কাশিমপুর কারাগার থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে যুক্ত ছিলেন তিনি## না.গঞ্জের কথিত স্ত্রী ঝর্ণার ধর্ষণ মামলাসহ ৫ মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডে মামুনুল হক

সংবাদটি শেয়ার করুন:

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি::
হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের দুই থানায় দায়ের করা পাঁচ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার দায়ের করা ধর্ষণ মামলাও রয়েছে এর মধ্যে।
গতকাল বুধবার (১২ মে) নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবিরের আদালত এ আদেশ দেন। মামুনুল হক কাশিমপুর কারাগার থেকে এই আদালতের সঙ্গে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে যুক্ত ছিলেন। নারায়ণগঞ্জের দুই থানায় দায়ের করা পাঁচ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য এদিন আদালতে উপস্থিত হন মামলাগুলোর তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ও সিআইডি কর্মকর্তারা। তারা মোট ৩৮ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, সোনারগাঁ থানায় তিনটি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দু’টি মামলায় বুধবার দুপুরে শুনানি হয়েছে। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবির ৫ মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে আলেচনায় আসেন হেফাজতের ভূতপূর্ব কমিটির নেতা মামুনুল হক। পরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোরও বিরোধিতা করেন। এই বিরোধিতার জের ধরে দেশে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়। কমপক্ষে ১৭ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। এই সহিংস পরিস্থিতির পেছনে মামুনুল হকের উসকানি ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।এর মধ্যেই গত ৩ এপ্রিল বিকেলে সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে এক নারীসহ স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হন মামুনুল হক। তিনি ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। এ খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তার অনুসারীরা রিসোর্টে হামলা করে ভাঙচুর চালিয়ে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান। তারা মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান। ঘটনার পর স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও সাংবাদিকের বাড়িতে হামলাও চালান মামুনুলের অনুসারীরা। এসব ঘটনায় সোনারগাঁয় থানায় দুইটি মামলা হয়। এদিকে, ৩ এপ্রিলের রিসোর্টকাণ্ডের পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন মামুনুলের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নান আরা ঝর্ণা। প্রায় একমাস পর ২৯ এপ্রিল তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। ৩০ এপ্রিল তিনি সোনারগাঁও থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তিনি গত দুই বছর ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন মামুনুল হকের বিরুদ্ধে। সোনারগাঁও থানার এই তিনটি মামলা ছাড়াও সাইনবোর্ড এলাকায় নাশকতার অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আরও দু’টি মামলা হয়। এসব মামলাতেও আসামি হিসেবে আছেন মামুনুল হক।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *