সোনারগায়ে মামলায় তিন দিন রিমান্ডে অনুতপ্ত মামুনুল হক

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট :
গ্রেফতারের ভয়ে ‘মুষড়ে’ পড়েছিলেন হেফাজতের এক সময়কার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী নেতা মামুনুল হক। বিশেষ করে হেফাজতের প্রথমসারির নেতাদের একের পর এক গ্রেফতারে নিজের ‘মনোবল’ হারিয়ে ফেলতে শুরু করেছিলেন রিসোর্টকাণ্ডে সমালোচিত এই হেফাজত নেতা।
সোনারগাঁ থানায় দায়েরকৃত কথিত স্ত্রী ঝরনা বেগমের দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলার ৩ দিনের রিমান্ড শেষে এমন তথ্যই দিয়েছে জেলা পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।
মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই তিন দিন এ মামলায় রিমান্ডে ছিলেন মামুনুল।
সূত্র জানায়, খুব শিগগিরই গ্রেফতার হচ্ছেন বা হবেন এমনটি বুঝতে পেরেছিলেন মামুনুল। এ জন্যই গত ৩ এপ্রিল রিসোর্টকাণ্ডের পর থেকেই মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। মাদ্রাসার দ্বিতীয়তলার একটি কক্ষে থাকতেন তিনি।
প্রথমদিকে দুই-একবার বের হয়ে দলীয় মিটিংয়ে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর মনোভাব বুঝতে পেরে পরে আর মাদ্রাসা থেকে বের হননি। মাদ্রাসায় অবস্থান করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আসছিলেন তিনি।
এদিকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মামুনুল হক তার কথিত ‘মুতা’ বিয়ের ব্যাপারে অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি যুগান্তরকে জানিয়েছেন, মামুনুল হক রিমান্ডে একেবারেই শান্ত স্বভাবেই আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, মামুনুল হক পুলিশের কাছে তিনটি বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন। তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিয়ে কোনো কাজি পড়াননি। এই দুই বিয়েতে কোনো কাবিননামা ও দেনমোহর ছিল না। তিনি (মামুনুল) স্বীকার করেছেন যে, ‘কাবিন’ ও ‘দেনমোহর’ ছাড়া মেলামেশা করা ঠিক হয়নি, ভুল হয়েছে। এক পর্যায়ে নিজের এসব কর্মকাণ্ডে অনুতপ্ত বলেও স্বীকার করেছেন এই সাবেক হেফাজত নেতা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, ধর্ষণ মামলার বাদী ও তার কথিত স্ত্রী ঝরনা বেগমের স্বামীর সঙ্গে আগে থেকেই তার পরিচয় ছিল। সেভাবে ২০০৭-০৮ সাল থেকে তার সম্পর্ক। স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হলে বাদীর সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টের একটি রুমে নারীসহ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় লোকজন। মামুনুল ওই নারীকে স্ত্রী বলে দাবি করেন। পরে ওই নারী মামুনুলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের মামলা করেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *