দৈনিক সোজা সাপ্টা, ইয়াদ, রুদ্রবার্তাসহ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত ওয়ারেন্ট ইস্যুর সংবাদে আশরাফ উদ্দিনের ব্যাখ্যা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

যাত্রাবাড়ী থাকায় গত ২৮ মার্চ পুলিশের দায়ের করা হেফাজতের ডাকা হরতালের তান্ডরের মামলাটিকে ভুলখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালিয়েছে এক দুস্কৃতিকারী চক্র। মামলায় কোন আসামীর নাম উল্লেখ না থাকলেও গোদনাইল ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন সংগ্রামী সভাপতি দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক আশরাফ উদ্দিনের নাম দিয়ে ওয়ারেন্ট ইস্যু বলে বিভ্রাস্তকর সংবাদ প্রকাশ করেছে কয়েকটি দৈনিকে ও অনলাইনে। যে আ’লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত তাকে হেফাজতের মামলায় জড়িয়ে মিথ্যে সংবাদ প্রকাশ করার পর তার প্রমানসহ সুষ্ঠু ও সাবলিল জবাব বিবৃতির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন কেন্দ্রিয় ট্যাংকলরী শ্রমিক নেতা আশরাফ উদ্দিন।
গতকাল ৪ মে রোজ মঙ্গলবার দৈনিক সোজা সাপ্টা, নারায়নগঞ্জ ২৪ ডট নেট, দৈনিক ইয়াদ, রুদ্রবার্তা ও এনগঞ্জ নিউজ আপডেট অনলাইনে বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল মেঘনা শাখার সংগ্রামী সভাপতি দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ‘হেফাজতের নাশকতার মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি’ শিরোনামে মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে হয়রানীমুলক ও মানহানীকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত সংবাদটি আশরাফ উদ্দিনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদ প্রকাশ করেই সুযোগ্য সাংবাদিকরা ক্ষান্ত হয়নি, তারা মিথ্যে সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করেছে। প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে আশরাফ উদ্দিন সুস্পষ্ট ও তথ্য বহুল বক্তব্য বিবৃতির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন যা হুবহু তুলে ধরা হলো:…..প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে ঢাকার যাত্রাবাড়ি থানায় দায়ের করা মামলায় আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এই ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে। যাত্রাবাড়ি থানার এফআইআর নং-১১৭/৩৮০। গত ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতাল চলাকালে ওইদিন দিবাগত রাতে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। ওই মামলায় আশরাফ পিতা-বাচ্চু মিয়া, এসওরোড বায়রা বাড়ী, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জকে আসামী করা হয়। যাত্রাবাড়ি থানা থেকে ওয়ারেন্টটি তামিল করার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পাঠানো হয়েছে বলে সূত্র জানায়। এই তথ্য একেবারেই মিথ্যে তথ্য ও বানোয়াচ। এ বিষয় নিয়ে যাত্রাবাড়ী থাকার ওসি’র সাথে যোগাযোগ করে মামলার নকল কপি তুলে দেখা যায় গত ২৮ মার্চ পুলিশের দায়ের করা এফআইআর নং-১১৭/৩৮০ মামলাটি দায়ের করেছেন পুলিশ পরিদর্শক অপারেশন আয়ান মাহমুদ। মামলায় আসামীদের তালিকায় কোন আসামীর নাম উল্লেখ নেই। সেখানে অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিদের নাম বলা হয়েছে। তাহলে এখানে দৈনিক স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক আশরাফের নাম আসলো কোথা থেকে? এখানে স্পষ্ট যে, হয়রানী ও মানহানী করতে এফআইআর নং-১১৭/৩৮০ মামলার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যে তথ্য সাংবাদিকদের দিয়ে সংবাদ করার প্ররোচনা প্রদান করা হয়েছে। আর অদক্ষ ও অপরিপক্ক সাংবাদিক ভুলে গেছে তার দায়িত্ব। কখন মামলার ওয়ারেন্ট হয় তাও ভুলে গেছে। একটি মামলা তদন্ত করে ঘটনার সাথে আসামীর সম্পৃক্ততা পেয়ে কারো বিরুদ্ধে চার্জশীট প্রদান করে পুলিশ। তারপর আসামীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয় এটাই আইন। তথচ সাংবাদিক সেই আইন না জেনে নিউজ করে দিলো ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ কখন চার্জশীট দিলো আর কখন ওয়ারেন্ট ইস্যু হলো। সংবাদে সেই বিষয়ে স্পষ্ট নেই। নেই যাত্রাবাড়ী থানার ওসি’র বক্তব্য। নেই সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়ারেন্ট এসেছে সে বিষয়ে নিয়ে ওসি’র বক্তব্য। তাতে বুঝা গেছে এটি সম্পূর্ন উদ্দেশ্য প্রনোদিত। মিথ্যে ও বানোয়াট। কোন কিছুর বিনিময়ে সংবাদের উদ্দেশ্য মানহানী করা। সংবাদে এলাকাবাসীর বরাদ দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে তারা নাকি জানিয়েছে, আমি আশরাফ উদ্দিন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বর্তমানে সে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পারেশন (নাসিক) ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির সেল্টারে রয়েছে। এই ধরনের অভিযোগ আজকের নতুন নয়। এই ধরনের অভিযোগ অনেক পুরোনো। আমি আশরাফ উদ্দিনকে একবার যুবদল একবার স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা বানিয়ে চলছে সম্মানীয় সাংবাদিকরা। আর তা প্রমান ছাড়াই অভিযোগ। এই অভিযোগের উত্তর দিতে দিতে আমি আশরাফ উদ্দিন হয়রান হয়ে গেছি। তারপর অদক্ষের দলেরা তর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। আমি আশরাফ উদ্দিন বার বার চ্যালেঞ্জ করে বলছি, এলাকার যুবদল স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতারাও চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছে আশরাফ বিএনপি’র কোন অঙ্গ-সংগঠনের কবে কোন পদে ছিলো তা প্রমান দেখান। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেহ প্রমান দেখাতে পারেনি। কারন আমি যুবদল কিংবা স্বেচ্ছাসেবক দল কখনো করিনি। বরং বিএনপি’র আমলে আমি ও আমার পরিবার নির্যাতিত হয়েছে। পিতা গ্রেফতার হয়েছে। আমি ১বছরে ঘরে থাকতে পারেনি। সংবাদে বলা হয়েছে আশরাফ ২০০৯ সালে আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পর নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসাবে জাহির করার চেষ্টা করছে। সাংবাদিকরা নিজেদের সংবাদে নিজেরাই ধরা খেয়ে গেছে। যে ২০০৯ সাল থেকে আ’লীগ প্রবেশ করে যুবলীগ নেতা হতে চাইছে সে আবার হেফাজতের মামলার আসামী হয় কিভাবে। যুবলীগের কি হেফাজতের সাথে সম্পর্ক আছে নাকি। বরং হেফাজতের সাথে যুবলীগের দা-কুড়াল সম্পর্ক। আশরাফ যুবলীগ ২০০৯ সালের পর থেকে করার চেষ্টা করলে তার নামে হেফাজতের মামলা হবে কিভাবে এটা বিচার করার মতো জ্ঞান কি সাংবাদিক ভাইদের নাই। এ থেকে বুঝা গেলো সাংবাদিকরা জ্ঞান খাটিয়ে লিখে নাই। সংবাদে বলা হয়েছে আশরাফ উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পারেশন (নাসিক) ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান মতির সেল্টারে রয়েছে। কথা সত্য। মতিউর রহমান মতি একজন জনপ্রিয় নেতা। জনপ্রিয় কাউন্সিলর। তার সেল্টারে থাকতে পেরে অনেকেই ধন্য। কারন তার সাথে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যায়, এলাকার উন্নয়ন করা যায়। আমিও তার সাথে আছিও থাকবো ইনশাআল্লাহ। সংবাদে বলা হয়েছে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় ২০১৪ সালের পর মেঘনা ডিপোর দায়িত্ব নিয়েই ডিপোর ইনচার্জ খান নিজামুল করিমের সাথে যোগসাজেসে অনিয়ম করে তেল পাচার করে মোটা অংকের টাকার মালিক হয়েছে মো. আশরাফ উদ্দিন। এই সংবাদের ব্যাপারে বলতে হয়, আমি একজন লাইসেন্সধারী বৈধ ব্যবসায়ী। সিদ্ধিরগঞ্জে যে কয়েকজন হাতে গনা বৈধ ব্যবসায়ী রয়েছে তাদের মধ্যে আমি একজন ও অন্যতম। যার ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স, ডিসি’র এসওসিসহ সকল ধরনের লাইসেন্স রয়েছে। সরকারকে টেক্স দিয়ে ব্যবসা করা আমার বিরুদ্ধে তেল পাচার বিষয়টি হাস্যকর। এর আগেও অনেকে এই ধরনের অভিযোগ করলেও তা প্রমান করতে পারেনি। বরং যারা ষড়যন্ত্র করেছে তারা বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হয়েছে। সংবাদে অভিযোগ করা হয়েছে আশরাফসহ তার সহযোগীরা শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে তেলবাহি জাহাজ থেকে রাতের আধারে তেল পাচার করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। প্রচুর টাকার মালিক বনে গেছে সে। অথচ গত ১০ বছর আগে সে কত টাকা মালিক ছিল তা তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে। তাই অনুসন্ধান করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এলাকাবাসী। এই বিষয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমি যদি অবৈধভাবে টাকার মালিক হয়ে থাকি তাহলে দুদক অভিযান চালাবে, প্রমান পেলে মামলা করবে। এটা দুদকের কাজ। কিন্তু আজ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারীরা অনেক অভিযোগ করেছে কিন্তু তার সত্যতা দুদক পায়নি। পরিশেষে আশরাফ উদ্দিন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সাংবাদিকতা আমার পেশা নয়, আমার নেশা। আজকে স্বাধীন বাংলাদেশ পত্রিকা প্রকাশক হবার পর থেকে আমি নিজের লাভ খুজি নাই। তবে এর মাধ্যমে কয়েকজন মানুষের জিবিকার ব্যবস্থা হয়েছে। দেশের উন্নয়নে কাজ হচ্ছে। সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। সত্য ঘটনা উদঘাটন করেন। আমার পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত বলে আমি আইনের উর্ধ্বে নই। আমি অন্যায় করলে আমার বিরুদ্ধে আপনারা লিখেন, আমার ভুল ধরিয়ে দিন। তাতে আমি নিজেকে শুধরিয়ে নিবো। কিন্তু অহেতুক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে মানহানীকর সংবাদ প্রকাশ করবেননা। আপনাদের সহকর্মী, সহযোদ্ধা যদি নাই ভাবেন তাহলে আপনাদের ছোট ভাই হিসাবে ভেবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করুন। এটাই আমার সর্বশেষ কথা। আমি উপরোক্ত পত্রিকা ও অললাইনে আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *