বিসিকে ঝুট সন্ত্রাসীরা বেপেরোয়া

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্টাফ রিপোর্টার :
ফতুল্লার বিসিকে ঝুট সন্ত্রাসীরা বেপেরোয়া হয়ে উঠেছে। গার্মেন্টেসের ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রন নিয়ে প্রতিনিয়তই ঘটিয়ে চলেছে সংঘর্ষের ঘটনা। ক্ষমতাসীনদের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি মহল অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে বিসিকে একাধিক গ্রুপ আধিপত্য চালিয়ে আসলেও বর্তমানে এই সেক্টরটি নিন্ত্রণে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসী তেলচোরা পাভেল ও মির্জা বাবু গ্রুপ। প্রভাবশালী এক নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাসদাইর ও আশপাশের এলাকায়। ঝুট সেক্টরে আধিপত্ত বিস্তার করতে তারা গড়ে তুলেছে সন্ত্রাসী বাহিনীও। বৈধ উপায়ে যারা ব্যবসা করছেন, তাদের উপরও হামলা চালানোর অভিযোগে থানায় মামলাও হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মির্জা পাবেল গ্রুপ মালিক পক্ষকে ন্যায্য মুল্য না দিয়ে প্রভাব বিস্তার করে ঝুট মালামাল নামিয়ে নেয়। তারা মালিক পক্ষ ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে ভীতি স্থাপন করতে এলাকায় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। এই বাহিনীতে অশান্ত হয়ে উঠছে ফতুল্লার শিল্প নগরী বিসিক।
জানা গেছে, সন্ত্রাসী মির্জা পাবেল, তার ভাই মেজর বাবু, তাদের সহযোগি ঝুট সন্ত্রাসী বাহাদুর ও তার দুই ছেলে সহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন সম্প্রতি মিজানুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে মালামাল ও নগদ টাকা লুটে নেয়। ওই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মির্জা পাবেল ও তার ভাই মেজর বাবুকে পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করা হলেও মামলার অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামীদের এখনো আটক করা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবেল বাহিনীর সাথে রয়েছে ঝুট সন্ত্রাসী ইসলাম, মাসাইর এলাকার বাহাদুর, জুয়েল ওরফে বেয়াদপ জুয়েল, রিপন, নুর ইসলাম, ইকবাল শেখ, আনোয়ার প্রমুখ। তারা এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে। এমনকি হুমকিও দিচ্ছে মালিকপক্ষ সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের। ফলে তাদের ভয়ে ভীত হয়ে পড়ছে ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যেই মালিকপক্ষ ও অন্যান্য সাধারণ ঝুট ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, পঞ্চবটিতে তেলের ডিপো নিয়ন্ত্রণের পর এবার মাসদাইরে জুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণে মরিয়া হয়ে উঠেছে ফতুল্লার মির্জা পাভেল ওরফে তেল চোরা পাভেল। সেই লক্ষে নিজ ছোট ভাই বাবু ওরফে মেজর বাবুকে নিয়ে গড়ে তুলেছে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীও। ওই বাহিনীতে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এনিয়ে মালিক পক্ষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করলেও মির্জা পাভেল ও তার ভাই মেজর বাবুর ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। সবশেষ গত ২৮ এপ্রিল ফতুল্লার পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন আরবি নীট ওয়্যার থেকে ঝুট নামানোকে কেন্দ্র করে মির্জা পাভেল গ্রুপ সশস্ত্র হামলায় জড়িয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। জানা গেছে, মির্জা পাবেল ও মেজর বাবু এক প্রভাবশালী নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে ফতুল্লার পঞ্চবটিতে অবস্থিত তেলের ডিপো থেকে তেল চুরি করাসহ তেল চুরির সেন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। এর আগে ৩ হাজার লিটার চোরাই তেলসহ র‌্যাবের হাতে ধরা পরে মির্জা পাবেল। তবে, জামিনে বেড়িয়ে তেল চুরির সেন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ রয়েছে পাবেলের বিরুদ্ধে। সবশেষ গত সপ্তাহে মারামারি মামলায় গ্রেফতার হয় মির্জা পাবেল। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছে, ব্যবসায়ীরা যাতে নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালাতে পারে, সেই জন্য আমরা তৎপর রয়েছি। যেকোন অপরাধ দমনে আমরা সচেষ্ট।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *