ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিশু

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট :
গাজা ও পশ্চিম তীরে চলছে ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞ। এ পর্যন্ত ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ২২১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিশু এ পর্যন্ত নিহত শিশু ৬৩ জন। আহত অসংখ্য, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীও। খবর আলজাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সির। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ ও আরব দেশগুলোর যুদ্ধবিরতির আহ্বানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বুধবারও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইসরাইলিদের শান্তির লক্ষ্যে যত দিন প্রয়োজন ততদিন হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বুধবার ভোরেও পশ্চিমতীরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এতে চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। এ নিয়ে গত ৯ দিনের নিধনযজ্ঞে ২২১ ফিলিস্তিনির প্রাণ গেল। এর মধ্যে অন্ত:সত্ত্বাসহ ৩৬ জন নারী রয়েছেন। শিশু ৬৩ জন। আহত হয়েছেন ১৫০৭ ফিলিস্তিনি। ইসরাইলে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধা হামাসের রকেট হামলায় ১২ ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া গত ৯ দিনের সংঘাতে এ পর্যন্ত গাজায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন অন্তত ৪৮ হাজার থেকে ৫২ হাজার মানুষ। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমান হামলা ও আর্টিলারি গোলার আঘাত থেকে বাঁচতে তারা বাড়িঘর ছেড়ে জাতিসংঘ পরিচালিত ৫৮ টি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন। মঙ্গলবার ইসরাইল বলেছে, গাজায় নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৫০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা রয়েছে। তবে হামাসের তরফ থেকে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ইসরাইলের দাবি সংঘাতের শুরুতে ফিলিস্তিনের দুই স্বাধীনতাকামী গ্রুপের কাছে প্রায় ১২ হাজার রকেট কিংবা মর্টার ছিলো। মঙ্গলবার পর্যন্ত ইসরায়েল লক্ষ্য করে প্রায় তিন হাজার তিনশ’ রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০ থেকে পাঁচশ’টি গাজার অভ্যন্তরেই বিস্ফোরিত হয়েছে। ১৯৬৭ সালে জেরুজালেম দখল করে ইসরাইল। এখানে আল আকসা মসজিদ অবস্থিত। যেটি মুসলমানদের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। ১৯৮০ সালে পুরো শহর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ইসরাইল। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন তোয়াক্কা করেনি ইহুদীবাদীরা। সম্প্রতি ইসরাইল ফিলিস্তিনের জেরুসালেমে আল জাররাহ এলাকা দখলে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। এ নিয়ে সেখানকার ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের মধ্যে থেমে থেমে উত্তেজনা চলে আসছিল। গত ৭ মে পবিত্র মাহে রমজানের শেষ জুমা অর্থাৎ জুমাতুল বিদা আদায় করতে বিপুল মুসল্লি আল-আকসা মসজিদে সমবেত হলে ইসরাইলি বাহিনী তাদের ওপর চড়াও হয়। মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ইসরাইলি বাহিনী। এর দুদিন পর শবে কদরেও আল-আকাসা মসজিদে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে মুসল্লিদের সংঘর্ষ হয়। এর প্রতিবাদে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে গত ১০ মে থেকে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও তা আমলে নেয়নি ইসরাইল।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *