মামলায় মামুনুলের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনলেন জান্নাত

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রির্পোর্ট:
হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে কেবল ধর্ষণই নয় টানা ২৪ দিন ওই নারীকে একটি বাড়িতে আটকে রাখারও অভিযোগ তোলা হয়েছে। বড় ছেলের সাথে যোগাযোগের পর আইনশৃঙ্খল বাহিনীর মাধ্যমে গত ২৭ এপ্রিল উদ্ধার হয়েছেন বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী। গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে এই নারীসহ অবরুদ্ধ হয়েছিলেন মামুনুল হক। তখন তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন এই হেফাজত নেতা। যদিও মামলার কোথাও মামুনুল হক তাকে বিয়ে না করেই নানা প্রলোভনে ও প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন বলেই অভিযোগ ওই নারীর।
গতকাল শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সোয়া দশটার দিকে ‘কথিত’ দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা নিজে বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি হাফিজুর রহমান।
মামলায় বাদী বলেছেন, ‘বিয়ের প্রলোভন ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ২০১৮ সাল থেকে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে আমাকে নিয়ে যান।’
২০০৫ সালে পূর্বের স্বামীর মাধ্যমে মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই নারীর। স্বামীর বন্ধু হওয়ায় তাদের বাড়িতে মামুনুলের অবাধ যাতায়াত ছিল। মামুনুলের সঙ্গে পরিচয়ের আগে তাদের সংসার সুখেশান্তিতে চলছিল বলে উল্লেখ করেন মামলার বাদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মতানৈক্যের মধ্যে প্রবেশ করে মামুনুল হক আমার স্বামী ও আমার মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। মামুনুলের কারণে আমাদের দাম্পত্য জীবন চরমভাবে বিষিয়ে ওঠে। সাংসারিক এই টানাপোড়েনে একপর্যায়ে মামনুলের কুপরামর্শে ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।’
অভিযোগে মামুনুল হকের দাবি করা কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী বলেন, ‘বিচ্ছেদের পর তিনি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় মামুনুল আমাকে খুলনা থেকে ঢাকায় আসার জন্য বলেন। আমি ঢাকায় চলে আসি। মামুনুল আমাকে তাঁর অনুসারীদের বাসায় রাখেন। সেখানে নানাভাবে আমাকে প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে তাঁর প্রলোভনে পা দিই। এরপর তিনি উত্তর ধানমন্ডির নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসায় আমাকে সাবলেট রাখেন। একটি বিউটি পারলারে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। ঢাকায় থাকার খরচ মামুনুলই দিচ্ছিলেন। গত দুই বছর যাবৎ আমাকে বিভিন্ন সময়ে ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় পরিচিত বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে ঘোরাঘুরির নাম করে রাত্রিযাপন করতেন এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন।’
অভিযোগে ওই নারী বলেন, ‘৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল হক নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে কিছু মানুষ আমাদের আটক করে ফেলে। পরে মামুনুল হকের অনুসারীরা রিসোর্টে হামলা করে আমাদের নিয়ে যায়। কিন্তু মামুনুল আমাকে নিজের বাসায় ফিরতে না দিয়ে পরিচিত একজনের বাসায় আটকে রাখেন। কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেননি। পরে কৌশলে আমি আমার বড় ছেলেকে আমার দুরবস্থার সব কথা জানাই এবং আমাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে বলি। পরে গত ২৭ এপ্রিল ডিবি পুলিশ আমাকে উদ্ধার করলে জানতে পারি, আমার বাবা রাজধানীর কলাবাগান থানায় আমাকের উদ্ধারের জন্য একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ আমাকে উদ্ধারের পর বাবার জিম্মায় দেয়। সেখানে আমি আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়।’


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *