কঠোর লকডাউনে রূপগঞ্জে মুচি সম্প্রদায়ের করুণ দশা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

বিপ্লব হাসান রুপগঞ্জ থেকে :
মহামারি করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে ১৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশে কঠোর লকডাউন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নারায়ণঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুচি সম্প্রদায়। মুচি বলা হয় যারা জুতা তৈরি এবং জুতা মেরামতের কাজ করেন। ক্রটিযুক্ত বা পুরনো জুতা সেন্ডেল মেরামত করে রং মাখিয়ে চাকচিক্য সৃষ্টি করাও এদের কাজ। এই লকডাউন পরিস্থিতিতে জীবিকার তাগিদে মুচিরা জুতা সেলাইয়ের কাজে অবস্থান করলেও আগের মত অহরহ মিলছে না কাস্টমার। এই সময়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে উপজেলার অধিকাংশ মুচি পরিবার। নিদারুণ কষ্টে কাটছে তাদের দিন। গতকাল সোমবার (১৯ এপ্রিল) তাদের অনেকেই হাতে কাজ না থাকায় মলিন মুখে বসে অলস সময় কাটাতে দেখা যায়। তবে তাদের কারো কাছেই মাস্ক ছাড়া করোনা ভাইরাসের অন্য কোন সুরক্ষা সরঞ্জাম দেখা যায়নি।
এসময় কথা হয় উপজেলার গোলাকান্দাইল সাওঘাট এলাকার মৃত বিনতের ছেলে সত্যবান (৫০) নামে এক মুচি সম্প্রদায়ের সাথে তিনি বলেন, “ ইনকাম না থাকায় পরিবার নিয়ে দুবেলা খাওয়াটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে সেখানে কীভাবে এসব সুরক্ষা সরঞ্জাম কিনে ব্যবহার করব। ইনকামের অবস্থা খুবই খারাপ। কাজ একদম কম। লকডাউনের কারণে তো আগের মতো মানুষের চলাফেরা নাই। গতকাল সারাদিনে মাত্র ৮০টাকার কাজ করছি। আজ সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেল তবুও এক টাকার কাজও করতে পারলাম না। তবে লকডাউনের আগে প্রতিদিন ৪/৫‘শ টাকার কাজ করতে পারতাম।”
তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমার বাপ-দাদার এই পেশা আমি অনেক কষ্টে ধরে রেখেছি। আমার পরিবারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে এক ছেলে। এ কাজ করে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়ে যায় তাই ছেলে-মেয়েকে কয়েক ক্লাস পড়িয়ে বিয়ে শাদী দিয়েছি। ইনকামের এই দূরবস্থা দেখে আমার ছেলে সবুজ বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে এখন রিকশা চালায়। ভাই আমাদের অবস্থা বর্তমানে খুবই করুন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাওঘাট এলাকার সুনীলের ছেলে রঞ্জন নামে আরেক মুচি বলেন, আমি সকাল থেকে মাত্র ১০ টাকার কাম করছি আর গতকাল ৩০টাকার কাম করছিলাম। বর্তমানে এমন ইনকাম দেইখা আমার ছেলে চিনিবাস (২০) আমার এই কাম করতো রাজি হয় না। সে নাকি গ্যারেজের কাম করবো। কি আর করমু। এহন স্কুল বন্ধ তাই গ্যারেজের কাম শিখাইতাছি।
মৃত সতিশের ছেলে মুচি রাজীব চন্দ্র দাস বলেন, এই লকডাউনে সারাদিন জুতা সেলাই করে যা ইনকাম হয় তাতে পরিবারের জন্য একদিনের বাজার করতে হিমশিম খেতে হয়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের গণ পরিবহন বন্ধ। সড়কেও মানুষের চলাচল তেমন নাই। সকাল থেকে বসে আছি এখনো কোন কাজ করতে পারি নাই।##


সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *