সাংবাদিকদের উদ্দেশে শামীম ওসমান ‘না.গঞ্জের ইমেজকে ছোট করবেন না ‘

সংবাদটি শেয়ার করুন:

মনিকা আক্তার:
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও’র একটি ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।এতে আমাদের সম্মান বেড়েছে না কমেছে সেটা বিবেচ্য।সংবাদের আগে ইউএনওকে প্রকৃত বিষয়টা জানানো উচিত ছিল। কিন্তু সেটা করা হয়নি। এখানে আগে আপনেরা ইউএনও ভুল হলে জানাতে পারতেন আপনার ভূল হয়েছে বা সঠিক হলে এসে বলতেন না তথ্য ঠিক আছে। এটা একটি চেয়ার। ইউএনও চেয়ারকে খাটো করাটা ঠিক না। আমি নিজেও প্রকৃত বিষয়টা জানার চেষ্টা করবো। ওই ব্যক্তি অভাবী হলে আমি নিজেই সহযোগিতা করবো।আল্লাহ বলেছেন যে দেয় তার হাত ছোট হয় না আরো রিজিক বারে।
রবিবার(২৩ মে)বিকেল সাড়ে ৩টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের কর্মরত গ্রাম পুলিশদের মাঝে বাইসাইকেল ও পোশাক বিতরণকালে এ কথা বলেন শামীম ওসমান। শামীম ওসমান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য বলেন,আমি নারায়ণগঞ্জের সকল সাংবাদিকদের সাথে বসবো এক একদিন এক এক সংগঠনের সাথে।আপনাদের সাহায্যের দরকার আছে কিভাবে নারায়ণগঞ্জকে আরো সুন্দর করা যায় ও উন্নয়ন করা যায়। নারায়ণগঞ্জের সম্মান কিভাবে রাখা যায় এমন নিউজ না করি।যদি কোন জায়গায় ভূল পান তাহলে আগে চেষ্টা করবেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানানোর নিউজ না করে।ভূল হবেই এটাই নিয়ম।কথার কথা এলজিডিই ইঞ্জিয়ারের ভূল হলে এক্সিকিউটিভকে,বা ইউএনও অথবা আমাকে জানান।আমরা এটার সমাধান করি।যদি এটার নিউজ করে দেই তাহলে এলাকার সম্মান কমে।নারায়ণগঞ্জের সম্মান কমবে।তবে আপনাদের কলম কখনো যেনো সত্য লিখতে ভয় না পায়।যেটা সত্য সেটা লিখবেন।

তিনি আরো বলেন,নারায়ণগঞ্জের ইমেজকে বিকৃতি করবেন না।নারায়ণগঞ্জের ইমেজকে ছোট করবেন না।আমাদের নারায়ণগঞ্জের ইমেজ ধরে রাখতে হবে।নারায়ণগঞ্জে এমনভাবে নিউজ করে যার কারনে নারায়ণগঞ্জের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে।আমি যে বাড়িতে থাকি সে বাড়ির ইমেজ নষ্ট হওয়া মানে আমার নিজের ইমেজ নষ্ট হওয়া আমার ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া।আমার সময় কেউ যদি জিজ্ঞাসা করলে আমি কোথায় থাকি নারায়ণগঞ্জ বললে বলতো ও নিষিদ্ধ পল্লীতে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার মাননীয় নেত্রীকে বলছি এ অসাধ্য কাজটি করতে কষ্ট হতো।কিন্তু আমরা এ নিষিদ্ধ পল্লী উচ্ছেদ করতে পেরেছি সেখানে সাড়ে ৪ হাজার ১১ নিচে মেয়ে থাকতো কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা উচ্ছেদ করতে পেরেছি।তখন কিছু আন্তর্জাতিক মিডিয়া আমাকে গলা চেপে এমন ভাবে ধরেছিলো নিউজের জন্য কিন্থ আমি ভয় পাইনি।
উল্লেখ্য যে গত ২০ মে কাশিপুর ইউনিয়নের নাগিবাড়ি থেকে ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ করোনায় মহাসংকটে পড়ে নিরুপায় হয়েই জাতীয় কলসেন্টারের ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্য সহায়তা চান।এই একটি কলই কাল হলো তার।কারন ফরিদ আহম্মেদ ষাটোর্ধ বয়স্ক ব্যক্তি।ঘরে একটি প্রতিবন্ধী ছেলে স্নাতক পড়ুয়া মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে বাস। এক সময়ে স্থানীয় এক হোসিয়ারি কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। তিনবার ব্রেন স্ট্রোক করার পর ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ফরিদ এখন কাজ করতে পারেন না। ওই কারখানাতেই শ্রমিকদের উপর নজরদারি রাখা বাবদ মাসে ৮ হাজার টাকা পান তিনি।কষ্টে সংসারে সরকারে সাহায্যের আশায় তাই বাধ্য হয়ে ৩৩৩ কল দেয় ফরিদ।কিন্তু ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী ইউএনও আরিফা জুহুরাকে ফরিদ উদ্দিনের আর্থিক স্বচ্ছলতার তথ্যই দেন।একিই দিন সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়েও নাকি সদর ইউএনও একই তথ্য পেয়েছেন তাই ১০০ জনকে খাবার সামগ্রী প্রদানের জরিমানা করেন।প্রতি প্যাকেটে সরকারি সহায়তার মতো ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি করে ডাল,সয়াবিন তেল, লবন ও পেয়াজ দেবার নির্দেশনা দেন।অন্যথায় জেল জরিমানা গুনতে হবে।ষাটোর্ধ বৃদ্ধা ফরিদ আহম্মেদ জেল খাটার ভয়ে নিজের স্ত্রীর গহনা বন্ধক ও ধারে টাকা নিয়ে ১০০ জনের খাবার সামগ্রী দেন।এর আগে রাতে বৃদ্ধ আত্নহত্যা করার চেষ্টা করেন।এ বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলায় একাধিক পত্রিকায় কোন সঠিক তথ্য যাচাই না করে অসহায় পরিবারটির উপর ইউএনও বর্বরতার মাধ্যমে জরিমানা চাপানো নিয়ে নিউন হয় তার প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান সাংবাদিকদের কোন নিউজ প্রচার করার আগে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে জানানোর কথা বলেন।কারন এতে নারায়ণগঞ্জের ইমেজ নষ্ট হয়।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *