২ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তাদের ছুটির দিন ছাড়া বাকি দিনগুলোতে ক্লাসে নিয়ে আসা হবে। অন্যদের বিষয়ে সপ্তাহে হয়তো একদিন ক্লাসে আনা হবে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *