ফতুল্লায় উন্নয়নের বরাদ্দ খবরে নেতারা খুশি ## মুখ খুলতে নারাজ লিটন ও মান্নান ॥ ফোন ধরেনি বাদল ও সেন্টু

সংবাদটি শেয়ার করুন:

মনিকা আক্তার:
উন্নয়নের রুপকার নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ সদস্য এ কে এম। শামীম ওসমান। একের পর এক ফতুল্লায় উন্নয়ন করে চলছে শামীম ওসমান। ফতুল্লার উন্নয়নকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে সরকার থেকে আরো ১৭৬ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে এসেছে শামীম ওসমান। অন্যদিকে যেখানে দুই জেলায় এই বিশাল সমপরিমাণ বরাদ্দ পায় সেখানে এক উপজেলার জন্য এমপি শামীম ওসমানের বিশেষ কৃতীত্বে এসেছে বিশাল পরিমান বরাদ্দ। ফতুল্লার উন্নয়নের জন্য ১৭৬ কোটি টাকার বরাদ্দকে সেখানকার জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা খুশি হয়েছেন, দেখছেন একেকজন একেক রকমভাবে। কেউ কেউ ধন্যবাদ জানাচ্ছে শামীম ওসমানকে। কারন তারা মনে করছে শামীম ওসমানের কৃতীত্বে এসেছে এ বরাদ্দ। আবার অনেকে শামীম ওসমানের উন্নয়ন নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম শওকত আলী বলেন, শামীম ওসমান বরাবর ফতুল্লার উন্নয়ন করছে। তার মধ্যে একটা অন্যতম গুন আছে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়কে বুঝিয়ে প্রকল্প জন্য বরাদ্দ নিয়ে আসার। তিনি ফতুল্লার অনেক উন্নয়ন করেছেন। তার মধ্যে তিনি ফতুল্লার রাস্তা ঘাট সংস্কারের জন্য সরকার থেকে ১৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছে এ জন্য এমপি শামীম ওসমানকে ধন্যবাদ জানাই। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফতুল্লা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী বলেন, শামীম ওসমান ফতুল্লার উন্নয়নের জন্য যে টাকা এনেছে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা ফতুল্লাবাসীর জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার।আমাদের যে বড় সমস্যা ছিলো রাস্তাঘাটের। সেগুলো ঠিক হয়েছে।এরপর এখন দেখা যাচ্ছে জলাবদ্ধতা। এ জলাবদ্ধতার মূল কারন ড্রেনেজ ব্যবস্থা। আমি এমপি সাহেবের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ করবো আপনে এ বরাদ্দের সিংহভাগটাকে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করেন। কারন আমাদের রাস্তাঘাট গুলো টেকসই আর ভবিষ্যৎ এ রাস্তাঘাটের কাজ চলবে। একটা রাস্তা ২ বছর যাবে যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো থাকে। আরসিসি ঢালাই রাস্তায় কত পানি জমে থাকে তবু রাস্তা নষ্ট হয় না। যদি পিচ ঢালাই হতো তবে কবে নষ্ট হয়ে যেতো। মীর সোহেল আলী শামীম ওসমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরো বলেন, আমরা ফতুল্লায় উন্নয়নের সব কিছুই পেয়েছি। এখন শুধু উন্নয়নের দরকার আমাদের ড্রেনেজের। এতে জলাবদ্ধতা দূর হবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো হলে।আর শামীম ওসমান ফতুল্লার এ সমস্যার বিষয়টি নজরে নিয়ে ফতুল্লার উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ এনেছে তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। ফতুল্লা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন শামীম ওসমানের উন্নয়নের সাধুবাদ ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শামীম ওসমান ফতুল্লার উন্নয়নের জন্য ১৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছে।এর ফলে আমার ফতুল্লা ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজ গুলো সমাপ্ত হবে। আগামী মাস থেকে এ কাজ শুরু হবে। এ বরাদ্দ শুধু আমার ইউনিয়নের জন্য আনেনি। আমার ইউনিয়ন ৬০-৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাবে। এর ফলে আমার ইউনিয়নের অনেক রাস্তাঘাট, ড্রেনের কাজ হবে এবং আমার ইউনিয়নবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে শামীম ওসমানমে ধন্যবাদ জানাবো। তিনি যদি এ বরাদ্দ না নিয়ে আসতো আগামীতে আমার ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজ গুলো সমাপ্ত করার সুযোগ হয়ে উঠতো না। ফতুল্লা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ও ফতুল্লা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ লিটন ও ফতুল্লা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মান্নান শামীম ওসমানের উন্নয়ন নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। ফরিদ আহমেদ লিটন জানায় শামীম ওসমানের কোন উন্নয়ন নিয়ে আমি কথা বলতে পারবো না।আরো সিনিয়র আছে তাদের সাথে কথা বলেন। আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না। অন্যদিকে ফতুল্লার উন্নয়নের জন্য শামীম ওসমানের আনা ১৭৬ কোটি টাকার বরাদ্দের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম। সাইফুল্লাহ বাদল ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তারা কল রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য যে গত ২৩ মে সদর উপজেলায় গ্রাম্য পুলিশকে বাইসাইকেল ও পোষাক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের এ পর্যায় নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বলেন,জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের জন্য সুখবর। একটা নয় দুইটা ডিষ্ট্রিক মিলিয়ে যে টাকা পায় তার চেয়েও বেশি টাকা শুধু মাত্র আমার ফতুল্লা উপজেলার জন্য আনতে পেরেছি। প্রায় ১৭৬ কোটি টাকার কাজ এলজিআরডিতে হবে।রাস্তা-ঘাট ড্রেন হয়ে যাবে।বাংলাদেশের মধ্যে একটি অন্যতম উন্নত রাস্তা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড যা আপনেরা দেখেছেন ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডে ১৪২ ফিট জায়গা নিয়ে রাস্তা হচ্ছে। মধ্যে ৬ ফিট থাকবে। এরপর আমার মনে হয় আর কোন কাজ বাকি থাকবে না। এখন একটা আশা আছে সবাইকে নিয়ে যদি নারায়ণগঞ্জে একটা মেডিকেল কলেজ ও একটা হার্ট ইনষ্টিটিউট যদি করতে পারি।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *