মানবতা না আইন আগে?

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
করোনা মহামারিতে অর্থ সংকটে অন্যদিকে বয়স্ক তাই চেয়েছেন সরকারের কাছে ত্রানের জন্য ৩৩৩ কল দিয়ে সাহায্য কিন্তু ৪ তলা বাসায় থাকার কারনে সদর ইউএনও করলো ১০০ জনের খাবারের জরিমানা এ যেনো মরার উপর খরা। বিভিন্ন মিডিয়ায় খবরটি প্রচার ও অর্থাভাবে করতে চেয়েছে আত্নহত্যা পরিবারের নজরদারীতে বেঁচে গেলেও চলছে কান্নার রোল। যেখানে নিজেদের খাবার জোগাতে খেতে হচ্ছে হিমশিম সেখানে ইউএনও’র জরিমানায় একদিনে বিভিন্ন মানুষদের কাছ থেকে ধারে দেনায় টাকা এনে দিতে হয়েছে ১০০ জনের খাবার। এ ধার কিভাবে চুকাবে তা নিয়েই চলছে পরিবারটিতে কান্নার রোল। এ দৃশ্য দেখে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন জাগছে, মানবতা আগে না আইন আগে। না.গঞ্জে এই মহামারী করোনার মধ্যে ধরনের অমানবিকতা এই প্রথম বলে অনেকে গতকাল ক্ষোভের সাথে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং বর্তমান পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে সর্তক করা যেতো। তাহলে জয়ী হতো মানবিততা।
গত শনিবার(২২ মে)সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে নাগবাড়ি শেষ মাথা এলাকায় দেখা যায় এ চিত্র। গত ২০ মে কাশিপুর ইউনিয়নের নাগিবাড়ি থেকে ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ করোনায় মহাসংকটে পড়ে নিরুপায় হয়েই জাতীয় কলসেন্টারের ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্য সহায়তা চান।এই একটি কলই কাল হলো তার।কারন ফরিদ আহম্মেদ ষাটোর্ধ বয়স্ক ব্যক্তি।ঘরে একটি প্রতিবন্ধী ছেলে স্নাতক পড়ুয়া মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে বাস। এক সময়ে স্থানীয় এক হোসিয়ারি কারখানায় কাটিং মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। তিনবার ব্রেন স্ট্রোক করার পর ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ফরিদ এখন কাজ করতে পারেন না। ওই কারখানাতেই শ্রমিকদের উপর নজরদারি রাখা বাবদ মাসে ৮ হাজার টাকা পান তিনি। কষ্টে সংসারে সরকারে সাহায্যের আশায় তাই বাধ্য হয়ে ৩৩৩ কল দেয় ফরিদ। কিন্তু ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী ইউএনও আরিফা জুহুরাকে ফরিদ উদ্দিনের আর্থিক স্বচ্ছলতার তথ্যই দেন। একিই দিন সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়েও নাকি সদর ইউএনও একই তথ্য পেয়েছেন তাই ১০০ জনকে খাবার সামগ্রী প্রদানের জরিমানা করেন। প্রতি প্যাকেটে সরকারি সহায়তার মতো ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ কেজি করে ডাল,সয়াবিন তেল, লবন ও পেয়াজ দেবার নির্দেশনা দেন। অন্যথায় জেল জরিমানা গুনতে হবে। অন্যদিকে ফরিদ আহম্মেদের পরিবার জানায়, তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই করুণ। কাজ করতে পারেন না। এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। অন্য মেয়ে টিউশনি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ জোগান। প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য নিয়মিত ওষুধ লাগে। তার নিজেরও দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ। দুই চোখেই অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। তিনবার স্ট্রোক করেছেন। কোনো রকমের সঞ্চয় নেই তার। নিজের ওষুধ কেনারও পয়সা নেই। ছয় ভাই ও এক বোন মিলে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে চারতলা ভবন করেছেন। চারতলায় উপড়ে টিন শেড দেওয়া দু’টি ঘরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকেন ফরিদ। নিজে অসহায় অবস্থায় পড়েছেন বলেই সরকারি সহায়তার জন্য ওই নম্বরে কল করেছিলেন বলে জানান এই বৃদ্ধ। সহায়তা চেয়ে আরও বিপদে পড়েছেন তিনি। ১০০ জনকে খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার মতো সামর্থ্য তার নেই।নিজের স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর গয়না বিক্রি ও ধার-দেনা করে বিতরণের জন্য এসব খাদ্যসামগ্রী কিনেছেন বলেও জানান। এমনকি স্থানীয় ইউপি সদস্য আইয়ুব আলীর থেকেও ধার নিয়েছেন ১০ হাজার টাকা। এ বিষয়ে ফরিদ উদ্দিন বলেন, বলেন, নিয়মিত এফএম রেডিও শোনেন তিনি। রেডিওতে সংবাদে তিনি জেনেছেন ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্য সহায়তা পাওয়া যায়। সরকারি সহায়তা পেতে তিনি কল করেছিলেন ওই নম্বরে। কিন্তু সহায়তা তো পাননি, উল্টো তিনি চারতলা ভবনের মালিক এমন তথ্যের কারণে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা গুণতে হয়েছে তাকে। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরার নির্দেশে তাকে ১০০ জনের মাঝে চাল, আলু, ডাল,লবন ইত্যাদি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করতে হয়েছে। ফরিদ উদ্দিনের ছোট ভাই শাহীন ও আরেক ভাইয়ের স্ত্রী বিলকিস বেগমও সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ফরিদ উদ্দিনের আর্থিক অবস্থা ভালো না। চারতলায় টিনশেডের দু’টো ঘরই তার সম্বল। অথচ তাকে চারতলা বাড়ির মালিক বলে জরিমানা করেছেন ইউএনও। বিলকিস বলেন, ‘১০০ জনের খাবার কেনার টাকা কই পাবেন আর না দিতে পারলে জেল হবে, এই লজ্জায় শুক্রবার রাতে দুইবার আত্মহত্যা করতেও চেয়েছিলেন আমার ভাসুর। মেয়েটা অবিবাহিত তাই লোকলজ্জার ভয়ে গয়না বিক্রি, ধানদেনা করে ৭০ হাজার টাকার খাদ্যসামগ্রী কিনেছেন। সদর ইউএনও আরিফা জহুরা বলেন, সরকার ৩৩৩ কলসেন্টারের মাধ্যমে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করছে। কেউ ওই নম্বরে কল করে তাদের সংকটের কথা জানালে উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও অফিসে জানানো হয়। পরে তা যাচাই করে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। ফরিদ উদ্দিন নামে ওই ব্যক্তিও খাদ্য সহায়তা চেয়ে ওই নম্বরে কল করেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ইউপি সদস্য আইয়ুব আলীর মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ব্যক্তি চারতলা ভবনের মালিক এবং যথেষ্ট স্বচ্ছল। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে ফরিদ উদ্দিনকে ১০০ গরীব মানুষকে সরকারি খাদ্য সহায়তার অনুরূপ প্যাকেট বিতরণ করার নির্দেশ দেওয়া হইছে। ফরিদ আহম্মেদের একটি প্রতিবন্ধী ছেলে আছে এবং সে অস্বচ্ছল তারপরও কেনো তাকে জরিমানা করা হলো এ বিষয়ে জানতে ইউএনও বলেন, আমরা জেনেছে সে স্বচ্ছল। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেনেছে তার তার ৪তলা বাড়ি আছে। যার ৪ তলা বাড়ি আছে সে দরিদ্র হতে পারে না। আর কোন স্বচ্ছল ব্যক্তি সরকারি সহায়তা পাবে না তাই সরকারি কল সেন্টারে এই প্রথমবার যেহেতু কল দিয়ে মজা করেছে তাই সরকারি সহায়তা পরিমান তাকে ১০০ জনের জরিমানা করা হয়েছে। ফরিদ আহম্মেদ অস্বচ্ছল হবার পরও কেনো মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাকে জরিমানা করা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী বলেন, আমি ইউএনওকে স্বল্প পরিসরে জরিমানা করতে বলেছিলাম কিন্তু তিনি আমার কোন কথার পাত্তা দিলেন না। অন্যদিকে এই অসহায় পরিবারের শোচনীয় অবস্থায় যেখানে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগাতে খেতে হয় হিমশিম সেখানে সরকারি সাহায্য চেয়ে কি ভূল করেছে? তাহলে কারা পাবে এ খাবার? কেনো গুনতে হলো ১০০ জনের খাবার সামগ্রী প্রদানের জরিমানা? এ দায় কে নিবে ইউএনও আরিফা জহুরা নাকি জেলা প্রশাসক? কে দাঁড়াবে এ পরিবারটার পাশে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *