সাংবাদিক রোজিনার মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের মানববন্ধন

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ব্যর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট নারায়ণগঞ্জ জেলা। গত শনিবার বিকেল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রগতিশীল ছাত্র জোট নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা সংসদের সভাপতি শুভ বনিকের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফউদ্দিন সবুজ, প্রথম আলো বন্ধুসভা নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি রাসেল আদিত্য, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সুলতানা আক্তার, ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক ইবনে সানি দেওয়ান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলার অর্থ সম্পাদক মুন্নি সরদার, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ শহর সংসদের সভাপতি চিত্রা ঘোষ পরমা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জেলা সংগঠক ফয়সাল আহাম্মেদ রাতুল,
নেতৃবৃন্দ বলেন, রোজিনা ইসলামকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার প্রমাণ করছে বর্তমান সরকার দুর্নীতিবাজদের রক্ষাকর্তা। রোজিনার গ্রেপ্তারের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা, মানবাধিকার ও নাগরিক মর্যাদাকে ভূলুন্ঠিত করেছে এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করেছে। এই ঘটনা আরো প্রমাণ করছে সরকার সত্য গোপন করতে চায়। শুধু তাই নয়, সরকার জনগনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের চাইতে দুর্নীতি লুকাতে তৎপর বেশি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের দুর্নীতি, লুটপাট নিয়ে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম বেশ কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জনসম্মুখে নিয়ে আসেন। যার ফলে স্বাাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের উপর আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। গত ১৭ মে রোজিনা ইসলাম যখন তার পেশাগত কারণে সচিবালয়ে যান, তখন স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রোজিনা ইসলামের উপর নির্যাতন চালায় এবং ৫ ঘন্টা তাকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে এবং গোপনীয় নথিপত্র চুরির অভিযোগে জেলহাজতে পাঠানো হয় এবং কোন অজানা কারণে আজও তার জামিন আবেদন মঞ্জুর হয়নি। নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ১৯২৩ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশিক আইন ‘অফিসিয়াল সিক্রেসী এ্যাক্ট’ যা স্বাধীন দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধরাায় যুক্ত করা হয়েছে। সেই কুখ্যাত আইনে রোজিনা ইসলাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার উপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও এই ঘটনার সাথে যারা যুক্ত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার, ব্যর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও সংবাপত্র-সাংবাদিকতার উপর হস্তক্ষেপ বন্ধ করার জোর দাবি জানান।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *