এসপি জায়েদুল আলম বলেন হেফাজত নেতা মামুনুলকে কথিত স্ত্রীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় এরেস্ট দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হবে

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্বাধীন বাংলাদেশ রিপোর্ট:
হেফাজত নেতা মামুনুল হককে ধর্ষণ মামলায় এরেস্ট দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম৷

গতকাল শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর ধর্ষণ মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান৷
এসপি জায়েদুল আলম বলেন, সকালে মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন৷ অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়৷ অভিযোগকারীর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে৷ মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ সামগ্রীক তদন্ত শুরু হয়ে গেছে৷ মামলাটি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে৷ ভুক্তভোগী যেন সুবিচার পান সে চেষ্টা থাকবে৷ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, মামলার কার্যক্রম অনুযায়ী এই মামলায় আসামিকে শ্যোন এরেস্ট দেখানো হবে৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেরও আবেদন করা হবে৷ মামলার বাদী এতদিন কোথায় ছিলেন? এ প্রশ্নের জবাবে এসপি বলেন, মামলায় বাদী বিষয়টি উল্লেখ করেছেন৷ তাকে এতদিন রাজধানীর একটি বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল৷ তিনি তার পিতার সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে উদ্ধার হয়েছেন৷ বর্তমানে তিনি তার পিতার হেফাজতে আছেন৷ গতকাল শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) সকাল সোয়া দশটার দিকে ওই নারী নিজে বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলাটি দায়ের করেন৷বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি হাফিজুর রহমান৷ ওসি বলেন, মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী নিজে বাদী হয়ে সকালে মামলাটি দায়ের করেছেন৷ ওই মামলায় ধর্ষণের অভিযোগে একমাত্র আসামি করা হয়েছে মামুনুল হককে৷ মামুনুল হকের সাথে তার কোনো বিয়ে হয়নি বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী৷ মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর পূর্বের স্বামীর মাধ্যমে পরিচয় হয় মামুনুল হকের সাথে৷ পরবর্তীতে মামুনুল হকের প্ররোচণায় ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট তাদের বিচ্ছেদও হয়৷ এরপর বিভিন্ন প্রলোভনে বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে নিয়ে বাদীকে ধর্ষণ করেন মামুনুল হক৷ গত ৩ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টেও বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন ওই
নারীকে৷ রিসোর্ট কান্ডের পর তাকে মামুনুল হক তার পরিচিত জনের মাধ্যমে একটি বাড়িতে আটকে রাখেন৷ পরে বাদী তার বড় ছেলের সাথে যোগাযোগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ২৭ এপ্রিল সেখান থেকে উদ্ধার হন বলেও মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন৷ প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে মামলার বাদী এই নারীসহ অবরুদ্ধ হন হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক৷ পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে এবং এই নারীকে সেখান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান হেফাজতের সমর্থকরা৷ রিসোর্ট, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের অফিস, নেতা-কর্মীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাডীতে হামলা চালায় হেফাজত কর্মীরা৷ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগুন দিয়েও অবরোধ করেন তারা৷ রিসোর্টে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিককেও নির্যাতন করা হয়৷ এসব ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় সাতটি মামলা দায়ের করা হয়৷


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *