ক্ষতিপূরণ পেলেন ফরিদ উদ্দিন ## ষড়যন্ত্রকারী ইউপি মেম্বার নিজেকে নির্দোষ প্রমানের চেষ্টা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

শহর প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে অসহায় ফরিদ উদ্দিনকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অনুরোধক্রমে এলাকার একজন ব্যবসায়ী ও পঞ্চায়েত কমিতির সভাপতি শাহনূর মিয়া ৬০ হাজার টাকা প্রদান করে এবং ঘটে যাওয়া ঘটনায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য গত রবিবার সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং আগামী বুধবারের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে গত সোমবার(২৪ মে) এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি শাহনূর মিয়া জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে পরিবারটির দিকে খেয়াল রাখতে অনুরোধ করা হয়। তিনি মানবিক কারণে নিজ উদ্যোগে এই সহায়তা দিয়েছেন। এদিকে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, সন্ধ্যায় অসহায় ওই ব্যক্তির বাসায় গিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জাহুরা ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে গত ২০ মে কাশিপুর ইউনিয়নের নাগিবাড়ি থেকে ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ করোনায় মহাসংকটে পড়ে নিরুপায় হয়েই জাতীয় কলসেন্টারের ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্য সহায়তা চান।এই একটি কলই কাল হলো তার। কারন ফরিদ আহম্মেদ ষাটোর্ধ বয়স্ক ব্যক্তি। ঘরে একটি প্রতিবন্ধী ছেলে স্নাতক পড়ুয়া মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে বাস। এক সময়ে স্থানীয় এক হোসিয়ারি কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। তিনবার ব্রেন স্ট্রোক করার পর ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ফরিদ এখন কাজ করতে পারেন না। ওই কারখানাতেই শ্রমিকদের উপর নজরদারি রাখা বাবদ মাসে ৮ হাজার টাকা পান তিনি।কষ্টে সংসারে সরকারে সাহায্যের আশায় তাই বাধ্য হয়ে ৩৩৩ কল দেয় ফরিদ। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী ইউএনও আরিফা জুহুরাকে ফরিদ উদ্দিনের আর্থিক স্বচ্ছলতার তথ্যই দেন।একিই দিন সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়েও নাকি সদর ইউএনও একই তথ্য পেয়েছেন তাই ১০০ জনকে খাবার সামগ্রী প্রদানের জরিমানা করেন। প্রতি প্যাকেটে সরকারি সহায়তার মতো ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি করে ডাল,সয়াবিন তেল, লবন ও পেয়াজ দেবার নির্দেশনা দেন। অন্যথায় জেল জরিমানা গুনতে হবে। তার ভয়ে ফরিদ নিজের স্ত্রীর ও ভাবীর গহনা বিক্রি করে এবং ধার করে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে ১০০জনের খাবারের ব্যবস্থা করে ২২মে শনিবার ইউএনও এর সামনে বিতরণ করেন। এর আগে রাতে তিনি লোকলজ্জায় পরে ও এত টাকা কোথায় পাবে তার ভয়ে বৃদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আত্নহত্যা করার চেষ্টা করেন। এদিকে নিজেকে নির্দোষ প্রমানে ব্যস্ত আইয়ূব আলী মেম্বার। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাশিপুর ইউনিয়নের নাগবাড়ি এলাকার যাবার বিষয়টি জানে না বলে অস্বীকার করে আইয়ুব আলী বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা হচ্ছেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি কাশিপুর যাবে আমার মত একজন ছোট মানুষকে বলে যাবে নাকি। আমি ইউএনও স্যারের আমাদের এলাকায় আসার খবর পেয়ে আমি যাই। আইয়ুব আলী ইউএনওকে ফরিদ উদ্দীনের বিষয়ে তথ্য দেবার বিষয়টি অস্বীকার জানিয়ে আরো বলেন, আমি এ বিষয়ে জানিই না। ইউএনও আমার এলাকায় আসার পর আমি খবর পেয়ে এসেছি। আমি খবর পেয়েছি উপজেলার মনির ভাইয়ের কাছে। ফরিদ উদ্দীনের কোন বিষয়ে ইউএনওর সাথে আমার কথা হয়নি। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও আরিফা জহুরা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন সরকার ৩৩৩ কলসেন্টারের মাধ্যমে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করছে। কেউ ওই নম্বরে কল করে তাদের সংকটের কথা জানালে উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও অফিসে জানানো হয়। পরে তা যাচাই করে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। ফরিদ উদ্দিন নামে ওই ব্যক্তিও খাদ্য সহায়তা চেয়ে ওই নম্বরে কল করেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইউপি সদস্য আইয়ুব আলীর মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ব্যক্তি চারতলা ভবনের মালিক এবং যথেষ্ট স্বচ্ছল। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে ফরিদ উদ্দিনকে ১০০ গরীব মানুষকে সরকারি খাদ্য সহায়তার অনুরূপ প্যাকেট বিতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হইছে। ভুক্তভোগী ফরিদের পরিবার জানায় তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই করুণ।কাজ করতে পারেন না। এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। অন্য মেয়ে টিউশনি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ জোগান। প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য নিয়মিত ওষুধ লাগে। তার নিজেরও দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ। দুই চোখেই অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তিনবার স্ট্রোক করেছেন। কোনো রকমের সঞ্চয় নেই তার। নিজের ওষুধ কেনারও পয়সা নেই। ছয় ভাই ও এক বোন মিলে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে চারতলা ভবন করেছেন। চারতলায় উপড়ে টিন শেড দেওয়া দু’টি ঘরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকেন ফরিদ। নিজে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন বলেই সরকারি সহায়তার জন্য ওই নম্বরে কল করেছিলেন বলে জানান এই বৃদ্ধ। সহায়তা চেয়ে আরও বিপদে পড়েছেন তিনি। ১০০ জনকে খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার মতো সামর্থ্য তার নেই।নিজের স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর গয়না বিক্রি ও ধার-দেনা করে বিতরণের জন্য এসব খাদ্যসামগ্রী কিনেছেন বলেও জানান। এমনকি স্থানীয় ইউপি সদস্য আইয়ুব আলীর থেকেও ধার নিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। ১০ হাজার টাকা ধারের বিষয়টি অস্বীকার করে আইয়ুব আলী বলেন, ফরিদ উদ্দীনকে আমি জিজ্ঞাসা করছিলাম সে এত জনের খাবার দিতে পারবে কিনা সে বলেছিলো পারবে। না পারলে আমার পক্ষ থেকে ৫০ জনের খাবার দেবার কিন্তু সে রাজি হয়নি। সকালে আমার কাছে গিয়ে আবার ১০ হাজার টাকা কম আছে বলে জানায় আমি তাকে আমার পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি কোন ধার বা সুদ হিসেবে না। সে যদি ১০ হাজার টাকা ফেরত দিতে পারে তখন না বলা যাবে সে আমার কাছ থেকে ধার নিয়েছে। আমিধার হিসেবে না একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দিয়েছি আমার এলাকায় একজন সমস্যায় পড়েছে তার সমস্যার। ক্ষতিপূরণ পেলেও বৃদ্ধা ফরিদ উদ্দিন লোকলজ্জায় ভয়ে ৩৩৩ কল দিয়ে গোপনে সরকারি সাহায্য চাইলেন কিন্তু সেই গোপন চাওয়ায় কাল হয়ে দেশবাসী জানান দিলেন ইউএনও। এর দায় ভার কে নিবে এখন সময়ের প্রশ্ন বৃদ্ধা ফরিদের সম্মান ফিরিয়ে দিবে কে?


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *