ফতুল্লায় তল্লা মসজিদের পাশে ফের গ্যাস বিস্ফোরণ, নারী-শিশুসহ দগ্ধ ১১ # ঘটনাস্থলে ডিসি-এসপি, আর্থিক সহায়তার ঘোষণা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্টাফ রিপোর্টার:
ফতুল্লায় সেই তল্লা মসজিদে গ্যাস বিষ্ফোরণে ৩৫ জন নিহতের শোকের রেশ না কাটতেই ফের মসজিদের পাশেই এক বাড়িতে গ্যাসের চুলা থেকে নির্গত জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে কয়েকজন নারী ও এক শিশুসহ এগারোজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে ১০ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- হাবিবুর রহমান (৫০), লিমন (২০), সাথী (২০), মীম (২০), মাহিরা (৩ মাস), আলেয়া (৫০), সোনাহার (৪০), শান্তি (৩২), সামিউল (২০) ও মনোয়ারা (২২)। তাদের মধ্যে লিমন, সাথী, মীম, মাহিরা ও আলেয়াকে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। অপর ছজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) ভোরে তল্লা এলাকায় মডেল গার্মেন্টস এর দক্ষিণ পাশে স্থানীয় মফিজুল ইসলামের বাড়ির ৩য় তলায় ভাড়াটের ফ্ল্যাট বাসায় এই দূর্ঘটনা ঘটে। বিষ্ফোরণে ওই বাসার দেয়ালও ধ্বসে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোসহ দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় গার্মেন্টস শ্রমিক কয়েকটি পরিবার বসবাস করেন। রাতে একটি পরিবারের লোকজন চুলার বার্ণার বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে পড়েন। এতে চুলা থেকে গ্যাস বের হয়ে রান্নাঘরসহ অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে জমাট বেঁধে থাকে।
ভোরে রান্নার জন্য চুলায় আগুন জ্বালালে গ্যাসের পাইপ লাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় দুই মাস বয়সের একটি শিশুসহ ছয়জন নারী ও চারজন পুরুষ আগুনে দগ্ধ হন।
তাদের মধ্যে শিশুটিসহ পাঁচজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয় এবং ছয়জনকে সদরের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।
এদিকে গ্যাস বিষ্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ। এ সময় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর কর্মকর্তা, তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এর কর্মকর্তা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, নারায়ণগঞ্জ এর কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এর নিমিত্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা বেগমকে আহ্বায়ক করে একটি সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নারায়ণগঞ্জ সদর উক্ত কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। গঠিত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। পরে তিনি অগ্নিদগ্ধ ভবনটির সিলগালা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এবং দগ্ধ ১১ জনের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেন।
এরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার, নারায়ণগঞ্জ জনাব মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, পিপিএম (বার)। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিতে ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ আহতদের খোঁজ খবর নেন।
এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জনাব মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) জনাব মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, ওসি ফতুল্লা জনাব রকিবুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *