রূপগঞ্জে ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ

সংবাদটি শেয়ার করুন:

স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকার হাজী শপিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারে চলছে ভুল চিকিৎসা। বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ও ফ্রি চিকিৎসার নামে সুকৌশলে মানুষকে বোকা বানিয়ে এই হাসপাতালে এনে ভালো চিকিৎসার নামে ভুল চিকিৎসা করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এই হাসপাতালে কাজের বুয়া থেকে শুরু করে ম্যানেজার পর্যন্ত সবাই ডাক্তার। যদিও সাপ্তাহে একদিন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আসে আর বাকি দিনগুলো ডাক্তারের কাজ করেন হাসপাতালের ম্যানেজারসহ ঝাড়ু দেয়ার লোক ও স্টাফগণ। এছাড়া ঔষধ কোম্পানির এস.আরগণও এই চিকিৎসার কাজে অংশ নেন। এতে করে বুঝার উপায় নেই কে ডাক্তার কে ঔষধ কোম্পানির এস.আর কে বা কাজের বুয়া। এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা তাদের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে পড়েন বিপাকে। এই ভুল চিকিৎসায় ছোট রোগটি বড় রোগে পরিনত হয়ে রোগীর জীবনকে অতিষ্ঠ ও যন্ত্রণাদায়ক করে তুলছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সারা দেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হলেও ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারের ম্যানেজারসহ স্টাফদের কারো মুখে মাস্ক নেই। এছাড়া এই হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের যথেষ্ট সুরক্ষা সারঞ্জমও দেখা যায়নি। জানা গেছে, ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারে নতুন রোগীদের ফিঃ নেয়া হয় ৬‘শ টাকা আর পুরাতন/ফলোআপ রোগীদের ফিঃ ৪‘শ টাকা । আরো জানা গেছে, ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারের বর্তমান ম্যানেজার তানিয়া একসময় রিসিপশনের কাজ করতো। এখন তিনি রোগী দেখাসহ ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে। ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারে এমনই ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে চোখ হারাতে বসেছেন উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাওঘাট এলাকার রবিন মিয়ার স্ত্রী। রবিন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী ইভার চোখে ঘামাছির মতো ছোট ছোট গোটা দেখা যাচ্ছিল। তাই আমি গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) আমার স্ত্রীকে গোলাকান্দাইল হাজী শপিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারে নিয়ে যাই। বায়জিদ হাওলাদার নামে হাসপাতালের এক এমবিবিএস নামধারী ডাক্তার আমার স্ত্রীর চোখ দেখে ওয়াস করে ঔষধ দিয়ে দেয়। সে ঔষধ খাওয়ার পর দুদিন যেতে না যেতেই চোখের অবস্থা আরো খারাপ হতে লাগে। এজন্য আমার স্ত্রী ইভাকে পুনরায় ডাক্তার দেখানোর জন্য নরসিংদী ভেলানগর সরকারি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার আগের চিকিৎসাকে ভুল চিকিৎসা বলে ব্যক্ত করে বলেন, কোথা থেকে এই চিকিৎসা করিয়েছেন? এতে চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম রয়েছে। রোগীর স্বজন ও হাজী শপিং কমপ্লেক্সে কর্মরত সজিব সাংবাদিকদের জানান, ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারে গিয়ে ম্যানেজার তানিয়ার কাছে কি চিকিৎসা করা হয়েছে এমনটা জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে নারাজ। এদিকে ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারের এমবিবিএস নামধারী ডাক্তার বায়জিদ হাওলাদার হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ করে রাখেন। ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারের স্টাফ রায়হানের কাছে ঔষধ কোম্পানির এস.আর মেহেদীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেহেদীও রোগীদের চোখের পরিক্ষা করেন। সে কি ডাক্তার ? প্রশ্ন করলে বলেন, না তিনি তো ঔষধ কোম্পানির এস.আর। তবে মেহেদীর বিষয়ে বেশি কথা বইলেন না তার ভাই এসপি। ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারের রিসিপশনে থাকা কলির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মাঝে মধ্যে রোগীদের চোখ পরিক্ষা করি এবং ঔষধ দেই। আপনার মূলত কাজ কি? প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রিসিপশনে বসা। চোখ পরিক্ষা ও ঔষধ দেয়ার কাজ করেন কেন? প্রশ্ন করা হলে বলেন, এগুলো করি শিখার জন্য। ইউনিটি চক্ষু হাসপাতাল এন্ড ফ্যাকো সেন্টারের ম্যানেজার তানিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এ বিষয়ে তিনি বক্তব্য দিতে রাজি নয়। নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, চক্ষু হাসপাতালে যদি এমন চিকিৎসা করে থাকে তাহলে আমরা অতি শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করবো।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *