গুম হওয়া শিশু ১৪ বছর পর বাসায় ফেরত এবং আদালত থেকে নিজ জিম্মায় মুক্তি

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
শিশু বয়সে কথিত ‘অপহরণের শিকার’ রুবেল ১৪ বছর পর যুবক বয়সে ফিরে এসে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (২১ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মোহসীনের ভার্চুয়াল আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল মোহসীনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন ওই যুবক। আদালত জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন। জবানবন্দি দেওয়ার পর রুবেল জানান, তিনি যে অপহরণ হননি তা আদালতের কাছে বলেছেন। গত ১৪ বছর কোথায়, কীভাবে ছিলেন তাও জানিয়েছেন আদালতকে। তাকে অপহরণের অভিযোগে যারা হয়রানি হয়েছেন তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন রুবেল। তিনি বলেন, এই বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। গত বছর মায়ের সাথে ফোনে কথা হলে বিষয়টি জানতে পারেন। যদিও এই মামলা তারও কয়েক বছর আগেই নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছিল। ২০০৭ সালের ২০ জানুয়ারি নিখোঁজ হয় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের জানু মিয়ার সাত বছরের শিশু রুবেল। ওই ঘটনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকা ১৯ জনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন রুবেলের মা রাহিমা বেগম। মামলার ৬ আসামি গ্রেফতার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগও করেছেন। তবে ঘটনার ১৪ বছর ৪ মাস পর গত বুধবার (১৯ মে) এলাকায় ফিরে আসে কথিত অপহরণের শিকার রুবেল। বর্তমানে তিনি ২২ বছর বয়সী যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের কুড়েরপাড়ে। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে নিয়ে আসা হয় থানায়। পরে শুক্রবার পাঠানো হয় আদালতে। মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতে দুইজন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৯ জনকে আসামি করে অপহরণ মামলা দায়ের করেন রাহিমা বেগম। মামলার আসামিরা হলেন: বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম,বীর মুক্তিযোদ্ধা জুলহাস উদ্দিন, কালাই চান,মনা, আমান, মুসলিম, মানিক, আজিজ, জিন্নাত আলী, সিরি মিয়া, ছালা উদ্দিন, শহর আলী,বাদশা মিয়া, সিরাজুল হক, শুক্কুর মেম্বার, ইয়ানুছ, আউয়াল, রাজু, হোসেন মিস্ত্রি। মামলার এজাহারে বাদী বলেন, ওই বছরের ২০ জানুয়ারি বিকেলে আসামি কালাই ও নুরুল ইসলাম তার ছেলে রুবেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রুবেল আর ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুজির পরও রুবেলকে না পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন রাহিমা বেগম। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে অপহরণ মামলা করেন। মামলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আসামিরা তার ছেলেকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ করেন বাদী। মামলাটি তদন্ত করে থানা পুলিশ, ডিবি, র্যাব ও সিআইডি। তবে কেউই ঘটনার সাথে আসামিদের সম্পৃক্ততা পাননি। সর্বশেষ ২০১০ সালে ডিবি চূড়ান্ত প্রতিবেদন (এফআরটি) দিলে আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *