কাশিপুরের সেই অসহায় ফরিদের পরিবারের পাশে এড.নূর জাহান

সংবাদটি শেয়ার করুন:

শহর প্রতিনিধি:
৩৩৩ তে কল দিয়ে ১০০ জনের খাবারের জরিমানা প্রদানকারী সেই অসহায় ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পরিবারের পাশে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এড.নূর জাহান।
গত বৃহস্পতিবার(২৭ মে)দুপুরে তিনি অসহায় ফরিদ উদ্দিনের পরিবারের জন্য খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হোন ফতুল্লার কাশিপুরের নাগবাড়ি ফরিদের বাসায়। এড.নূর জাহান ফরিদের পরিবারের জন্য চাল,ডাল,আলু,তেল,পেয়কজ,আটা,লবন,চিনি,দুধ ও তার প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য হ্যান্ডস্যানিটাইজার,হ্যান্ড ওয়াশ,মাস্ক,সাবান ও কম্বল প্রদান করেন। এসময় ফরিদের পরিবার এবং প্রতিবন্ধী ছেলের খোঁজ খবর নেন ও যেকোন প্রয়োজনে এড.নূর জাহানকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেন সেই অসহায় পরিবারটিকে। এড.নূর জাহান সংবাদ মাধ্যমকে জানায়,আমি কাশিপুরের এই ঘটনাটি শুনে খুবই মর্মাহত ও কষ্ট পেয়েছি।আমাদের সদর ইউএনও এর কাছে এটা আশা করি নাই।উনার অনেক কিছু যাচাই বাছাই করে এ ধরনের সিদ্বান্ত নেওয়া উচিত ছিলো।আমি প্রতিনিয়ত মানবতার জন্য কাজ করি থাকি।এই ঘটনাটি জানার পর আমি আমার মানবিকতার খাতিরে এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ার জন্য আজকে স্বল্প পরিমান খাবার আমার নিজ উদ্যোগে নিয়ে এসেছি।ভবিষ্যৎ যাতে এই অসহায় ফরিদ উদ্দিনের মতো কেউ এই রকম ঘটনার শিকার না হয় তার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। উল্লেখ্য যে গত ২০ মে কাশিপুর ইউনিয়নের নাগিবাড়ি থেকে ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ করোনায় মহাসংকটে পড়ে নিরুপায় হয়েই জাতীয় কলসেন্টারের ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্য সহায়তা চান।এই একটি কলই কাল হলো তার।কারন ফরিদ আহম্মেদ ষাটোর্ধ বয়স্ক ব্যক্তি।ঘরে একটি প্রতিবন্ধী ছেলে স্নাতক পড়ুয়া মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে বাস। এক সময়ে স্থানীয় এক হোসিয়ারি কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। তিনবার ব্রেন স্ট্রোক করার পর ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ফরিদ এখন কাজ করতে পারেন না। ওই কারখানাতেই শ্রমিকদের উপর নজরদারি রাখা বাবদ মাসে ৮ হাজার টাকা পান তিনি।কষ্টে সংসারে সরকারে সাহায্যের আশায় তাই বাধ্য হয়ে ৩৩৩ কল দেয় ফরিদ।কিন্তু ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী ইউএনও আরিফা জুহুরাকে ফরিদ উদ্দিনের আর্থিক স্বচ্ছলতার তথ্যই দেন।একিই দিন সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়েও নাকি সদর ইউএনও একই তথ্য পেয়েছেন তাই ১০০ জনকে খাবার সামগ্রী প্রদানের জরিমানা করেন।প্রতি প্যাকেটে সরকারি সহায়তার মতো ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি করে ডাল,সয়াবিন তেল, লবন ও পেয়াজ দেবার নির্দেশনা দেন।অন্যথায় জেল জরিমানা গুনতে হবে।তার ভয়ে ফরিদ নিজের স্ত্রীর ও ভাবীর গহনা বিক্রি করে এবং ধার করে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ১০০জনের খাবারের ব্যবস্থা করে ২২মে শনিবার ইউএনও এর সামনে বিতরণ করেন। এর আগে রাতে তিনি লোকলজ্জায় পরে ও এত টাকা কোথায় পাবে তার ভয়ে বৃদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আত্নহত্যা করার চেষ্টা করেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *