নারায়ণগঞ্জের শপিংমল গুলোতে প্রথমদিনে ক্রেতা কম হলেও নেই কোন স্বাস্থ্য সুরক্ষা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

শহর প্রতিনিধি:
করোনাভাইরাস সংক্রামণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত ‘কঠোর’ লকডাউনের মধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে বিপণি বিতান; প্রথম দিন শহরের মার্কেট,শপিং মলগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি কম হলেও নেই কোন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সচেতনতা।অন্যদিকে মার্কেট ও শপিংমলগুলো খোলায় কিছু কিছু মার্কেটে দেখা গেছে উপচে পড়া ভীড়।
গতকাল রবিবার(২৫ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শপিং মল খোলার পাশাপাশি ফুটপাতে ভ্রাম্যমাণ পোশাকের দোকানও চালু হয়ে গেছে। তবে কিছু কিছু এলাকায় গুটিকয়েক বিপণি বিতান এখনও বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই লকডাউনের বিধি নিষেধ রবিবার(২৫ এপ্রিল)একাদশ দিনে এসে শিথিল করা হয়েছে মানুষের ‘জীবন-জীবিকার’ বিবেচনায়।সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার।কিন্তু নারায়ণগঞ্জ শহরে অধিকাংশ শপিংমল ও মার্কেট গুলো স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই খুলেছে দোকান। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, মার্কেটের নিয়ম শিথিল হলেও গণপরিবহন বন্ধ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ রাস্তাঘাটে বের হচ্ছে না। ফলে বিপণি বিতান খুললেও ক্রেতা সেভাবে নেই। ঈদের আগে ভালো বেচাকেনার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। বিপণি বিতান খোলার অনুমতি দেওয়া হলেও বাইরে বের হতে আগের মতই ‘মুভমেন্ট পাস’ লাগবে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে রবিবার ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা কাউকেই মুভমেন্ট পাসের জন্য আটকাতে দেখা যায়নি। সকালে আল জয়নাল ট্রেড্রাস,শান্তনা মার্কেট,বেলী টাওয়ার,হক প¬াজা,মার্ক টাওয়ার,সমবায় মার্কেট,জামান টাওয়ার,পানোরামা প-াজা,লুৎফা টাওয়ার,সায়াম প¬াজা,জ্যোৎস্না ট্রেডার্স মার্কেট,ওয়াহিদ প¬াজা,নারায়ণগঞ্জ প¬াজা,ফেন্ডস মার্কেট,নুরুল ইসলাম রেলওয়ের মার্কেট, রিভারবিউ,ওয়ালী সুপার মার্কেট,সোনার বাংলা মার্কেট,টোকিও প¬াজা,আজহার সুপার মার্কেট,দেলোয়ার মার্কেট,করিম সুপার, আজাদ সুপার মার্কেট এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা একেবারেই কম। অধিকাংশ মার্কেটে বিক্রেতারা দোকান পরিষ্কার আর পণ্য গোছগাছ করে সময় কাটাচ্ছেন। সমবায় মার্কেট ঘুরে দেখা যায় লকডাউনের মধ্যে মার্কেট খোলার প্রথম দিনেই মানুষের উপচে পড়া ভীড় দেখা যায়।কোন প্রকার স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই খোলা হয়েছে মার্কেট।ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়কে মাস্কবিহীন দেখা যায়। মার্ক টাওয়ার একজন নিরাপত্তাকর্মী জানালেন, ‘কঠোর’ লকডাউন আসছে শুনে গত ১১ এপ্রিল তিনি দিনাজপুরে গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। এখন নতুন করে আবার মার্কেট খুলছে শুনে একটি পণ্যবাহী ট্রাকে চড়ে শনিবার নারায়ণগঞ্জে ফিরেছেন। এ মার্কেটের একটি প্রসাধনীর দোকানের মালিক সালাম বললেন, “এখন আর কী বেচাকেনা হবে বলেন, লকডাউনের ভয় তো সবার মধ্যেই আছে। চারদিকে রোগ বাড়ছে। কিন্তু আমরা তো মাসের পর মাস বসে থাকতে পারি না। যতটুকু সম্ভব নিজেকে বাঁচিয়ে চলতে হবে।”সায়াম প¬াজার বাইরেই সড়কের ওপরে ভ্যানগাড়িতে শার্টপ্যান্টের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মোহাম্মদ হোসেন। এমনিতে তার বেচাবিক্রি দিয়ে দিনের খরচ চলে। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে ভালোই চাপে পড়েছেন তিনি। তিনি বলেন,“লকডাউনের মধ্যে বেকার ছিলাম। এখন দোকান খুলে বসছি। কিন্তু সন্ধ্যার আগেই উঠে যেতে হবে। আমার বেচাকেনাটা হয় মূলত সন্ধ্যার পরে। গরীব মানুষজন পোশাক কেনে।”এর মধ্যেও ফেন্ডস মার্কেটে পরিবারসহ কেনাকাটা করতে এসেছিলেন শাহাবুদ্দিন নামের একজন। তিনি জানালেন, সরকার লকডাউন তুলে দিলেই সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে যাবেন। সে কারণে ভিড় বাড়ার আগেই কিছু কেনাকাটা সেরে নিতে এসেছেন। অন্যদিকে লুৎফা টাওয়ার,সায়াম প¬াজা,জ্যোৎস্না ট্রেডার্স মার্কেটে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের লক্ষ্যে জীবাণুনাশক ট্যানেল বুথ,জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হচ্ছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *