রোদ-বৃষ্টি, ধুলাবালি আর শব্দদূষণ যেন ট্রাফিক পুলিশের নিত্যসঙ্গী

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শহর প্রতিনিধি:
রোদ-বৃষ্টি, ধুলাবালি আর শব্দদূষণ যেন ট্রাফিক পুলিশের নিত্যসঙ্গী। দিন-রাত রাস্তায় থাকার কারণে নানা রোগে ভুগছেন তারা। এর মধ্যে সাইনোসাইটিস, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা লেগে থাকে সারা বছরই। যানবাহনের তীব্র হর্নের কারণে শ্রবণ সমস্যায়ও ভোগেন অনেকে। এখানেই শেষ নয়; সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণেও আছে নানা বিড়ম্বনা। গাড়িচালক ও পথচারীদের বেশিরভাগেরই রয়েছে আইন না মানার প্রবণতা। আইন মানাতে গেলেই নানা ধরনের হুমকি-ধমকির মুখোমুখি হতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। তারপরও এসব সামাল দিয়েই দায়িত্ব পালন করেন তারা। ঝালকাঠি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের দুঃখ-কষ্টের নানা কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক পুলিশের কয়েকজন সদস্য জানান, কনস্টেবল ও সার্জেন্টরা দিনে আট ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করলেও ইন্সপেক্টর থেকে উপরের কর্মকর্তারা ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারা ঝুঁকি ভাতা পেলেও ট্রাফিক (নিরস্ত্র) বিভাগের কর্মকর্তারা পান না। পদোন্নতির ক্ষেত্রেও তারা বঞ্চিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সার্জেন্ট বলেন, “একই ব্যাচে কনস্টেবল ও সার্জেন্ট হিসেবে যোগ দিয়েছি। এখনও সেই পদেই বহাল আছি। একই ব্যাচে যোগ দেয়া একজন কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পেয়ে এএসআই হয়ে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে ডাকতেন। ওই এএসআই পরে এসআই হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে তাকে (সার্জেন্টকে) ‘ভাই’ ডাকা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি পদোন্নতি পেয়ে ইন্সপেক্টর হন। এখন তাকেই বরং সেই এএসআইকে (ইন্সপেক্টর) ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতে হচ্ছে।” এই সার্জেন্ট আরও বলেন, রাস্তায় দায়িত্ব পালনের সময় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলেই নানা ধরনের হুমকি-ধমকির শিকার হতে হয়। কাগজপত্রসহ নানা কারণে যানবাহন আটকালে তদবির শুরু হয়ে যায়। প্রভাবশালীরা আইন-কানুনের তোয়াক্কা করেন কম। অনেকে আবার চাকরি খাওয়ারও হুমকি দেন। নানা ধরনের অপবাদও দেয়া হয়। মামলা করলে বলা হয় ‘ঘুষ’ না দেয়ায় মামলা দেয়া হয়েছে। আবার মামলা না করলে বলা হয় ‘ঘুষ’ নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তীব্র শব্দদূষণের মাঝে সারাক্ষণ রাস্তায় দায়িত্ব পালন করার কারণে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যায়ও ভুগছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। গতকাল শনিবার (৮ মে) শহরের চাষারার মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য জানান, বছরের পর বছর রাস্তায় ডিউটি করার কারণে এখন তিনি কানে ভালো করে শুনতে পান না। তিনি মনে করেন সারাক্ষণ গাড়ির হর্ন, আর রাস্তায় নানান ধরনের শব্দের কারণেই তার কানের এই অবস্থা। নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দায়িত্ব পালন করতে হয় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক জায়গায় ট্রাফিক বক্স করে দেয়া হলেও এসব বক্সে ওয়াশরুম করা হয়নি। আশপাশের অফিস বা মার্কেটে গিয়ে তাদের বাথরুম সেরে আসতে হয়। শহরে দায়িত্ব পালনরত এক সার্জেন্ট বলেন, ‘টানা আট থেকে ১০ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে হয়। বসার সময়টুকুও পাই না। আজকাল কোমর ও মেরুদণ্ডে খুব ব্যথা হয়। ডাক্তার বিশ্রাম নিতে বলেছেন। কিন্তু চাকরি করলে কি আর বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ আছে? ঝড়-বৃষ্টির দিনেও ডিউটি করতে হয়।’আরেক ট্রাফিক কনস্টেবল নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের কষ্টের কি শেষ আছে? একটু পানি খাওয়ার জন্যও সরতে পারি না। একটু সরলেই রাস্তায় গাড়ির জট লেগে যায়। গায়ে পুলিশের পোশাক, কিন্তু ধুলাবালির কারণে বেশিরভাগ সময়ই তা অপরিষ্কার থাকে। আমাদের সরকারিভাবে বেশি পোশাকও দেয়া হয় না। ফলে ময়লা পোশাক পরেই ডিউটি করতে হয়।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাষাড়া ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (ইনচার্জ) মো.কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টা ডিউটি করি এটা ঠিক। কিন্তু পুলিশে যখন ঢুকেছি, তখন তো এগুলো জেনে-শুনেই ঢুকেছি। মানুষের জন্য কাজ করব। প্রয়োজনে সারাদিনই কাজ করব। তবে মূল সমস্যা হচ্ছে রাস্তায় অনেকেই আইন মানতে চান না। সবাই যদি আইন মেনে চলেন তাহলে রাস্তার পরিবেশ ভালো থাকবে। ট্রাফিক পুলিশের ভোগান্তিও কমে আসবে।’


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *