কঠোর লকডাউনেও লৌহজংয়ের গোয়ালীমান্দ্রা হাটে জনসমাগম, বালাই নেই স্বাস্থ্যবিধির

সংবাদটি শেয়ার করুন:

মো.শওকত হোসেন, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা;
কঠোর লকডাউনের মধ্যেও মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। লকডাউনে হাট বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশ পাননি বলে জানান হাটের ইজারাদার শাহাবউদ্দিন খান বাবু। প্রশাসন থেকে কোনো বাধা না পেয়ে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে ক্রেতা- বিক্রেতারা বেচাকেনা করেছেন। উপজেলার সবচেয়ে বড়ো হাট হচ্ছে গোয়ালীমান্দ্রা। প্রতি মঙ্গলবার এ হাট বসে। লকডাউনে হাট খোলা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কেউ বলছেন, নিম্নবিত্ত ও গরীব মানুষ একটু কম মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে পারছে। কেউ বলছেন, উপজেলার সবকটি বাজার ও মহল্লার দোকানপাট থেকে কেনাকাটা করতে পারছে, সেখানে হাট চালুর প্রয়োজন ছিল না। সরেজমিনে হাটের সবজি বাজার, মাছ বাজার, হাঁস-মুরগির বাজার ও পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতায় হাট গিজগিজ করছে। সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই। একজন আরেকজনের গা ঘেষে দরদাম করছেন। ৩০-৪০ শতাংশের মুখে মাস্ক নেই। যাদের মুখে মাস্ক আছে- তাদের অনেকের থুতনিতে ঝুলছে সে মাস্ক। কে কার আগে কেনাকাটা করে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে প্রতিযোগিতা চলছে। রমজান শুরু হওয়ায় মানুষজন বেশি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করেছে। পান দোকানি দিলীপ সিংহ বলেন, অনেক কাস্টমার মাস্ক পড়ে আসে না। মাস্ক পড়াকে বিরক্ত মনে করে। লকডাউনের মধ্যে বাজার ও মহল্লার দোকান খোলা থাকলেও গোয়ালীমান্দ্রা হাট বসায় সচেতন মানুষ বিস্মিত হয়েছেন। উপজেলা বি আরডিবির চেয়ারম্যান মূনীর হোসেন মোড়ল বলেন, ১০টি বাজারের সমান এক হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হয়ে থাকে। ফলে মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসাইন জানান, গোয়ালীমান্দ্রা হাট খোলার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তিনি আরও জানান, আমরা খবর পেয়ে হাটে গিয়ে মাইকিং করে মানুষজনকে মাস্ক পরতে নির্দেশ দিই এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কৃষিপণ্য বিক্রিবাট্টার জন্য কৃষকদের সুযোগ দেওয়া উচিত। তাছাড়া গরুর হাট ছাড়া হাঁস-মুরগি, ছাগলের হাট লকডাউনের আওতাভুক্ত নয়। তবে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য লোকজনকে সচেতন করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক পরার জন্য প্রতিদিন মাইকিংও করা হচ্ছে।


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *